সকালের ভারীবৃষ্টির পর বহির্বিভাগ, অন্তঃবিভাগ ও প্রশাসনিক কার্যালয়সহ পুরো হাসপাতালের পানি ঢুকে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়। এরপর বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হওয়ায় বিদ্যুৎসংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বিদ্যুৎ না থাকায় বন্ধ হয়ে যায় ফ্যান, অন্ধকারে পড়ে থাকে সবগুলো বিভাগ। রোগীদের সেবা দিতে গিয়ে মোবাইলের আলো ব্যবহার করতে হচ্ছে নার্সদের।
সোমবার রাতে সরেজমিনে হাসপাতালে দেখা যায়, মোবাইলের ফ্ল্যাশলাইট জ্বালিয়ে রোগীকে ইনজেকশন দিচ্ছেন একজন নার্স। অন্যদিকে সিজারিয়ান হওয়া এক মাকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করছেন তার স্বজন।
পাশের ওয়ার্ডে মোমবাতির আলোয় স্বামীকে খাবার খাওয়াচ্ছেন এক নারী। মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে অনেকেই জ্বালিয়েছেন মশার কয়েল, আবার কেউ হাতপাখা দিয়ে রাত কাটানোর চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন:
দায়িত্বরত নার্সরা জানান, জলাবদ্ধতার কারণে বৈদ্যুতিক লাইনে শর্ট সার্কিট হওয়ায় এখনই বিদ্যুৎ চালু করা সম্ভব হচ্ছে না। এরইমধ্যে অস্বস্তি, গরম ও মশার যন্ত্রণায় মেডিসিন পুরুষ ওয়ার্ড থেকে তিনজন এবং মেডিসিন ও সার্জারি মহিলা ওয়ার্ড থেকে অন্তত আটজন রোগী হাসপাতাল ছেড়ে চলে গেছেন।
স্বজনদের অভিযোগ, দীর্ঘসময় বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের কষ্ট চরমে পৌঁছেছে।
কিডনি রোগী মাফিয়া বেগমের স্বজন রিয়াজ হোসেন বলেন, ‘পাখা ছাড়া তার রোগী এক মুহূর্তও থাকতে পারেন না, অথচ সরকারি হাসপাতালে ১২ ঘণ্টার বেশি সময় ধরে বিদ্যুৎ নেই।’
অন্যদিকে অস্ত্রোপচারের পর ভর্তি থাকা এক রোগীর স্বজন অভিযোগ করেন, জলাবদ্ধতা ও বিদ্যুৎহীন পরিবেশে রোগীর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হচ্ছে।
তবে কুমিল্লা সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আব্দুল করিম ভূঁইয়া বলেন, ‘ইলেকট্রিশিয়ানরা কাজ করছেন এবং যত দ্রুত সম্ভব বিদ্যুৎ সংযোগ স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।’





