আদালত ও দলীয় রাজনীতিতে অচলাবস্থা
আসন্ন নির্বাচনে ডাকযোগে ভোট দেয়ার সুযোগ সীমিত করার ট্রাম্পের পরিকল্পনা আটকে দিয়েছে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। এ রায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে নিজের প্রথম মেয়াদে নিয়োগ দেয়া রক্ষণশীল বিচারপতিদের কঠোর সমালোচনা করেন। এছাড়া ওয়াশিংটনের কেনেডি সেন্টারের নিয়ন্ত্রণসংক্রান্ত মামলাতেও নিম্ন আদালতে হেরেছে তার প্রশাসন।
কংগ্রেসেও ট্রাম্পের কর্তৃত্ব বড় ধরনের ধাক্কা খেয়েছে। ইরান যুদ্ধ বন্ধের বাধ্যবাধকতা সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবে প্রতিনিধি পরিষদে ট্রাম্পের দল রিপাবলিকান পার্টিরই সাতজন আইনপ্রণেতা পক্ষে ভোট দিয়েছেন। অন্যদিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সম্ভাব্য অভিশংসন সংক্রান্ত অস্বস্তিকর ভোট এড়াতে স্পিকার মাইক জনসন নির্ধারিত সময়ের আগেই অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন।
ফেডের সিদ্ধান্ত ও অর্থনৈতিক টানাপোড়েন
সুদের হার উল্লেখযোগ্য হারে কমানোর জন্য ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে চাপ দিয়ে এলেও উল্টো তা বাড়িয়েছে মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ। ট্রাম্পের মনোনীত নতুন ফেড চেয়ারম্যান কেভিন ওয়ারশের অধীনে সুদের হার বাড়িয়ে ৩ দশমিক ৭৫ থেকে ৪ শতাংশের মধ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। ফেডের স্বাধীনতা বজায় রাখার এ পদক্ষেপে ক্ষোভ প্রকাশ করে ট্রাম্প দাবি করেন, দেশের অর্থনীতি ভালো থাকায় সুদের হার ১ শতাংশে থাকা উচিত।
পররাষ্ট্র ও ভূরাজনীতিতে সংকট
আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও ওয়াশিংটনের একচ্ছত্র আধিপত্য চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। ট্রাম্পের শুল্কনীতি ও হুমকির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ মিত্র কানাডা ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সহযোগী সদস্যপদ নেয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এতে ক্ষুব্ধ ট্রাম্প ইইউর ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন।
অন্যদিকে মধ্যপ্রাচ্য সংকট কাটেনি। হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করতে মার্কিন বাহিনী এখনো হিমশিম খাচ্ছে। এর মধ্যেই ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা বাব-এল-মান্দেব প্রণালির আশপাশের ভূখণ্ড নিয়ন্ত্রণে নেয়ায় বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সরবরাহ নতুন করে ঝুঁকিতে পড়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নিজের রাজনৈতিক ক্ষমতার অতিমূল্যায়ন এবং একাধিক ফ্রন্টে নেওয়া আগ্রাসী নীতির কারণেই এখন বড় ধরনের সংকটের মুখে পড়েছেন ট্রাম্প।
—সিএনএনের প্রতিবেদনে অবলম্বনে





