রোমে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মাঝেই গাজা ও লেবাননে ইসরাইলের হামলা, নিহত ৪

দক্ষিণ লেবানন
দক্ষিণ লেবানন | ছবি: সংগৃহীত
0

গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের সাম্প্রতিক বিমান হামলায় বেশ কয়েকজন ফিলিস্তিনির হতাহতের খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যেই, একই পরিবারের চারজন নিহতের খবর দিয়েছে সংবাদ-মাধ্যম আল জাজিরা। অন্যদিকে, রোমে যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে দু'দেশের আলোচনার মধ্যেই লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে আইডিএফ। চুক্তি অনুযায়ী, ইসরাইলি বাহিনী বৈরুত ছেড়ে তাদের দখলকৃত এলাকাগুলো লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করার কথা রয়েছে।

গাজা উপত্যকার বিভিন্ন স্থাপনায় ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার বোমাবর্ষণ এবং স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর হামলার কারণে উপত্যকাটিতে মানবিক বিপর্যয় চরম আকার ধারণ করেছে।

গেল মঙ্গলবার উপত্যকার দেইর আল-বালাহ শহরে একটি বাড়িতে ইসরাইলি বিমান হামলায় একই পরিবারের চারজন নিহত হন। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অনেকে আটকা পড়ে আছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইসরাইলি বাহিনীর বিধিনিষেধের কারণে উদ্ধারকর্মীরা এখনও সেখানে কাজ শুরু করতে পারেনি বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

ভুক্তভোগীরা বলেন, ওরা আমাদের দুটো বাড়িই গুঁড়িয়ে দিয়েছে। আগের ভাঙা বাড়িটি মেরামত করে ফিরে এসেছিলাম। আমাদের শিকড় এখানেই। তাই আমরা পালিয়ে যাই না। এখন তৃতীয় যুদ্ধের জন্যও অপেক্ষা করছি। কোনো সমস্যা নেই।

অন্যদিকে, যুদ্ধ বন্ধ ও সীমান্ত নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় রোমে ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনার মধ্যে দক্ষিণ লেবাননে বেশ কয়েকটি বাড়ি ও অন্যান্য স্থাপনায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে আইডিএফ। তবে এসব ইসরাইলি হামলার ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা জানায়নি কর্তৃপক্ষ।

আরও পড়ুন:

রোমের মার্কিন দূতাবাসে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী রুদ্ধদ্বার আলোচনার পর দু'পক্ষের কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল এখনও কোনও সিদ্ধান্তের কথা জানায়নি। আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে দক্ষিণ লেবাননে পাইলট জোনগুলো মুক্ত করা। যা বর্তমানে ইসরাইলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। কাঠামো চুক্তি অনুসারে, ইসরাইলি বাহিনী পর্যায়ক্রমে এলাকাগুলো থেকে সরে যাবে। বৈরুতের দখলকৃত এলাকাগুলো লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করতে হবে।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন দুজারিক জানিয়েছেন, তাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী লেবাননে ইসরাইলি বাহিনীর ১২টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ছাড়াও ২৭ বার আকাশসীমা লঙ্ঘনের খবর নিশ্চিত করেছে। এছাড়া আল-বায়াদাহ এলাকায় ড্রোন ও গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনীর সদস্যরা দেশটিতে ইসরাইলি বাহিনীর মাধ্যমে নানা ধরনের বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে বলেও অভিযোগ সংস্থাটির।

জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক বলেন, লেবাননে আমাদের শান্তিরক্ষী বাহিনী নিরাপত্তা পরিষদের ১৭০১ নম্বর প্রস্তাব লঙ্ঘনের খবর দিয়েছে। শান্তিরক্ষীরা ২৭ বার আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা শনাক্ত করেছে। আল-মানসুরির নিকটবর্তী উপকূলীয় এলাকায় তীব্র বিমান তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে। আল-বায়াদাহ পাহাড় থেকে সশস্ত্র ড্রোন ও গ্রেনেড হামলা হয়েছে। ইউনিফিল ইসরাইলি বাহিনীর ছোড়া ১২টি ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ নথিভুক্ত করেছে। শান্তিরক্ষীরাও চলাফেরার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধের সম্মুখীন হচ্ছে।

ইএ