মেটলাইফে ফুটবল বিশ্বকাপের মহামঞ্চ; অপেক্ষায় ইতিহাস গড়ার

মেটলাইফ স্টেডিয়াম
মেটলাইফ স্টেডিয়াম | ছবি : সংগৃহীত
0

মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বজয়ের মহোৎসবের মঞ্চ প্রস্তুত। ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে জমকালো, আর রোমাঞ্চকর এক ফাইনাল দেখার অপেক্ষায় কোটি কোটি দর্শক। যেখানে মাঠের লড়াই তো বটেই, বিশ্ব ফুটবল দেখবে সংস্কৃতির এক অভূতপূর্ব মেলবন্ধন। আর এই দ্বৈরথে দেখা যাবে গুরু শিষ্যের লড়াই আর তৈরি হবে নতুন অনেক ইতিহাস।

বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আসরের ট্রফির জন্য শেষ লড়াইয়ে মুখোমুখি হতে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। আর এই ফাইনালকে ঘিরে ডালপালা মেলছে বেশ কিছু রোমাঞ্চকর সমীকরণ। রেকর্ডের খেরোখাতায় এটিই প্রথম, যেখানে কোনো বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে বর্তমান কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন এবং ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নরা। সেরা দুই মহাদেশীয় শাসকের এই দ্বৈরথ ফুটবল প্রেমীদের দিচ্ছে এক পরম তৃপ্তি

তবে মাঠের কৌশলের লড়াই ছাপিয়ে লাইমলাইটে ডাগআউটের এক অদ্ভুত রসায়ন। এই ফাইনাল যে মাস্টার আর স্টুডেন্টের লড়াই! আর্জেন্টিনার ডাগআউটে থাকা মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনি যখন উয়েফা প্রো লাইসেন্স কোর্স করছিলেন, তখন স্পেনের বর্তমান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে ছিলেন তাঁর শিক্ষক। এবার সেই গুরুর বিদ্যাপীঠ ভাঙার ছক কষতে হবে প্রিয় শিষ্যকে।

ইতিহাসের দরজায় কড়া নাড়ছে আলবিসেলেস্তেরা। ফুটবল ইতিহাসে ৭ম দল হিসেবে পরপর দুইবার বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার কীর্তি গড়তে যাচ্ছে আর্জেন্টিনা। আর এই রূপকথার মহানায়ক লিওনেল মেসি। ব্রাজিলের কিংবদন্তি কাফুর পর মাত্র দ্বিতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনটি ভিন্ন বিশ্বকাপের ফাইনাল খেলার অতিমানবীয় রেকর্ড গড়তে যাচ্ছেন এলএমটেন।

আরও পড়ুন:

এর আগে ১৯৮৬ সালেও উত্তর আমেরিকার মাটিতে মেক্সিকো বিশ্বকাপে ইউরোপের দল পশ্চিম জার্মানির বিপক্ষে ফাইনাল খেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল আর্জেন্টিনা। ৪০ বছর পর আবারও উত্তর আমেরিকার বুকেই ইউরোপীয় প্রতিপক্ষ স্পেনের মুখোমুখি তারা।

এতোসব রেকর্ডের ভিড়ে একটা রেকর্ড এবারও থাকছে অপরিবর্তিত। ৯৬ বছরের বিশ্বকাপ ইতিহাসে এখনো কোন ভিনদেশী কোচ কোন দলকেই জেতাতে পারেনি এই বৈশ্বিক শিরোপা। এবারও নিজ দেশের কোচ নিয়েই ফাইনাল খেলতে যাচ্ছে দুই দল।

সব মিলিয়ে ইতিহাস আর রেকর্ডের চাদরে মোড়ানো এই মেগা ফাইনাল। গুরুর কৌশল নাকি শিষ্যের তারুণ্য, স্প্যানিশ ভাষার এই মহাযুদ্ধে শেষ হাসি হাসবে কে, তা দেখার অপেক্ষায় পুরো বিশ্ব।

এফএস