বায়ুদূষণে বছরে ৮৮ হাজার অকালমৃত্যু; আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকা

ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিটের জরিপ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন
ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিটের জরিপ সংক্রান্ত সংবাদ সম্মেলন | ছবি: এখন টিভি
0

বাংলাদেশে বায়ুদূষণ এখন জনস্বাস্থ্যের জন্য নীরব ঘাতকে পরিণত হয়েছে। দেশের ছয়টি প্রধান শহরে শুধু অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা (পিএম ২.৫) দূষণের কারণেই প্রতিবছর প্রায় ৮৮ হাজার ২৪০ জন মানুষের অকালমৃত্যু হচ্ছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রাণ হারাচ্ছেন প্রায় ২৪২ জন।

একই সঙ্গে বায়ুদূষণের কারণে বছরে দেশের অর্থনীতিতে ক্ষতি হচ্ছে প্রায় ২৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রায় ২ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা এবং দেশের মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৫ শতাংশের সমান।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক হেলথ অ্যান্ড ইনফরমেটিক্স বিভাগের ক্লাইমেট চেঞ্জ, এয়ার কোয়ালিটি অ্যান্ড হেলথ রিসার্চ ইউনিট পরিচালিত এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। বিভাগের চেয়ারম্যান ও সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. সাখাওয়াত হোসেনের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী পলিউশনে প্রকাশিত হয়েছে।

গবেষণায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট ও বরিশাল এ ছয়টি শহরে পিএম ২.৫ দূষণের স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক প্রভাব বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, বায়ুদূষণজনিত মোট অকালমৃত্যুর মধ্যে হৃদরোগে মারা গেছেন ৩৭ হাজার ৫১৯ জন, দীর্ঘমেয়াদি শ্বাসতন্ত্রের রোগে ৮ হাজার ৩৪৪ জন এবং ফুসফুসের ক্যান্সারে ৮১১ জন।

শহরভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি অকালমৃত্যু হয়েছে ঢাকায়, যেখানে প্রায় ৬৮ হাজার ৭০৩ জনের মৃত্যু পিএম ২.৫ দূষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। এরপর রয়েছে চট্টগ্রাম (১১ হাজার ২০২ জন), রাজশাহী (২ হাজার ৮২৭ জন), খুলনা (২ হাজার ৬২৫ জন), সিলেট (১ হাজার ৪৮৮ জন) এবং বরিশাল (১ হাজার ৩৯৫ জন)।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, ২০১৩ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ছয়টি শহরেই বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যুর সংখ্যা ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে। এর মধ্যে ঢাকায় প্রতি বছর গড়ে প্রায় ৩ হাজার ৪৮৪ জন অতিরিক্ত মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে, যা রাজধানীর বায়ুমানের দ্রুত অবনতির চিত্র তুলে ধরে।

গবেষণা দলের প্রধান ড. মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘বায়ুদূষণকে শুধু পরিবেশগত সমস্যা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আমাদের গবেষণায় দেখা গেছে, এর কারণে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষের অকালমৃত্যু ঘটছে এবং দেশের জিডিপির প্রায় ৫ শতাংশ সমপরিমাণ অর্থনৈতিক ক্ষতি হচ্ছে। তাই বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া জরুরি।’

গবেষকদের মতে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বায়ুমান নির্দেশিকা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, পিএম ২.৫ নির্গমন কমানো, নগরাঞ্চলে সমন্বিত বায়ুমান ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং প্রমাণভিত্তিক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে বায়ুদূষণজনিত অকালমৃত্যু ও অর্থনৈতিক ক্ষতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

এএইচ