এবারের আসরে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের পুরস্কারের পরিমাণ একলাফে অনেকখানি বেড়েছে। কাতার বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা যেখানে ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার পেয়েছিল, সেখানে এবার ২০২৬ বিশ্বকাপের বিজয়ী দল ট্রফির সঙ্গে পাবে ৫ কোটি ১০ লাখ মার্কিন ডলার (World Cup champion prize money in BDT), যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৬২৬ কোটি ৫৩ লাখ টাকা!
আরও পড়ুন:
রানার্সআপ থেকে গ্রুপ পর্ব: কার পকেটে কত টাকা যাচ্ছে? (FIFA World Cup 2026 Position Wise Prize Money List)
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়া প্রতিটি দলই তাদের অবস্থান অনুযায়ী মোটা অঙ্কের আর্থিক পুরস্কার (World Cup football team earnings) পাবে। নিচে অবস্থানভিত্তিক আয়ের হিসাব দেওয়া হলো (১ ডলার = ১২২.৮৫ টাকা ধরে):
- রানার্সআপ দল (Runner-up prize money): ৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার বা ৪১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।
- তৃতীয় স্থান (Third place team): ৩ কোটি ডলার বা ৩৬৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা।
- চতুর্থ স্থান (Fourth place team): ২ কোটি ৮০ লাখ ডলার বা ৩৪৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা।
- কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় (Quarter-finalist teams): প্রতিটি দল পাবে ২ কোটি ডলার বা ২৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা।
- শেষ ষোলো বা নকআউট পর্ব (Round of 16 teams): প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ৬০ লাখ ডলার বা ১৯৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা।
- গ্রুপ পর্ব পেরিয়ে ১৭-৩২তম স্থান: প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি ২০ লাখ ডলার বা ১৪৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা।
- ৩৩তম থেকে ৪৮তম স্থান (গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়): প্রতিটি দল পাবে ১ কোটি মার্কিন ডলার বা ১২২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা।
এছাড়া পারফরম্যান্স নির্বিশেষে অংশগ্রহণকারী প্রতিটি দল ন্যূনতম ১ কোটি ডলার পার্টিসিপেশন ফি এবং ২৫ লাখ ডলার প্রস্তুতি ফিসহ নিশ্চিতভাবে অন্তত ১ কোটি ২৫ লাখ মার্কিন ডলার বা প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা পাচ্ছে (Minimum earnings for participating in World Cup)।
আরও পড়ুন:
ফিফার আয় কত এবং টাকা আসছে কোথা থেকে? (How Much Money Does FIFA Make From World Cup)
দলগুলোকে বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার পরও ফিফার মোট আয়ের তুলনায় এই প্রাইজমানি মাত্র ৬.৭ শতাংশ। এবারের বিশ্বকাপ থেকে ফিফার মোট রাজস্ব আয় (FIFA total revenue from World Cup 2026) ধরা হয়েছে রেকর্ড ১ হাজার৩০০ কোটি বা ১৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। মূলত একটি অলাভজনক সংস্থা হওয়ায় ফিফা জানিয়েছে, এই আয়ের সিংহভাগ অর্থাৎ ১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার বিশ্ব ফুটবলের উন্নয়নে পুনর্বিনিয়োগ (FIFA football development fund) করা হবে।
ফিফার এই বিশাল ১৩ বিলিয়ন ডলার আয়ের প্রধান উৎসগুলো হলো:
১. টিভি ও সম্প্রচার স্বত্ব (World Cup TV and media broadcast rights): ৪২৬ কোটি মার্কিন ডলার।
২. স্পন্সরশিপ ও লাইসেন্সিং (FIFA official sponsorship and licensing): ৩২০ কোটি মার্কিন ডলার।
৩. টিকিট বিক্রি (FIFA World Cup ticket sales revenue): ৩০০ কোটি মার্কিন ডলার।
আরও পড়ুন:
ডায়নামিক টিকিট ও টিকটক-ইউটিউব মনিটাইজেশন (Dynamic Ticket Pricing & Social Media Live Streaming)
এবারের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা (৪৮টি দল) বেশি হওয়ায় টিকিট ও সম্প্রচার থেকে আয়ের সুযোগ ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারই প্রথম ফিফা তাদের মিডিয়া পার্টনারদের মাধ্যমে টিকটক ও ইউটিউব মনিটাইজেশন (TikTok and YouTube football live streaming monetization) চালু করেছে, যেখানে প্রতিটি ম্যাচের প্রথম ১০ মিনিট সরাসরি সম্প্রচার করা হচ্ছে।
পাশাপাশি টিকিটের ক্ষেত্রে ফিফা ‘ডায়নামিক প্রাইসিং’ পদ্ধতি (Dynamic ticket pricing system) ব্যবহার করছে। অর্থাৎ টিকিটের চাহিদা যত বাড়বে, দামও তত বাড়বে। এই কারণে ফাইনাল ম্যাচের টিকিটের দাম (World Cup 2026 final ticket price) সর্বোচ্চ ১১ হাজার ডলারে উঠেছে, যা ২০২২ সালের তুলনায় প্রায় ৭ গুণ বেশি!
