আরাঘচি বলেন, কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীরা বার্তা বিনিময় ও ইরানের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। তবে ‘এর অর্থ এই নয় যে আলোচনা চলছে।’ পাকিস্তানে গত জুনে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের পরও নতুন করে সহিংসতা শুরু হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে তিনি বলেন, সংঘাত থেকে বেরিয়ে আসার নতুন পথ নির্ধারণ করা প্রয়োজন।
তিনি জানান, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের নতুন পথ প্রতিষ্ঠায় কারিগরি প্রক্রিয়ায় ওমানের সঙ্গে পৃথকভাবে কাজ করছে ইরান। তবে যেকোনো জাহাজের চলাচল একটি রাজনৈতিক সমাধানে পৌঁছানোর ওপর নির্ভর করছে। মন্ত্রী বলেন, ‘আগের যে পথগুলো ছিল, সেগুলো আর কার্যকর নয়। নতুন পথ নির্ধারণ করতে হবে। আমরা এখন একটি সাময়িক পথের নকশা করছি, যা পরবর্তী ধাপগুলোতে চূড়ান্ত পথে পরিণত হবে।’
আরাঘচি আরও বলেন, ‘হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হবে কি না, তা নির্ভর করছে যুক্তরাষ্ট্রকে যেসব শর্ত মেনে চলতে হবে সেগুলো পূরণের ওপর।’
আরাঘচির এই মন্তব্য এমন এক দিনে এসেছে, যেদিন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, ‘ইরানকে হারানোর কাজ শেষ করার পর আমি হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা করব।’ এর জবাবে ইরানের আইন ও আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি এক্সে লিখেছেন, ‘হরমুজ প্রণালি ইরানের ছিল, ইরানের আছে এবং ইরানেরই থাকবে।’
দুই পক্ষের এই বাগাড়ম্বরের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলছেই। শুক্রবার আরব আমিরাতের আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানি (এডনক) জানিয়েছে, তাদের একটি জাহাজ হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার সময় হামলার শিকার হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে এমন ধারাবাহিক হামলার এটি সর্বশেষ ঘটনা।
অর্থনৈতিক চাপের দিকে ঝুঁকছে যুক্তরাষ্ট্র
ছয় মাস ধরে চলা লড়াইয়েও ইরানের নেতৃত্ব উৎখাত বা হরমুজ প্রণালি খুলে দেয়ার ওয়াশিংটন ও ইসরাইলের লক্ষ্য পূরণ হয়নি। এখন তাই যুক্তরাষ্ট্র নিজেদের লক্ষ্য পূরণে অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, ইরানের ওপর চাপ প্রয়োগে যুক্তরাষ্ট্র শিগগিরই নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ নেবে। নিউজম্যাক্সকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি এমন এক অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতার সমন্বয় হবে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি এবং এর সঙ্গে থাকবে হরমুজ প্রণালিতে অব্যাহত অবরোধ; যা ইরানি বন্দর দিয়ে কোনো কিছুই আসা-যাওয়া করতে দেবে না।’
গত আগস্টে যুক্তরাষ্ট্র মুদ্রা বিনিময় প্রতিষ্ঠান ও ‘শেল কোম্পানির’ একটি নেটওয়ার্ক ভেঙে দেয়ার জন্য পদক্ষেপ ঘোষণা করে। তাদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক আর্থিক ব্যবস্থার মধ্য দিয়ে গোপনে কয়েক শ কোটি ডলার সরানোর ক্ষেত্রে ইরানকে এই নেটওয়ার্ক সাহায্য করেছিল। ওই নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার সময় বেসেন্ট বলেছিলেন, ‘ইরানের ছায়া ব্যাংকিং ব্যবস্থা অর্থনৈতিক ক্রোধের নিচে ভেঙে পড়ছে এবং সরকার অর্থ সরানোর উপায়গুলো একে একে হারাচ্ছে।’
এই কৌশল নতুন কিছু নয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর থেকেই যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য দেশের ক্রমশ কঠোর হওয়া অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছে ইরান। অর্থনৈতিক সংকট দেশটিকে বারবার অস্থিতিশীল করে বিক্ষোভের দিকে ঠেলে দিয়েছে। তবে কোনোটিই অর্থবহ শাসন পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।
মার্কিন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও হোয়াইট হাউসের সাবেক মধ্যপ্রাচ্য নীতি উপদেষ্টা মার্ক গিনসবার্গ আল জাজিরাকে বলেন, যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই সর্বোচ্চ চাপের কৌশল ব্যবহার করে এসেছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি আলাদা এবং এই অচলাবস্থার সমাধানে হোয়াইট হাউসের সুস্পষ্ট কোনো কৌশল নেই। তিনি বলেন, ‘এটি একধরনের অর্থনৈতিক “চিকেন গেম”। দুই পক্ষের মধ্যে কে সংঘর্ষের আগে রাস্তার পাশ দিয়ে সরে দাঁড়াবে? আমি মনে করি, শেষ পর্যন্ত ইরান সরকারের আগে প্রশাসনই নতি স্বীকার করবে।’





