২২৫ বছরের প্রাচীন শহর বরিশাল, আর বিভাগের বয়স ৩৩ বছর। কিন্তু অন্য শহরের মত এখানে হয়নি তেমন শিল্পায়ন। সে কারণে বরিশাল বিভাগের শিক্ষিত তরুণদের কাজের জন্য রাজধানীসহ অন্য শহরে যেতে হচ্ছে।
২০২২ সালে পদ্মা সেতু চালুর আগে সড়ক পথে ঢাকা- বরিশাল রুটে দূরত্ব ছিলো ২৪২ কিলোমিটার। সেতু চালুর পর হয়েছে ১৬০ কিলোমিটার। সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে গোটা অঞ্চলে শিল্পায়ন হবে এমন ধারনা ছিল বরিশালবাসীর। কিন্তু আশানুরূপ শিল্পায়ন হয়নি বলে জানান এ ব্যবসায়ী নেতা।
বরিশাল চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি এবায়দুল হক চান বলেন, ‘পদ্মা সেতু কেন্দ্রিক বরিশাল তথা দক্ষিণাঞ্চলে কোনো শিল্পায়ন গড়ে ওঠেনি। এটির দুইটা কারণ, একটি হচ্ছে ফোর লেন, সিক্স লেন না থাকা আর গ্যাসের স্বল্পতা। এইটাই দুইটা মূল কারণ এই দক্ষিণাঞ্চলের শিল্পায়ন না হওয়া এবং উন্নতি না হওয়া।’
১৯৬০ সালে প্রায় ১৩১ একর জমির পর প্রতিষ্ঠিত শিল্পনগরীতে প্লটের সংখ্যা ৫৩০টি। ৬৬ বছর পর ১১২ টি প্লট এখনও খালি পড়ে আছে। পদ্মাসেতু চালুর পর বিসিকে নতুন শিল্প প্রতিষ্ঠান চালু হয়েছে মাত্র ১৫টি।
আরও পড়ুন:
বরিশাল বিসিকের উপ-মহাব্যবস্থাপক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, ‘পদ্মা সেতু হবার পরে বরিশালের বেশ কিছু উদ্যোক্তা বরিশাল বিসিকে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তার মধ্যে গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিও রয়েছে। তারা উৎপাদনে যাবার জন্য চেষ্টা করছেন, কিন্তু গ্যাস সংযোগ না থাকার কারণে এবং উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না হওয়ার কারণে তারা উৎপাদনে যেতে পারছেন না।’
শিল্পায়ন না হওয়ায় হতাশ খোদ কলকারখানা অধিদপ্তরও। অর্থনৈতিক অস্থিরতাসহ নানা বিষয়কে দায়ী করলেন এই কর্মকর্তা।
বরিশাল কলকারখানা অধিদপ্তরের উপ-মহাপরিদর্শক ডা. নবীন কুমার হাওলাদার বলেন, ‘বলা যেতে পারে অর্থনৈতিক অস্থিরতা, এছাড়াও উল্লেখযোগ্য হচ্ছে দক্ষ শ্রমিক ও কাঁচামালের অভাব, জলবায়ু ঝুঁকি এবং অবকাঠামোগত ঘাটতি।’
বরিশালসহ বিভাগের সবগুলো জেলাতে অর্থনীতির উন্নয়নের জন্য শিল্পায়ন দরকার। আর এজন্য সরকার ও উদ্যোক্তাদের আন্তরিক হতে হবে বলে মনে করেন এই অর্থনীতির বিশ্লেষক।
বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক জ্যোতির্ময় বিশ্বাস বলেন, ‘আমাদের দরকার সরকারের তরফ থেকে খুবই আন্তরিক একটি প্রচেষ্টা। কিছু ক্ষেত্রে ওয়ান স্টপ সার্ভিস চালু করা এবং একটি সমন্বিত উদ্যোগ। এছাড়াও ব্যক্তিগত পর্যায়ের উদ্যোক্তাদের এখানে আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসাটা অত্যন্ত দরকারি।’
কলকারখানা অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, বরিশাল বিভাগে বর্তমানে রেজিস্ট্রিকৃত কারখানার সংখ্যা ১ হাজার ৭৪টি। পদ্মাসেতু চালুর আগে এই সংখ্যাটা ছিল ৮২৪টি। সংখ্যার হিসেবে ২৫০টি প্রতিষ্ঠান নিবন্ধিত হয়েছে।