একই সাথে ফিফা প্রেসিডেন্ট জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর আয়ও বৃদ্ধি পেয়েছে, যিনি ক্লাব বিশ্বকাপের বোনাসসহ ২০২৫ সালে মোট ৬১ লাখ ডলার আয় (FIFA President Gianni Infantino salary and bonus) করেছেন। সব মিলিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ শুধু মাঠের খেলাতেই নয়, বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকেও ফুটবল ইতিহাসের সর্ববৃহৎ ও সবচেয়ে সফল টুর্নামেন্ট।
আরও পড়ুন:
ফুটবল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রাইজমানি ও ফিফার রেকর্ড আয়ের বিবরণী
একনজরে: FIFA World Cup 2026 Prize Money & Financial Records Breakdown
★ মূল প্রাইজমানি ও পুরস্কার তহবিল (Tournament Prize Money Pool)
★ অন্যান্য পর্বের প্রাইজমানি (প্রতিটি দলের জন্য)
★ ফিফার রেকর্ড রাজস্ব ও আয়ের খাত (FIFA Total Revenue Breakdown)
দলের অবস্থান / আয়ের উৎস
(Position / Revenue Source)মার্কিন ডলার (USD)
(Amount in Dollar)বাংলাদেশি টাকা (BDT)
(১ ডলার = ১২২.৮৫ টাকা)
চ্যাম্পিয়ন দল (Winner)
৫ কোটি ১০ লাখ ডলার
৬২৬ কোটি ৫৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা
রানার্সআপ (Runner-up)
৩ কোটি ৪০ লাখ ডলার
৪১৭ কোটি ৬৯ লাখ টাকা
তৃতীয় স্থান (3rd Place)
৩ কোটি ডলার
৩৬৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা
চতুর্থ স্থান (4th Place)
২ কোটি ৮০ লাখ ডলার
৩৪৩ কোটি ৯৮ লাখ টাকা
কোয়ার্টার ফাইনাল (৫ম-৮ম)
২ কোটি ডলার
২৪৫ কোটি ৭০ লাখ টাকা
শেষ ষোলো (৯ম-১৬তম)
১ কোটি ৬০ লাখ ডলার
১৯৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা
গ্রুপ পর্ব (১৭তম-৩২তম)
১ কোটি ২০ লাখ ডলার
১৪৭ কোটি ৪২ লাখ টাকা
গ্রুপ পর্ব (৩৩তম-৪৮তম)
১ কোটি ডলার
১২২ কোটি ৮৫ লাখ টাকা
সর্বনিম্ন নিশ্চিত আয় (Minimum)
১ কোটি ২৫ লাখ ডলার
১৫৩ কোটি ৫৬ লাখ ২৫ হাজার টাকা
ফিফার মোট আয় (Total Revenue)
১ হাজার ৩০০ কোটি ডলার
১,৫৯,৭০৫ কোটি টাকা
টিভি স্বত্ব (TV Rights)
৪২৬ কোটি ডলার
৫২,৩৩৪ কোটি ৬০ লাখ টাকা
স্পন্সর ও লাইসেন্স (Sponsorship)
৩২০ কোটি ডলার
৩৯,৩১২ কোটি টাকা
টিকিট বিক্রি (Ticket Sales)
৩০০ কোটি ডলার
৩৬,৮৫৫ কোটি টাকা
ফুটবল উন্নয়ন তহবিল (Development)
১ হাজার ১৭০ কোটি ডলার
১,৪৩,৭৩৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা
বিশ্বকাপ ২০২৬ এর সব খবর সবার আগে পেতে ,ক্লিক করুন এখানে,।
আরও পড়ুন:


