সমতাসূচক গোলের পরপরই পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরোর (Portuguese referee Joao Pinheiro) এই কঠিন সিদ্ধান্ত প্রথমে বিতর্কিত মনে হলেও ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে স্পষ্ট হয়েছে যে, এটি ছিল ফুটবলে চালু হওয়া ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর-এর সম্পূর্ণ নতুন একটি নিয়মের নিখুঁত প্রয়োগ (Why Breel Embolo Received Red Card Against Argentina: Check FIFA New VAR Rule Details)। এমবোলোর লাল কার্ড পাওয়ার আসল কারণ এবং ফিফার নতুন নিয়মের ব্যাখ্যা নিচে বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
আরও পড়ুন:
একনজরে ফিফার নতুন ভিএআর নিয়ম ও ম্যাচের তথ্য (New VAR Rule & Match Summary at a Glance)
- ম্যাচ ও ভেন্যু (Match & Venue): আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড, কানসাস সিটি স্টেডিয়াম (Argentina vs Switzerland)
- প্রধান রেফারি (Main Referee): জোয়াও পিনেইরো, পর্তুগাল (Joao Pinheiro referee)
- লাল কার্ড পাওয়া খেলোয়াড়: ব্রিল এমবোলো, সুইজারল্যান্ড (Breel Embolo, Switzerland)
- নতুন নিয়মের নাম (New Rule Name): ভিএআর মিস্টেকেন আইডেন্টিটি প্রোটোকল (VAR Mistaken Identity Protocol)
- নিয়মের মূল ভিত্তি (Core Rule): ভুল খেলোয়াড়ের কার্ড বাতিল করা হবে এবং ফাউলের ভান বা সিমুলেশন করলে প্রতারণাকারীকে কার্ড দেওয়া হবে।
আরও পড়ুন:
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে ঠিক কী ঘটেছিল? (What Happened in Argentina vs Switzerland Match?)
কানসাস সিটি স্টেডিয়ামে (Kansas City Stadium) ম্যাচের ৭২ মিনিটে এক নাটকীয় পরিস্থিতির তৈরি হয়। মাঠে সুইজারল্যান্ডের ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে ফাউল করার অভিযোগে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড (Leandro Paredes yellow card) দেখান প্রধান রেফারি। পারেদেস তাৎক্ষণিকভাবে এই সিদ্ধান্তের তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং ম্যাচ পরিচালকের কাছে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন।
প্রতিবাদের মুখে রেফারি জোয়াও পিনেইরো মাঠের বাইরে থাকা ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (Video Assistant Referee - VAR) মনিটরে গিয়ে ঘটনাটি পুনর্মূল্যায়ন করার সিদ্ধান্ত নেন। ভিএআর রিপ্লেতে (VAR replay review) দেখা যায়, আর্জেন্টিনার পারেদেস আসলে এমবোলোকে কোনো ফাউলই করেননি; বরং এমবোলো নিজেই রেফারিকে ধোঁকা দিতে মাটিতে পড়ে ফাউলের ভান বা ডাইভিং (Foul simulation or diving) করেছিলেন।
আরও পড়ুন:
ফিফার ভিএআর-এর নতুন নিয়ম: ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি প্রোটোকল (New VAR Mistaken Identity Protocol)
ভিডিও বিশ্লেষণে সত্য বেরিয়ে আসার পর রেফারি ফিফার নতুন নিয়ম ‘মিস্টেকেন আইডেন্টিটি’ বা ভুল খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়ার প্রোটোকল (Mistaken identity protocol in football) কার্যকর করেন।
নতুন এই নিয়মের প্রয়োগ যেভাবে এমবোলোকে মাঠের বাইরে পাঠালো:
১. আগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার: রেফারি প্রথমে ভুল করে পারেদেসকে হলুদ কার্ড দিয়েছিলেন, তাই ভিএআর দেখে সেই কার্ড বাতিল বা প্রত্যাহার করা হয়।
২. প্রতারণার শাস্তি: ফিফার নতুন গাইডলাইন অনুযায়ী, কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউলের ভান করে রেফারিকে বিভ্রান্ত বা প্রতারণা করার চেষ্টা করেন, তবে তাকে সরাসরি শাস্তি দেওয়া হবে।
৩. অন-ফিল্ড লাল কার্ড: এই প্রতারণার অপরাধে রেফারি এমবোলোকে হলুদ কার্ড দেখান। যেহেতু ম্যাচে এটি ছিল এমবোলোর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (Second yellow card), তাই নিয়ম অনুযায়ী তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ডে পরিণত হয় এবং তাকে মাঠ ছাড়তে হয়।
আরও পড়ুন:
ফুটবল বিশ্বকাপে এই নিয়মের অতীত উদাহরণ (Previous Example of the New Rule in World Cup)
চলতি বিশ্বকাপে এই নিয়মের প্রয়োগ অবশ্য এটাই প্রথম নয়। এর আগে গ্রুপ পর্বের ম্যাচেও ফুটবল বিশ্ব এই নিয়মের ব্যবহার দেখেছে:
যুক্তরাষ্ট্র বনাম প্যারাগুয়ে ম্যাচ: এবারের বিশ্বকাপের ‘ডি’ গ্রুপে যুক্তরাষ্ট্র ও প্যারাগুয়ের ম্যাচে (USA vs Paraguay world cup match) একই ঘটনা ঘটেছিল। সেবার প্যারাগুয়ের আলমি রনকে ফাউলের অভিযোগে আমেরিকার এক খেলোয়াড়কে রেফারি কার্ড দেখান। পরে ভিএআর চেক করে দেখা যায় প্যারাগুয়ের খেলোয়াড় ডাইভিং করেছিলেন। ফলে আগের সিদ্ধান্ত বাতিল করে ভান করা খেলোয়াড়কে শাস্তি দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রযুক্তিকে আরও স্বচ্ছ ও নিখুঁত করতেই ফিফা এই নতুন নিয়ম যুক্ত করেছে, যার সর্বশেষ বড় উদাহরণ হয়ে রইলেন সুইস স্ট্রাইকার ব্রিল এমবোলো।
এমবোলোর বিতর্কিত লাল কার্ড: ফিফার নতুন ভিএআর (VAR) নিয়মের বিশ্লেষণ
একনজরে: Why Breel Embolo Got Red Card & FIFA New VAR Mistaken Identity Protocol
• ম্যাচ: আর্জেন্টিনা বনাম সুইজারল্যান্ড (কোয়ার্টার ফাইনাল)।
• ভেন্যু: কানসাস সিটি স্টেডিয়াম | ঘটনার সময়: ম্যাচের ৭২তম মিনিট।
• সুইস ফরোয়ার্ড ব্রিল এমবোলোকে ফাউল করার অভিযোগে রেফারি প্রথমে আর্জেন্টিনার মিডফিল্ডার লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে হলুদ কার্ড দেখান।
• পর্তুগিজ রেফারি জোয়াও পিনেইরো ভিএআর মনিটরে রিপ্লে দেখে নিশ্চিত হন যে, পারেদেস কোনো ফাউল করেননি। বরং এমবোলো নিজেই ফাউলের ভান (Diving) করেছিলেন।
• পারেদেসের হলুদ কার্ড বাতিল করা হয়।
• রেফারিকে প্রতারিত করার অপরাধে এমবোলোকে কার্ড দেওয়া হয়। এটি ম্যাচে তাঁর দ্বিতীয় হলুদ কার্ড হওয়ায় তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন।
• মিস্টেকেন আইডেন্টিটি প্রোটোকল (Mistaken Identity Protocol): এই নিয়ম অনুযায়ী, রেফারি ভুল করে অন্য কোনো খেলোয়াড়কে শাস্তি দিলে ভিএআর দেখে তা সংশোধন করা যাবে। একই সাথে, কোনো খেলোয়াড় যদি ফাউলের ভান বা সিমুলেশন (Simulation/Diving) করে রেফারিকে ধোঁকা দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে ভিডিও দেখে সেই প্রতারণাকারীকে উল্টো কার্ড বা শাস্তি দেওয়া হবে।
ঘটনার বিবরণ
(Incident Details)মাঠের সিদ্ধান্ত ও ভিএআর (VAR) ভূমিকা
(On-Field Action & VAR Review)ফিফার নতুন নিয়ম
(New FIFA Rule)
ম্যাচ ও সময়কাল
বিশ্বকাপ ২০২৬
প্রাথমিক ভুল সিদ্ধান্ত
রেফারির ভুল ধারণা
ভিএআর পর্যবেক্ষণ
ভিডিও বিশ্লেষণ
চূড়ান্ত শাস্তি (লাল কার্ড)
সুইজারল্যান্ড ১০ জনে পরিণত
নতুন নিয়মের মূল কথা
বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সব খবর সবার আগে পেতে ,ক্লিক করুন এখানে,।
আরও পড়ুন:


