ইরানের ইতিহাসে যুদ্ধ ও ক্ষমতার রাজনীতি বরাবরই ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত। কেননা চার দশকেরও বেশি সময় আগে ইরাকের সঙ্গে যুদ্ধের শুরুতে একের পর এক বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল ইরান। পরে, দেশটির তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহল্লা খোমেনি বাহিনীর সিদ্ধান্তে ইরানি সেনাদের একটি আকস্মিক অভিযানে যুদ্ধের মোড় ঘুরে যায়। তবে এই যুদ্ধ চলে ছয় বছর ধরে। প্রাণ হারান কয়েক লাখ মানুষ। বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পরিস্থিতিতেও অনেকটা সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি দেখা যাচ্ছে। তবে ছয় মাসের এই সংঘাতের পর ইরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে তৈরি হয়েছে দুটি স্পষ্ট শিবির।
একদিকে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মাদ বাঘের গালিবাফ এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচির নেতৃত্বে রয়েছেন বাস্তববাদী ও মধ্যমপন্থিরা। তাদের বক্তব্য—যুদ্ধবিধ্বস্ত অর্থনীতি, অবকাঠামোর ক্ষয়ক্ষতি এবং যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে ইরানের ওপর চাপ ক্রমেই বাড়ছে। তাই এখনই শক্ত অবস্থান থেকে একটি চূড়ান্ত সমঝোতায় যাওয়া উচিত।
আরও পড়ুন:
তবে তাদের এই অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করছেন কট্টরপন্থীরা। তাদের যুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রকে বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। কেননা, ২০১৫ সালে করা পরমাণু চুক্তি বাতিল এবং শান্তি আলোচনার সময়ও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের হামলা কোনভাবেই আস্থার সম্পর্ক তৈরি করে না। শুধু তাই নয়, কট্টরপন্থীদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে নিজেদের পক্ষে নিতে মধ্যমপন্থিরা তেহরানের আর্থিক সংকটকে ইচ্ছাকৃতভাবে বাড়িয়ে দেখাচ্ছে।
ইরানি নেতৃত্বের অভ্যন্তরীণ এই দ্বন্দ্বে আরও বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প একদিকে ইরানের সঙ্গে সমঝোতার কথা বলছেন, অন্যদিকে হুমকিও দিচ্ছেন। ফলে বেড়েই চলেছে ইরানের কট্টরপন্থীদের অবিশ্বাস।
এমন পরিস্থিতিতে ইরানের যুদ্ধ এখন কেবল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত নয়। পরিণত হয়েছে দেশটির অভ্যন্তরীণ ক্ষমতার লড়াইয়েও। কেননা একপক্ষ চায় যুদ্ধের অর্জনকে কাজে লাগিয়ে এখনই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে। অন্যপক্ষের বিশ্বাস—যুক্তরাষ্ট্রকে কোনো ছাড় দিলে সেটি আরও বড় দাবির পথ খুলে দেবে। আর এই দুই পক্ষের টানাপড়েনের মধ্যেই আটকে আছে যুদ্ধের ভবিষ্যৎ।





