হরমুজ প্রণালি খুলতে আলোচনায় কাতারের উদ্যোগ, কমলো তেলের দাম

অপরিশোধিত তেলের মজুতের কাছে চলছে একটি পাম্প জ্যাক
অপরিশোধিত তেলের মজুতের কাছে চলছে একটি পাম্প জ্যাক | ছবি: রয়টার্স
0

হরমুজ প্রণালি ফের চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার জন্য কাতারের প্রধানমন্ত্রী আজ (বৃহস্পতিবার, ২৭ আগস্ট) তেহরান সফরে যাচ্ছেন এমন খবরের পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম টানা চতুর্থ দিনের মতো কমেছে। হরমুজ প্রণালিতে একটি ট্যাংকারে হামলার নতুন খবর থাকা সত্ত্বেও দাম কমেছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। ওয়েল প্রাইস ও আশ-শারক আল-আওসাতের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেল ব্যারেলপ্রতি ৮৭.৪৬ ডলারে লেনদেন হচ্ছিল। আর ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ছিল ব্যারেলপ্রতি ৮১.৮৩ ডলার।

এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেছেন, কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান বিন জাসিম আল-থানির তেহরান সফরে মধ্যস্থতার ভূমিকা অব্যাহত রাখা এবং হরমুজ প্রণালি ঘিরে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হবে। এর বাইরে সফর নিয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করা হয়নি বলে প্রতিবেদনে বলা হয়।

রয়টার্স আরও জানায়, কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এক্সে বলেছেন, আলোচনায় হরমুজ প্রণালিতে অবাধ নৌচলাচল, প্রণালি পুনরায় খোলার সম্ভাবনা এবং ‘উত্তেজনা কমিয়ে সংলাপের অনুকূল পরিবেশ তৈরির’ উপায় নিয়ে কথা হবে।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রকাশ্য সামরিক সংঘাত কমে এলেও ওয়াশিংটন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ানোর পথে হাঁটছে। ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলতে বাধ্য করতে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল খাতসহ অর্থনীতির কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ খাতে নতুন নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালিতে ৪৫টি ট্যাংকারের একটি কালোতালিকা দিয়েছে। ইরানের দাবি, চলতি বছর নৌচলাচলের যে নিয়ম তারা করেছে, তা ভাঙলে ওই ট্যাংকারগুলো লক্ষ্যবস্তু হতে পারে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শান্তি আলোচনা নিয়ে পাকিস্তানি সূত্রে অগ্রগতির খবর এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ে ইরান-ওমানের যৌথ ব্যবস্থাপনা আলোচনা—এসব কারণে তেলবাজারে কিছুটা আশাবাদ তৈরি হয়েছে। তবে আইএনজি কমোডিটি বিশ্লেষকেরা বৃহস্পতিবার এক নোটে বলেন, ‘এই দুই পক্ষের মধ্যে কোনো চুক্তি হলেই গুরুত্বপূর্ণ এই সংকীর্ণ পথে তেল প্রবাহ স্বাভাবিক হয়ে যাবে—এমনটা দেখা যাবে না।’ তারা বলেন, ‘স্বাভাবিক অবস্থার দিকে যেতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বন্দরগুলোতে আরোপ করা অবরোধ তুলে নিতে হবে এবং ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হবে।’

এএম