মেসি ম্যাজিশিয়ান না, হি হিমসেল্ফ ইজ ম্যাজিক!

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসি
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে লিওনেল মেসি | ছবি: বিবিসি
0

ফের একবার খাদের কিনারা থেকে আর্জেন্টিনাকে টেনে তুলে ইতিহাসে গড়লেন লিওনেল মেসি। জোড়া এসিস্ট করে দলকে এনে দিয়েছেন ব্যাক টু ব্যাক বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার গৌরব। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে খেলতে নেমে করেছেন একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড।

মানুষ স্বীকার করার আগেও এভারেস্ট সবচেয়ে উঁচু ছিল। কাব্যিক এই ছন্দের উৎকৃষ্ট উদাহরণ মেসি নয়! রুটিন মাফিক রেকর্ডের পাতা উল্টেপাল্টে ফেলা খুদে জাদুকরকে কী আর পরিসংখ্যানের পাতায় মাপা যায়!

তবুও সংখ্যার খেল ফুটবলকে করে তোলে আকর্ষণীয়। ৩৯ বছর বয়সী মেসি চলতি বিশ্বকাপে ৮ গোল ও ৪ এসিস্ট নিয়ে তিনিই সবার থেকে এগিয়ে গোল্ডেন বুটের রেসে। বিশ্বকাপ ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতা ও এসিস্টকারী তো আগেই ছিলেন, চলতি বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ এসিস্টকারী হতে তার লাগবে আর মাত্র ১টি এসিস্ট।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবার খেলতে নেমে করেছেন আরও কিছু রেকর্ড। বিশ্বকাপে টানা ১১ ম্যাচে গোল অথবা এসিস্ট করা একমাত্র ফুটবলার তিনি। দিনো জফের পর সবচেয়ে বেশি বয়সের অধিনায়ক হিসেবে ফাইনালেও মাঠে নামতে যাচ্ছেন। সবশেষ চার বিশ্বকাপের তিনটাতেই ফাইনাল খেলবেন তিনি অধিনায়ক হিসেবে।

আরও পড়ুন:

শুধু তাই নয়, মেসি এই ম্যাচে দৌড়েছেন ৫.২ মাইল। বিশ্বকাপে ৯০ মিনিটের ম্যাচে যেটি তার সর্বোচ্চ দূরত্ব কাভার করার রেকর্ড। বুধবার রাতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পিছিয়ে পরেও তার দুই এসিস্টেই ফিনিক্স পাখির মতো ডানাঝাপটে ধ্বংসস্তূপ থেকে বেরিয়ে এসেছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা।

কিন্তু এতসব রেকর্ড আর অর্জনের ঝুলি না থাকলেও কি মেসি, ম্যাজিশিয়ান, বেটার দ্যান এনিওয়ান থাকতেন না! কথায় আছে, মেসি যদি টাইটেনিকের নাবিক হতে তাহলে তিনি আইসবার্গকেও বডি ফেইন্ট করতে পারতেন। যার প্রমাণ মাঠেই দেখেছে এই শতাব্দীর অন্যতম সেরা ফরওয়ার্ড ও ইংলিশ কাপ্তান হ্যারি কেইন ও হালের তরুণ তুর্কী এন্থনি গর্ডন।

অচেনা প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ম্যাচের সবচেয়ে বেশি ১০ ড্রিবলিং করছেন তিনি। ম্যাচে সবচেয়ে বেশি চারটি চান্স ক্রিয়েট ও করেছেন তিনি। যখন দল ১-০ তে পিছিয়ে ছিলেন, একের পর এক নিখুঁত ক্রস পাঠিয়েছেন বক্সে। ম্যাচটি জিততে কি না করেছেন তিনি!

ফুটবলটা যারা পরিসংখ্যানের পাতা থেকে সরিয়ে শুধু খেলাতেই দেখতে চান, তারা জানেন মেসি কাল গোলমুখে কোনো শট নেন নি, অফ টার্গেটেও নেই একটি শট। দলের প্রয়োজনে বিশ্বকাপের সর্বোচ্চ গোলদাতা, গোল্ডেন বলের রেসে থাকা একজন শুধু দলের প্রয়োজনে ৩৯ বছরেও ছুটতে পারেন, ফাইট করতে পারেন। তাইতো অনেকেই একটা কথা বলেই ফেলেন, মেসি ম্যাজিশিয়ান না, হি হিমসেল্ফ ইজ ম্যাজিক।

এসএস