কর প্রত্যাহারের পরও বাজারে সিমের বর্তমান দাম (Sim Card Price in Bangladesh)
বাজারে খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, দেশের শীর্ষস্থানীয় মোবাইল অপারেটরদের সিমের দাম (Mobile SIM Card Price) এখনো প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গ্রামীণফোন (Grameenphone) ও বাংলালিংক (Banglalink) তাদের প্রিপেইড সিম (Prepaid SIM) আগের মতোই ৪০০ টাকায় বিক্রি করছে। আর গ্রামীণফোনের পোস্টপেইড সিম (Postpaid SIM) বিক্রি হচ্ছে ১,৪৯৯ টাকায়। অন্যদিকে রবি (Robi) তাদের প্রিপেইড সিমের দাম রাখছে ২০০ টাকা এবং রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন অপারেটর টেলিটক (Teletalk) তাদের বিভিন্ন ক্যাটাগরির সিম ১০০ থেকে ২৫০ টাকার মধ্যে বিক্রি করছে।
আরও পড়ুন:
সিমের দাম না কমার পেছনে অপারেটরদের যুক্তি ও উৎপাদন খরচ (SIM Card Production Cost)
সরকারের বিপুল রাজস্ব ছাড়ের পরও কেন সিমের দাম কমছে না- এই প্রশ্নের জবাবে মোবাইল অপারেটররা বেশ কিছু যুক্তি তুলে ধরেছেন। তাদের মতে, একটি প্লাস্টিকের সিম চিপ (SIM Chip) উৎপাদন করতেই খরচ হয় ২৬ থেকে ৩০ টাকা। এরপর সেটির মোড়কজাত ও বিপণন খরচ পড়ে ৮০ থেকে ১০০ টাকা। এছাড়া গ্রাহকের হাত পর্যন্ত সিমটি পৌঁছাতে ডিস্ট্রিবিউটর ও খুচরা বিক্রেতাদের কমিশন, গ্রাহক নিবন্ধনের বায়োমেট্রিক খরচ (Biometric Registration Cost), নেটওয়ার্ক পরিচালনা ব্যয় এবং প্রতি নম্বরের জন্য লাইসেন্স ফি দিতে হয়।
অপারেটরদের দাবি, আগে যখন ৩০০ টাকা সিম ট্যাক্স (SIM Tax) কার্যকর ছিল, তখন একটি সিমের পেছনে তাদের মোট ব্যয় হতো ৫৫০ থেকে ৬০০ টাকা। ফলে কম দামে সিম বিক্রি করতে অপারেটরদের নিজেদেরই বড় অঙ্কের টাকা ভর্তুকি দিতে হতো। কর প্রত্যাহারের ফলে তাদের সরাসরি লাভ বাড়ছে না, বরং এতদিনের চলে আসা ভর্তুকির (SIM Subsidy) চাপ কিছুটা কমেছে মাত্র।
রবি আজিয়াটা লিমিটেডের (Robi Axiata Limited) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সিমের চূড়ান্ত বিক্রয়মূল্য কেবল সিম ট্যাক্সের ওপর নির্ভর করে না। এর সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর চিপস (Semiconductor Chips), লজিস্টিকস ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ যুক্ত থাকে, যা বর্তমানে অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বড় অপারেটররা তাদের ব্র্যান্ড ভ্যালু ও উচ্চ আয়ের গ্রাহকদের টার্গেট করে দাম বেশি রাখছে, আর ছোট অপারেটররা নতুন গ্রাহক টানতে কম দামে সিম দিচ্ছে। ফুটপাতে বা ছোট দোকানে অনেক সময় যে কম দামে সিম পাওয়া যায়, তা মূলত ডিস্ট্রিবিউটরদের নিজস্ব কমিশন ছাড়ের কারণে সাময়িকভাবে সম্ভব হয়।
আরও পড়ুন:
দেশের সচল সিমের সংখ্যা ও সরকারের উদ্বেগ (BTRC SIM Subscriber Data)
বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (BTRC) হিসাব অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে সচল সিমের সংখ্যা (Active SIM Users in Bangladesh) প্রায় ১৯ কোটি এবং গত তিন মাসেই নতুন ২৮ লাখ গ্রাহক যুক্ত হয়েছেন। সরকার আশা করেছিল সিমের দাম কমলে এই সংখ্যা আরও দ্রুত বাড়বে।
সরকারের এই বিশাল কর ছাড়ের সুবিধা কেন এন্ড-ইউজার (End-User) বা সাধারণ গ্রাহক পাচ্ছেন না, তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা (Telecom Advisor) রেহান আসাদ আসিফ। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, শুল্ক কমানোর বেনিফিট যদি সাধারণ গ্রাহক না পান, তবে তা সরকারের রাজস্বের জন্য একটি বড় ক্ষতি।
গ্রাহকদের জন্য অপারেটরদের নতুন আশ্বাস (New SIM Card Price Update)
অবশ্য শেষ মুহূর্তে গ্রাহকদের জন্য কিছুটা আশার বাণী শুনিয়েছে মোবাইল অপারেটরগুলো (Mobile Operators)। তারা জানিয়েছে, খুব শিগগিরই তারা নতুন ও সমন্বিত মূল্যে সিম বাজারে নিয়ে আসার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এখন দেখার বিষয়, সাধারণ মানুষের জন্য সিমের দাম কমাতে অপারেটরগুলো ঠিক কতটা সময় নেয়।
আরও পড়ুন:
মোবাইল অপারেটর
সিমের ধরন
বর্তমান বাজার মূল্য (টাকা)
গ্রামীণফোন (Grameenphone)
প্রিপেইড সিম
৪০০ টাকা
গ্রামীণফোন (Grameenphone)
পোস্টপেইড সিম
১,৪৯৯ টাকা
বাংলালিংক (Banglalink)
প্রিপেইড সিম
৪০০ টাকা
রবি (Robi)
প্রিপেইড সিম
২০০ টাকা
টেলিটক (Teletalk)
বিভিন্ন ক্যাটাগরি
১০০ থেকে ২৫০ টাকা
নোট: ৩০০ টাকা সিম ট্যাক্স বা সম্পূরক শুল্ক প্রত্যাহারের পরেও বাজারে অপারেটরদের এই দামে সিম বিক্রি হতে দেখা গেছে।
আরও পড়ুন:


