হাসপাতালের প্রতিটি ওয়ার্ডের বিছানা পূর্ণ হয়ে উপচে পড়া রোগীদের জায়গা হয়েছে বারান্দা আর মেঝেতেও। একের পর এক নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত শিশুকে নিয়ে দিশেহারা স্বজনরা। ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালে ৪৭ শয্যার শিশু ওয়ার্ডে বর্তমানে ভর্তি রয়েছে ১৬৯ রোগী, যার মধ্যে ১০৯ জনই নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। প্রতিদিন গড়ে জেলায় অর্থ শতাধিক শিশু হাসপাতালে আসছে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়ার উপসর্গ নিয়ে।
অসুস্থ এক শিশুর মা বলেন, ‘প্রথমে ঠান্ডা লাগছিল, কফ জমছিল বুকে। তারপরে হামজ্বর হইছে। হওয়ার পরে তারপর থেকে নিউমোনিয়া বাবুর। এখন এখানে ছয় দিন ভর্তি আছি।’
অন্য একজন বলেন, ‘ডাক্তার অনেক সময় আসে, অনেক সময় মনে করেন যে যে খোঁজাখুঁজি করতে হচ্ছে— এই একটা সমস্যা।’
আরও পড়ুন:
একদিকে শয্যা সংকট, অন্যদিকে তীব্র গরমে গাদাগাদি অবস্থা। সব মিলিয়ে হাসপাতালে আসা শিশুরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। চিকিৎসক ও নার্সরা সাধ্যমতো সেবা দেয়ার চেষ্টা করলেও অতিরিক্ত রোগীর চাপে হিমশিম অবস্থা কর্তৃপক্ষের। রোগীর বাড়তি চাপ ও আবহাওয়া পরিবর্তনের বিষয়টি স্বীকার করে চিকিৎসকরা দিচ্ছেন বিশেষ সচেতনতার পরামর্শ।
ঝিনাইদহ সদর হাসপাতালের কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বাচ্চাকে একটু নিরাপদে রাখবেন। বাইরে যার তার কোলে দেবেন না। কারণ বড়দের যেই জীবাণুতে সামান্য সর্দি-কাশি করে, সেই সেম জীবাণুতে দেখা যায় যে বাচ্চাদেরকে অ্যাকিউট ব্রঙ্কিওলাইটিস নামক যে ভাইরাসজনিত নিউমোনিয়া সেটা করে। যার ফলে বাচ্চাদেরকে যারা সর্দি-কাশিযুক্ত রোগ আছে, তাদের থেকে দূরে রাখবেন।’
জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে শিশু বিশেষজ্ঞ, সেবিকা ও স্বাস্থ্যকর্মী বাড়িয়ে পরিস্থিতি মোকাবেলার আকুতি জানান ভুক্তভোগী পরিবারগুলো।





