২০২২ সালে শেরপুর পৌরসভার একটি প্রকল্পের আওতায় প্রায় সাড়ে ছয় কোটি টাকায় তিন একর জমি অধিগ্রহণ এবং স্থাপনা নির্মাণে আরও সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে শহরের অষ্টমীতলায় আধুনিক ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হয়। অথচ পৌর এলাকার আবর্জনা সেখানে না ফেলে, ফেলা হয় মীরগঞ্জের মৃগী নদীর পাশের জমিতে।
নিজস্ব আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর স্যানিটারি ল্যান্ডফিল্ড থাকলেও এভাবে উন্মুক্ত স্থানে পরিত্যক্ত প্লাস্টিক সামগ্রী, পলিথিন, আবাসিক ও হাসপাতালের বর্জ্য ফেলে নদীসহ পরিবেশ দূষণে পৌর কর্তৃপক্ষের খাম খেয়ালিপনাকে দায়ী করছেন অনেকে।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের এই মৃগী নদীর কাছেই আমাদের বাড়ি। এই মৃগী নদীর পানি কালো হয়ে গেছে গা এই ময়লা ফেলানির কারণে। ময়লার দুর্গন্ধে পোলাপানের মানে শ্বাসকষ্ট, মানে কাশি, মানে নিউমোনিয়া—মানে এডিগুলা মানে দেখা দিতাছে।’
আরও পড়ুন:
বর্জ্য থেকে জ্বালানি তেল উৎপাদনের প্রকল্পটি বৃহৎ আকারে করতে পারলে এসব আবর্জনাকে সম্পদের পরিণত করা সম্ভব বলে জানান শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা।
শেরপুর পৌরসভার সমাজ উন্নয়ন কর্মকর্তা মুহাম্মদ শরিফ উদ্দিন বলেন, ‘এই বর্জ্য যতদিন পর্যন্ত সম্পদে পরিণত করতে না পারবো, ততদিন পর্যন্ত আমাদের জন্য এটা বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। আমি আশা করবো, কেন্দ্রীয় সরকার যাতে এদিকে দৃষ্টি দেয়। দৃষ্টি দিলে আমাদের এই দুর্বলতা থেকে আমরা কাটিয়ে উঠবো এবং এটাকে সম্পদে পরিণত করতে পারবো।’
এদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ এড়াতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন প্রকল্প হাতে নেয়ার আশ্বাস দিলেন পৌর প্রশাসক।
শেরপুর পৌরসভার পৌর প্রশাসক আরিফা সিদ্দিকা বলেন, ‘আমরা খুবই অস্থায়ী ভিত্তিতে ময়লা ফেলছি। আমরা খাস জমি খুঁজছি নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড করার জন্য। এরমধ্যেই সরকার এ বিষয়ে আমাদের নিকট পত্র প্রেরণ করেছে। খাস জমি পেলে, পৌরসভা অথবা পৌরসভার বাইরে কাছাকাছি নিকটবর্তী এলাকায়, আমরা সেই খাস জমিটাকে নতুন ডাম্পিং গ্রাউন্ড হিসেবে ব্যবহার করবো এবং তখন মীরগঞ্জ ডাম্পিং গ্রাউন্ডটাকে আমরা ক্লোজ করে দেবো।’
পৌর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, শেরপুর পৌর শহরের ৯টি ওয়ার্ডে প্রতিদিন প্রায় ৩০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। যেখানে ১৫ টন বর্জ্য অষ্টমিতলার নিজস্ব ডাম্পিং স্টেশনে ফেললেও স্থান সংকুলান না হওয়ায় বাকি ১৫ টন বর্জ্য ফেলা হয় মৃগী নদীর তীরে।





