শক্তি হারিয়ে আঘাত হানলেও টাইফুন বাভির তাণ্ডবে পাল্টে গেছে চীনের উত্তর ও উত্তর-পূর্ব অঞ্চল। একটানা ভারি বৃষ্টিতে শুধু উপকূল নয় প্লাবিত হচ্ছে ছোটো-বড়ো জলাশয়, নদীতেও প্রবল ঢেউ। বাঁধের দুই প্রান্তে তীব্র স্রোত। বালির বাঁধ দিয়ে কোনোমতে ঠেকানো হচ্ছে বন্যা। কোথাও কোথাও উপকূল ছাপিয়ে প্লাবিত শহরাঞ্চলও। এখনও পানি নামেনি রাস্তা থেকে। রাতের অন্ধকারে টর্চ জ্বালিয়ে চলছে উদ্ধার অভিযান।
অন্তত ৪৬টি নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে এবং সাড়ে ১৮ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেয়া হয়েছে। বিপদ ঠেকাতে জরুরি সেবায় নিয়োজিতদের ২৪ ঘণ্টাব্যাপী পালাক্রমে কাজ করে যাওয়ার নির্দেশ প্রশাসনের।
এরই মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত উত্তর-পূর্ব উপকূল ও উপকূলবর্তী শহর। রাতারাতি বন্যায় তলিয়ে গেছে বেশিরভাগ নিম্নাঞ্চল। রেলপথ, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া ছাড়াও ব্যাহত সড়কপথে যান চলাচল
এদিকে, ফিলিপিন্সে অতিবৃষ্টি ও ভূমিধসে প্রাণহানির পাশাপাশি বাড়ছে নিখোঁজের সংখ্যা। এছাড়াও, লুজন দ্বীপ, মেট্রো ম্যানিলা, ইলোইলো প্রদেশ এবং মধ্যাঞ্চলের বেশ কিছু নদী তীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে, মৌসুমি আবহাওয়া ও বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের কারণে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস এবং কোনো কোনো শহরে তীব্র জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। প্রবল বর্ষণে প্লাবিত হয়েছে আসাম ও অরুণাচল প্রদেশের বিস্তীর্ণ এলাকা।
মহারাষ্ট্রের মুম্বাই, পুনে, ও রায়গড়ে জারি করা হয়েছে রেড অ্যালার্ট। ভারী বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় বাণিজ্যনগরী মুম্বাইয়ের জনজীবন বিপর্যস্ত এবং ব্যাহত হচ্ছে সড়ক ও রেল পরিষেবা। এছাড়াও, আগামী কয়েকদিন উত্তর-পূর্বাঞ্চল, পশ্চিমবঙ্গ, ওড়িশা ও বিহারে মাঝারি থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দেয়া হচ্ছে।





