গত সোমবার ডেমোক্রেটিক সিনেটর জন অসফ রসিকতা করে বলেন, ‘৮০ বছর বয়সী মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার নির্বাহী সহকারী ৩৫ বছর বয়সী ন্যাটালি হার্পের সঙ্গে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের কারণে রাষ্ট্রীয় কাজে মনোযোগ দিতে পারছেন না।’ হার্পের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা নিয়ে বেশ কিছুদিন ধরে গুঞ্জন চললেও এর কোনো ভিত্তি পাওয়া যায়নি।
জর্জিয়ার সিনেটর অসফ গত রোববার এক বক্তৃতায় বলেন, প্রেসিডেন্ট ‘কাজ করতে চান না’। তিনি কেবল ‘তার বলরুম তৈরি করতে চান এবং কাতারের আমিরের উপহার দেয়া আকাশযান নিয়ে ন্যাটালির সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে চান’।
এই মন্তব্যের পর ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ক্ষোভে ফেটে পড়েন। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল সিনেটর অসফকে তীব্র আক্রমণ করে বলেন, ‘তিনি বারাক ওবামার মতো সাজার চেষ্টা করছেন।’ ইঙ্গল আরও বলেন, ‘ন্যাটালি হার্প প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দলের সবচেয়ে বিশ্বস্ত ও কঠোর পরিশ্রমী কর্মীদের একজন। এই গুরুত্বহীন পরাজিত ব্যক্তি কী বলল, তাতে কারও কিছু যায় আসে না।’
হোয়াইট হাউসের যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চ্যাং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ এক পোস্টে অসফকে ‘রাজনীতির সবচেয়ে বড় ব্যর্থ ব্যক্তি’ বলে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, দেশের জন্য কাজ করা পরিশ্রমী মানুষদের অপমান না করে জনের নিজের দিকে তাকানো উচিত। তিনি একজন চরমপন্থি ডেমোক্র্যাট।
গত সোমবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজে এই বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে তিনি অসফকে কমেডি চরিত্র ‘পি-উই হারম্যান’-এর মতো দেখতে বলে উপহাস করেন।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম ‘সেমাফোর’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, হোয়াইট হাউসের ঘনিষ্ঠ এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প এই ধরনের গুঞ্জন পছন্দ করেন না বলেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে এত জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। ওই সূত্র আরও জানায়, ট্রাম্প নিজের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে জনসমক্ষে গুঞ্জন ছড়ালে অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হন।
উগ্র ডানপন্থি সংবাদমাধ্যম ‘ওয়ান আমেরিকা নিউজ নেটওয়ার্ক’-এর সাবেক উপস্থাপক ন্যাটালি হার্প গত কয়েক বছর ধরে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলে রয়েছেন। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তাকে ট্রাম্পের সঙ্গে অনেক বেশি দেখা গেছে। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারের সময় ট্রাম্পের পছন্দের খবরগুলো তাৎক্ষণিকভাবে প্রিন্ট করে দেয়ার জন্য তিনি ‘হিউম্যান প্রিন্টার’ বা ‘মানব প্রিন্টার’ নামে পরিচিতি পান। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শুরু হওয়ার পর তাকে প্রেসিডেন্টের নির্বাহী সহকারী হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়।
সংবাদমাধ্যম ‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’ এর আগে এক প্রতিবেদনে দাবি করেছিল, ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ মহলের অনেকে আশঙ্কা করছেন যে হার্পের কারণে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে প্রেসিডেন্টের দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত হতে পারে। সূত্র দাবি করেছে, হার্প প্রায়ই ট্রাম্পের সামনে ষড়যন্ত্রমূলক খবরের উৎস থেকে তথ্য পরিবেশন করেন এবং ট্রাম্পের প্রশংসা করা খবরগুলো বেশি তুলে ধরেন।
‘নিউ ইয়র্ক টাইমস’-এর দুই সাংবাদিক ম্যাগি হ্যাবারম্যান ও জোনাথন সোয়ানের লেখা এবং গত জুনে প্রকাশিত ‘রেজিম চেঞ্জ’ বইয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের প্রচারণার সময় হার্প ট্রাম্পকে অত্যন্ত আবেগপূর্ণ চিঠি লিখেছিলেন। বইটির তথ্য অনুযায়ী, একটি চিঠিতে হার্প লিখেছিলেন, ‘আমার কাছে আপনিই একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয়’ এবং ট্রাম্পকে তার ‘জীবনের গার্ডিয়ান ও রক্ষাকর্তা’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। আরেকটি চিঠিতে তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে ‘কাজের বাইরে সব বিষয়ে কথা বলার সেই পুরোনো বোঝাপড়ায়’ ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।
এই সম্পর্কের গুঞ্জন নিয়ে ন্যাটালি হার্প নিজে কোনো মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউস ও মেলানিয়া ট্রাম্পের কার্যালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাদের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।





