দেশের শুটিংয়ে একাধিক স্বর্ণপদক। নারী শুটারদের মধ্যে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও অন্যতম সফল মুখ। তবে এরপরেও কামরুন্নাহার কলি নিজের প্রিয় রাইফেলই ছুঁয়ে দেখতে পারলেন না গত এক বছর ধরে। ধার করা রাইফেলে টিকেট মেলেনি এশিয়ান গেমসের জন্য। সতীর্থরা যখন জাপানের বিমানে চড়ার অপেক্ষায়, তখন কলির কণ্ঠে একরাশ হতাশা।
কামরুন নাহার কলি বলেন, ‘বিগত এক বছর ধরেই খেলাধুলার সঙ্গে একেবারেই থাকতে পারিনি। কারণ আমি নারীদের সতর্কতা এবং নানা অনিয়ম নিয়ে অভিযোগ করেছিলাম বিগত কমিটির এগেইনস্টে। আসলে এই অভিযোগটাই বলবো যে আমার ক্যারিয়ার ধ্বংসের মূল কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবশেষ অব্দি আমার যে ক্লাব ছিল—বাংলাদেশ নৌবাহিনী, সেখান থেকেও তারা আমার কন্টাক্ট কাটিয়েছে এবং আমি যে আর্মসটা দিয়ে চার বছর যাবত খেলছি, এতগুলো গোল্ড মেডেল পেয়েছি, সে আর্মসটাও আমার থেকে নিয়ে নেয়া হয়েছে।’
এশিয়ান গেমসের দল থেকে বাদ পড়ায় প্রশ্ন উঠেছে সিলেকশন প্রক্রিয়া নিয়েই। কলির অভিযোগ, কম স্কোর করেও কেউ কেউ সুযোগ পেয়েছেন।
আরও পড়ুন:
কামরুন নাহার কলি বলেন, ‘যখন নাকি এশিয়ান গেমসের জন্য টিম সিলেক্ট করা হলো, তখনই বলব খুবই অসচ্ছভাবে টিমটা সিলেক্ট করা হয়েছিল। নিজেদের শুটারদের মাঝে একটা সিলেকশন দিয়ে তারা সিলেকশন করলো। এশিয়ান গেমসের জন্য সিলেক্ট হওয়া শুটাররা কিন্তু আমাদের থেকে কম স্কোর করেছেন। দুঃখের জায়গা এটাই যে বাংলাদেশ এখনও প্রপারলি সিলেক্ট করতে পারছে না নিজেদের অ্যাথলেটদেরকে।’
তবে বাংলাদেশ শুটিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক সাকিল শামীম বলেছেন, পারফরম্যান্স নয়; প্রশাসনিক জটিলতা ও কিছু দুর্ভাগ্যই কলির এশিয়ান গেমসে না খেলার মূল কারণ।
সাকিফ শামীম বলেন, ‘কলির যে ব্যাপারটা, সেটা আমরা তো আসলে অনেক চেষ্টা করেছি এবং আমরা সিলেকশনও করেছি। কলির আসলে সেট সত্যি কথা গত কমিটি তার সঙ্গে আসলেই অনেক ইনজাস্টিস বিহেভিয়ার্স করেছিল। যে কারণে আসলে ওর পারফরম্যান্স এবং ওর যে ভাতা, ওর মোটিভেশন সবকিছুই নষ্ট হয়ে গিয়েছিল।’
এশিয়ান গেমসের মঞ্চে না থাকলেও শেষ হয়ে যাচ্ছে না কলির লড়াই। মিসরের কায়রোতে বিশ্ব চ্যাম্পিয়নশিপে আবারও বাংলাদেশের হয়ে নিশানা ধরার সুযোগ আছে তার। অক্টোবরে সে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বাংলাদেশের পতাকা উঁচিয়ে ধরার লড়াই আপাতত কামরুন্নাহার কলির জন্য।




