মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে সব দেশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বললো ইরান

ইসমাইল বাঘাই
ইসমাইল বাঘাই | ছবি: সংগৃহীত
0

ইরানের ওপর নতুন করে চাপানো মার্কিন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে বিশ্বের সব স্বাধীন দেশের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলে অভিহিত করেছে তেহরান। আজ (শনিবার, ২২ আগস্ট) জাতিসংঘের সদস্যরাষ্ট্রগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্রের একতরফা এখতিয়ার চাপিয়ে দেয়ার চেষ্টার তীব্র সমালোচনা করে এ মন্তব্য করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তুর্কিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইতিহাসের ‘সবচেয়ে ধ্বংসাত্মক অর্থনৈতিক অভিযান’ চালানোর ঘোষণার পরই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কড়া প্রতিক্রিয়া এল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ দেয়া এক পোস্টে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বলেন, এই নতুন পদক্ষেপ কেবল একটি দেশের বিরুদ্ধে অবৈধ অর্থনৈতিক যুদ্ধের অংশ নয়, বরং অন্য স্বাধীন দেশগুলোর সার্বভৌমত্বের ওপরও হস্তক্ষেপ।

ইসমাইল বাঘাই যুক্তি দেখান, জাতিসংঘ সনদের অনুচ্ছেদ ২ অনুযায়ী কোনো স্বাধীন দেশের সরকার বা তাদের অধীনে থাকা কোনো ব্যাংক, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান কিংবা বিমানবন্দরকে অন্য একটি রাষ্ট্রের আইন চাপিয়ে দিয়ে স্বাভাবিক বাণিজ্য বন্ধ করতে বাধ্য করা যায় না। আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের রায়ের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এমন পদক্ষেপ জাতিসংঘ ব্যবস্থার সার্বিক নীতিকে ধসিয়ে দেবে এবং বিশ্বকে আবার ‘ঔপনিবেশিক শাসনের’ দিকে ফিরিয়ে নেবে।

অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক পৃথক বিবৃতিতে বলেন, ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘোষিত নতুন অর্থনৈতিক লড়াইও আগের চাপ প্রয়োগের অভিযানগুলোর মতোই ‘ব্যর্থ হতে বাধ্য’।

আরাঘচি তার এক বার্তায় লেখেন, ১৪ বছর আগে যুক্তরাষ্ট্র ‘ইতিহাসের সবচেয়ে পঙ্গু করে দেওয়া নিষেধাজ্ঞা’ দিয়েছিল, তা ব্যর্থ হয়েছে। আট বছর আগে ‘সর্বোচ্চ চাপ’ দিয়েছিল, তাও ব্যর্থ হয়েছে। এবারও ট্রাম্পের নজিরবিহীন অর্থনৈতিক হুমকি একইভাবে ব্যর্থ হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প তার এই প্রচারণাকে ‘ইকোনমিক ডি-ডে’ বলে অভিহিত করে মার্কিন মিত্রদের ইরানের সঙ্গে ব্যাংকিং, বাণিজ্য ও বিমান যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করার তাগিদ দিয়েছেন।

এএম