গত জুলাইয়ে এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিল দুই পক্ষ। এতে মার্কিন কোম্পানিগুলোকে সৌদি আরবে অসামরিক পারমাণবিক প্রযুক্তি রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার কথা রয়েছে। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তা বলেন, চুক্তিটি সোমবার কংগ্রেসে পাঠানো হয়েছে। সৌদি আরবের ওয়াশিংটন দূতাবাস এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
ট্রাম্প কীভাবে এই চুক্তি কংগ্রেসে পাঠানোর মধ্য দিয়ে তার লক্ষ্য অর্জন করতে চান, তা স্পষ্ট নয়। কংগ্রেসের এ বিষয়ে বিবেচনার জন্য ৯০ কার্যদিবস সময় আছে।
মার্কিন কর্মকর্তা এক ইমেইলে বলেন, ‘সৌদি আরব যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেয়, তবেই এই চুক্তি কার্যকর হবে—এ বিষয়ে প্রেসিডেন্টের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে।’
২০২০ ও ২০২১ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদানের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের মধ্যস্থতা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। এসব চুক্তিই আব্রাহাম অ্যাকর্ডস নামে পরিচিত।
জুলাইয়ে সৌদি আরবের সঙ্গে পারমাণবিক চুক্তিতে সম্মত হওয়ার কয়েকদিন পর ট্রাম্প—যিনি তার প্রথম মেয়াদেও একই ধরনের চুক্তি নিয়ে কাজ করেছিলেন চুক্তিটি কার্যকরের শর্ত হিসেবে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণকে নির্ধারণ করেন।
সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনও এই পারমাণবিক চুক্তি চেয়েছিলেন এবং তা আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের সঙ্গে যুক্ত করতে চেয়েছিলেন। কূটনীতিকরা মনে করেছিলেন, ২০২৩ সালে ইসরাইলের সঙ্গে সৌদি আরবের সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণের ব্যাপারটি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। কিন্তু ২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি পাল্টে যায়।
সৌদি আরব ইসরাইলকে স্বীকৃতি দেওয়ার আগে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার একটি অপরিবর্তনীয় পথের দাবি জানিয়ে আসছে।
এই ৩০ বছরের পারমাণবিক চুক্তিতে এপি১০০০ রিঅ্যাক্টর নির্মাণের কথা রয়েছে। এটি কয়েক দশ বিলিয়ন ডলারের একটি প্রকল্প, যার সুবিধা পাবে ওয়েস্টিংহাউস—যৌথ মালিকানাধীন কানাডার ক্যামেকো ও ব্রুকফিল্ড অ্যাসেট ম্যানেজমেন্টের।
কংগ্রেসের দুই সূত্র জানিয়েছে, চুক্তিটি কংগ্রেসের নেতৃত্বের কাছে পাঠানো হয়েছে এবং বুধবার কমিটিগুলোতে হস্তান্তর করা হতে পারে। ৯০ কার্যদিবসের মধ্যে কংগ্রেস যদি আপত্তি না জানায়, তাহলে চুক্তিটি কার্যকর হবে। কংগ্রেস চুক্তিটি প্রত্যাখ্যান করলে ট্রাম্প সে সিদ্ধান্তে ভেটো দিতে পারেন। সেক্ষেত্রে কংগ্রেসের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় ভেটো অগ্রাহ্য করতে হবে।
কংগ্রেসের কিছু ডেমোক্র্যাট সদস্য ও পারমাণবিক অপ্রসারণবাদী সংগঠনগুলো এই চুক্তির সমালোচনা করেছে। তাদের বক্তব্য, চুক্তিটি সৌদি আরবকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বা পারমাণবিক বর্জ্য পুনঃপ্রক্রিয়াজাতকরণ—যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির দুই সম্ভাব্য পথ—থেকে বিরত রাখছে না। ২০০৯ সালে ওয়াশিংটনের সঙ্গে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অসামরিক পারমাণবিক চুক্তিতে এই বিধানগুলো ছিল, যা ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’ নামে পরিচিত। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় অপ্রসরণ ব্যবস্থা এই চুক্তিতে আছে।
ননপ্রোলিফারেশন পলিসি এডুকেশন সেন্টারের প্রধান হেনরি সোকলস্কি বলেন, প্রক্রিয়াটি শুরু করে ট্রাম্প সম্ভাবনা তৈরি করেছেন যে কংগ্রেস স্বাভাবিকীকরণ ও অপ্রসরণ সংক্রান্ত শর্ত ছাড়াই চুক্তিটি এগিয়ে যেতে দিতে পারে। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ না করা ও ইসরাইলের স্বীকৃতির বিষয়ে গুরুতর হন, তাহলে এটি মোটেও আদর্শ নয়।’





