সম্মেলনের জন্যই সম্মেলন নাকি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব থেকে বের হয়ে বিশ্বজুড়ে চলমান সংকটের সমাধান সূত্র বের করা- এমনই এক প্রশ্ন সামনে রেখে চলছে ভারতের নয়াদিল্লিতে ১৮তম ব্রিকস সম্মেলন। জোটের ১১ সদস্য অর্থাৎ বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর রাষ্ট্রপ্রধান, সহযোগী দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি ছাড়াও কয়েক হাজার উচ্চপদস্থ কূটনীতিক, উপদেষ্টা ও ব্যবসায়ীর পদ চারণায় মুখর মণ্ডপম কমপ্লেক্স।
সম্মেলনের দ্বিতীয় ও সমাপনী দিনে রোববার স্থানীয় সময় সকাল থেকেই আয়োজক দেশ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ মূল ভেন্যুতে আসতে শুরু করেন জোটের অন্যান্য সদস্যরাষ্ট্রের সরকার প্রধান এবং আমন্ত্রিত রাষ্ট্রীয় অতিথিরা। অভ্যর্থনা পর্ব শেষে তোলা হয় আইকনিক গ্রুপ ছবি। এর পরপরই শুরু হয় সম্মেলনের মূল আকর্ষণ, ওপেন প্লেনারি সেশন।
এতে, বৈশ্বিক বাণিজ্য কাঠামো, কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে টেকসই উৎপাদন ব্যবস্থা এবং প্রযুক্তিগত সহযোগিতার বিষয়ে আলোচনা হয়। এর আগে সম্মিলিত বৈঠকে শুধু পূর্ণাঙ্গ সদস্য রাষ্ট্রের সরকার প্রধানরা অংশ নিলেও ওপেন সেশনে অংশ নেন জোটের সহযোগী দেশের প্রতিনিধি, আমন্ত্রিত অতিথি ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তারাও।
স্বাগত ভাষণে নতুন বিশ্ব ব্যবস্থার রূপরেখা নিয়ে আশার কথা শুনিয়েছেন নরেন্দ্র মোদি। ইরান যুদ্ধের জেরে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি অস্থিরতা আর পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক ভারসাম্য রক্ষায় জোটের সদস্যদের ওপরই পূর্ণ আস্থা রাখছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
আর বিশ্বনেতাদের মনোযোগের কেন্দ্রে শুল্কযুদ্ধ, সন্ত্রাসবাদ, মধ্যপ্রাচ্য সংকট ছাড়াও পশ্চিম এশিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণ। সমাপনী দিনেই সামিটের মূল পর্ব রাখা হলেও সম্মেলনের প্রথম দিনেই সাইডলাইনে চীনের শি জিনপিং, রাশিয়ার ভ্লাদিমির পুতিন, ইরানের মাসুদ পেজেশকিয়ান, মালয়েশিয়ার আনোয়ার ইব্রাহিম, আবুধাবির জায়েদ আল নাহিয়ান, ভিয়েতনামের লে মিন হুং ছাড়াও জাতিসংঘের বিদায়ী মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক সেরে ফেলেছেন মোদি। তাই সম্মেলনের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওই সাইডলাইন বৈঠকগুলো।
শনিবারের হাই ভোল্টেজ বৈঠকগুলো থেকে যে সব বিষয়ে স্পষ্ট বার্তা পাওয়া গেছে তারমধ্যে সবার ওপরেই থাকবে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা। এ নিয়ে যৌথ বিবৃতিও এসেছে চীন, রাশিয়া, ইরান ও ভারতসহ ১১ সদস্য রাষ্ট্রের তরফ থেকে। আর এসব কারণে সাম্প্রতিক সংঘাতে তেতো হয়ে যাওয়া ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সম্পর্ক কিছুটা স্বাভাবিক করতে মধ্যস্থতার ভূমিকায় অবতীর্ণ ভারত। সম্মেলন থেকে কোনো বার্তা না এলেও মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী নীরব ছিলেন না, এনডিটিভিকে সরাসরি বলছেন, ইরানের সঙ্গে সংঘাতের উৎস স্বীকার করতে অনেকে দেশের মধ্যে এক ধরনের অনীহা রয়েছে। এসবের ফাঁকেই সম্পর্ক উন্নয়নে সীমান্তে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে আলোচনা সেরেছে ভারত ও চীন।
এদিকে, মহাসমারোহে শেষ হতে যাওয়া সম্মেলনে মোদিকে কিছুটা হতাশ করেছেন চীনের শি জিনপিং। দীর্ঘ ভ্রমণ আর একের পর এক কর্মসূচিতে ক্লান্ত হয়ে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর নৈশভোজে যোগ না দিয়েই নয়াদিল্লি ছেড়েছেন চীনা প্রেসিডেন্ট।
বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে পশ্চিমা আধিপত্যের বাইরে একটি শক্তিশালী বিকল্প বৈশ্বিক মঞ্চ প্রতিষ্ঠায় মরিয়া ব্রিকস। কিন্তু প্রতিষ্ঠার প্রায় ১৭ বছর পর যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বজুড়ে দেখা দিয়েছে জ্বালানি তীব্র সংকট। অন্যদিকে, ইউরোপেও সংঘাত জারি রেখেছে জোটের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য রাশিয়া। তাই প্রশ্ন ওঠে বৈশ্বিক এসব সংকট সমাধানে আদৌ কতটা কার্যকর এই জোট এবং তাদের শীর্ষ সম্মেলন।





