‘মিত্রদের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয়’: ফিদান

তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান
তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার এবং এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কেনার আকাঙ্ক্ষার বিষয়ে শিগগিরই একটি ফলাফল অর্জনের আশা প্রকাশ করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। মিত্রদের মধ্যে প্রতিরক্ষা শিল্পে কোনো বিধিনিষেধ থাকা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তিনি। রয়টার্সের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটোর শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে আঙ্কারা সফরে যান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার তিনি ঘোষণা করেন, রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার কারণে তুরস্কের ওপর আরোপ করা মার্কিন নিষেধাজ্ঞা তুলে নেবেন তিনি।

রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম টিআরটি হাবেরকে দেয়া সাক্ষাৎকারে ফিদান বলেন, নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে আঙ্কারা ও ওয়াশিংটন উভয়েরই রাজনৈতিক ইচ্ছা রয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা এই বিষয়টি সমাধানের জন্য কাজ করছেন।

এস-৪০০ কেনার কারণে ২০২০ সালে ওয়াশিংটন ‘কাউন্টারিং আমেরিকাস অ্যাডভার্সারিজ থ্রু স্যাংশনস অ্যাক্ট (সিএএটিএসএ)’-এর অধীনে তুরস্কের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। একই সঙ্গে এফ-৩৫ স্টেলথ যুদ্ধবিমান কর্মসূচি থেকে আঙ্কারাকে বাদ দিয়েছিল। এফ-৩৫ কর্মসূচিতে পুনরায় যোগ দিতে হলে তুরস্ককে এস-৪০০-এর মালিকানা ছাড়তে হবে বলে মার্কিন কংগ্রেসে একটি আইন পাস হয়।

ফিদান বলেছেন, তুরস্ক-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কে দুটি বিষয় রয়েছে, যা মার্কিন আইনের অধীনে সমাধান করতে হবে। টিআরটিতে সম্প্রচারিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘সিএএটিএসএ তার একটি। এফ-৩৫ বিমানের বিষয়টি আরেকটি। ইনশাআল্লাহ, আমরা শিগগিরই একটি সমাধানে পৌঁছাব। অন্য কথায়, আমি মনে করি না যে এই বিষয়ে কোনো সমস্যা হবে।’

দুটি সূত্র এই সপ্তাহে রয়টার্সকে জানিয়েছিল, আঙ্কারা সফরের সময় ট্রাম্প এফ-৩৫ বিক্রির সম্ভাব্যতার প্রতি সমর্থন জানাতে পারেন। ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এই বিষয়ে ‘পুরোপুরি সিদ্ধান্ত নেননি’।

তুরস্কের দৈনিক পত্রিকা হুরিয়েত শুক্রবার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে, আঙ্কারায় এফ-৩৫ বিমান বিক্রি করতে যুক্তরাষ্ট্রকে রাজি করাতে তুরস্ক শুক্রবারই ঘোষণা দিতে পারে যে তারা এস-৪০০ ব্যবস্থা উপসাগরীয় অঞ্চলের কোনো একটি দেশের কাছে বিক্রি করছে।

গণমাধ্যমের এই প্রতিবেদন এবং তুরস্ক এই ধরনের চুক্তির জন্য রাশিয়ার অনুমতি চেয়েছে কি না, শুক্রবার এই বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, মস্কো আঙ্কারার সঙ্গে এই ‘অত্যন্ত স্পর্শকাতর ইস্যুতে’ যোগাযোগ রেখেছে।

এএম