যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়ার মহড়ায় ক্ষুব্ধ উত্তর কোরিয়া; পাল্টা হুঁশিয়ারি

দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছরের উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় অংশ নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি যান
দক্ষিণ কোরিয়ায় গত বছরের উলচি ফ্রিডম শিল্ড মহড়ায় অংশ নেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীর একটি যান | ছবি: সংগৃহীত
0

আগামী সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়ার শুরু হতে যাওয়া বড় ধরনের সামরিক মহড়ার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে উত্তর কোরিয়া। এই মহড়াকে ‘উস্কানিমূলক’ ও কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছে পিয়ংইয়ং। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

উত্তর কোরিয়ার সরকারি বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সির (কেসিএনএ) বরাত দিয়ে জানা গেছে, শুক্রবার দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র-জাপান-দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক সহযোগিতা এখন পারমাণবিক জোটে পরিণত হচ্ছে এবং হুমকির এই নতুন মাত্রার জবাব পিয়ংইয়ং প্রতিরোধেরও নতুন মাত্রা দিয়েই দেবে।

দক্ষিণে সামরিক মহড়ার বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়া বরাবরই কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আসছে। ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ নামের এই মহড়া আগামী ১৭ আগস্ট শুরু হয়ে চলবে ২৭ আগস্ট পর্যন্ত। উত্তর কোরিয়ার ক্রমবর্ধমান সক্ষমতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা এই মহড়ায় ড্রোন প্রতিরোধ, জিপিএস বিভ্রাট মোকাবিলা ও সাইবার হামলা ঠেকানোর মহড়া চালাবে।

কেসিএনএ-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই মুখপাত্র বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র ঘোষণা দিয়েছে যে আসন্ন এই মহড়া গত পাঁচ বছরের মহড়াগুলোর চেয়ে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আধুনিক যুদ্ধের নতুন দিকগুলোর ভিত্তিতে যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা রপ্ত করাই এই মহড়ার উদ্দেশ্য।’ বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ‘হুমকির নতুন মাত্রার জবাব প্রতিরোধের নতুন মাত্রা দিয়ে দেয়াই আমাদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের ধারাবাহিক নীতি।’

রুশ-ইউক্রেন যুদ্ধের অভিজ্ঞতা
ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে রাশিয়ার পক্ষে লড়াই করতে আনুমানিক ১২ থেকে ১৫ হাজার সেনা পাঠিয়েছিল উত্তর কোরিয়া। এখন দেশটি আরও ১০ হাজার সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ওই যুদ্ধে হাজার হাজার সেনা নিহত হলেও এই চুক্তির মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া রণাঙ্গনে যুদ্ধের মূল্যবান অভিজ্ঞতা এবং অস্ত্র, জ্বালানি ও সরাসরি আর্থিক সহায়তা পেয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র-দক্ষিণ কোরিয়া কম্বাইন্ড ফোর্সেস কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল রায়ান ডোনাল্ড এই সপ্তাহে বলেছেন, ইউরোপের এই যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সেনা মোতায়েন কোরীয় উপদ্বীপে তার সেনারা যে হুমকির মুখোমুখি হতে পারে তার ধরন বদলে দিয়েছে। সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘সেখানে তারা যেসব শিক্ষা পেয়েছে, সেগুলো নিয়ে তারা উত্তর কোরিয়ায় ফিরেছে। আমাদের প্রশিক্ষণ সেই হুমকির কথা বিবেচনায় নিয়েই সাজানো হয়েছে।’

উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যখন ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে সামরিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি দিন দিন আরও গুরুতর হয়ে উঠছে, ঠিক সেই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়া এই মহড়া চালাচ্ছে।’

শুক্রবার উত্তর কোরিয়া আরও জানিয়েছে, তারা তাদের পারমাণবিক প্রতিরোধ ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করবে। যুক্তরাষ্ট্র পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের সীমা কমিয়ে বিশ্বকে ‘পারমাণবিক যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ঠেলে দিচ্ছে’ বলেও অভিযোগ করেছে দেশটি।

গত বুধবার উত্তর কোরিয়া কোরীয় উপদ্বীপের পূর্ব উপকূলের সমুদ্রে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। এর মাত্র ছয় দিন আগেই তারা আরেকটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল। ‘আলচি ফ্রিডম শিল্ড’ মহড়ায় দক্ষিণ কোরিয়ার ১৮ হাজার সেনার পাশাপাশি দেশটিতে মোতায়েন ২৮ হাজার ৫০০ সদস্যের মার্কিন বাহিনী থেকেও সৈন্যরা অংশ নেবেন।

এএম