প্রধানমন্ত্রীর সফরে ফেনীবাসী যা যা পেলেন

ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
ফেনীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান | ছবি: এখন টিভি
0

দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফেনী সফরে এসে জেলার উন্নয়ন, কৃষি, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও সামাজিক সুরক্ষায় একগুচ্ছ কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন। আজ (বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর) তারেক রহমান তার মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার এলাকায় দিনব্যাপী এ সফর করেন।

এ সফরের সবচেয়ে বড় উদ্যোগ ১ হাজার ৫৪২ কোটি ১৬ লাখ টাকার মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)। সফরে রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ, ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড বিতরণ এবং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের সম্মানী প্রদান কার্যক্রমও চালু হয়েছে।

পরশুরামের ঘাটঘর-মুহুরী ব্রিজ এলাকায় মুহুরী নদীর তীরে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। প্রকল্পের আওতায় ৬৭ দশমিক ৯২ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ পুনর্বাসন, ১১ দশমিক ৭৩ কিলোমিটার নদীতীর সংরক্ষণ এবং ৮৩ দশমিক ৫০ কিলোমিটার নদী ও জলাধার পুনঃখনন করা হবে। পাশাপাশি ২৭টি সেচ অবকাঠামো পুনর্বাসন ও ৭৭টি ইনলেট নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে। প্রকল্পটি ২০৩০ সালের মধ্যে শেষ করার সম্ভাব্য সময় নির্ধারণ করা হয়েছে।

দীর্ঘদিনের বন্যা, নদীভাঙন ও জলাবদ্ধতার সঙ্গে লড়াই করা ফেনীর পরশুরাম-ফুলগাজীসহ আশপাশের এলাকার মানুষের জন্য এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যার পর মুহুরী-কহুয়া নদী ও বাঁধ ব্যবস্থাপনার স্থায়ী সমাধানের দাবি আরও জোরালো হয়েছিলো। প্রকল্পের কাজ শেষ হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পানি নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থায় কী ধরনের বাস্তব পরিবর্তন আসে, এখন সেদিকেই নজর স্থানীয়দের।

জাতীয় গ্রিডে যাবে ফেনীর সৌরবিদ্যুৎ:

প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি উল্লেখযোগ্য কর্মসূচি ছিলো সরকারি ভবনের ছাদে স্থাপিত রুফটপ সোলার থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ। ফুলগাজী জেলা পরিষদ ডাকবাংলোয় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন তিনি।

ফেনীর ফুলগাজী, পরশুরাম ও ছাগলনাইয়া উপজেলার সরকারি ভবনে মোট ৯৬২ দশমিক ৫ কিলোওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে ছাগলনাইয়ায় ৪১৫, পরশুরামে ২৯৮ এবং ফুলগাজীতে ২৪৯ কিলোওয়াট সক্ষমতার সোলার সিস্টেম রয়েছে।

ফেনীর ৭ হাজার ৬৪৩ কৃষক পাবেন কৃষক কার্ড:

ফুলগাজী সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠের অনুষ্ঠানে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচিও শুরু হয়। ফেনী জেলার ৭ হাজার ৬৪৩ জন কৃষক কৃষক কার্ডের আওতায় আসছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জাতীয় পর্যায়ে ৪৩ লাখ কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাইলট পর্যায়ের প্রথম ধাপে ১ লাখ ১০ হাজার ১৬৫ জন কৃষককে কার্ডের আওতায় নেয়া হচ্ছে।

কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সরকারি সহায়তা, কৃষি উপকরণ, প্রণোদনা ও ঋণ সুবিধা আরও সহজে পৌঁছে দেয়ার কাঠামো তৈরি করা হচ্ছে। ফেনীর কৃষকদের জন্য কার্ডের বাস্তব সুবিধা কীভাবে পৌঁছাবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

ফ্যামিলি কার্ড পেলেন ৫১০ পরিবার:

ফুলগাজীতে ৫১০ জনকে ফ্যামিলি কার্ড দেয়ার কর্মসূচি ছিলো প্রধানমন্ত্রীর সফরের আরেকটি অংশ। নিম্নআয়ের পরিবারের নারীদের সামাজিক সুরক্ষা ও আর্থিক সহায়তার আওতায় আনার লক্ষ্যেই এই কর্মসূচি। জাতীয় পর্যায়েও এ কর্মসূচি সম্প্রসারণের কথা জানানো হয়েছে।

সম্মানী পেলেন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা:

একই অনুষ্ঠানে ফুলগাজীর ২৩৮ জন ইমাম, মুয়াজ্জিন, খাদেম ও পুরোহিতকে সম্মানী দেয়ার কর্মসূচি রাখা হয়। এর মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয়ে কর্মরত ব্যক্তিদের জন্য সরকারি সহায়তার কার্যক্রমও সামনে আসে।

সামনে আরও কী?

প্রধানমন্ত্রীর ফেনী সফরে তাৎক্ষণিকভাবে উদ্বোধন ও বিতরণ করা কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষক কার্ডের পরিধি বাড়ানো এবং জাতীয় পর্যায়ে ফ্যামিলি কার্ড সম্প্রসারণের পরিকল্পনার কথাও এসেছে।

কৃষিমন্ত্রী জানান, চলতি বছর ৪৩ লাখ কৃষকের ডাটাবেজ তৈরির উদ্যোগ নেয়া হয়েছে এবং ধাপে ধাপে তাদের কৃষক কার্ডের আওতায় আনা হবে।

সব মিলিয়ে ফেনীর এক দিনের সফরে বন্যা নিয়ন্ত্রণ থেকে কৃষি, সৌরবিদ্যুৎ থেকে সামাজিক সুরক্ষা-বিভিন্ন খাতে একাধিক উদ্যোগ সামনে এসেছে। তবে ফেনীবাসীর কাছে এসব উদ্যোগের সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা বাস্তবায়নে-১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্পটি সময়মতো ও কার্যকরভাবে শেষ হবে কি না, কৃষক ও পরিবার কার্ডের সুবিধা প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাবে কি না, আর সৌরবিদ্যুতের উদ্যোগ কতটা বিস্তৃত হবে-তার ওপরই নির্ভর করবে এ সফরের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব।

এসএইচ