চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, দক্ষিণ গাজার খান ইউনিসের মাওয়াসি এলাকায় ইসরাইলি বিমান হামলায় এক ব্যক্তি নিহত ও দুই শিশু আহত হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী রয়টার্সকে জানিয়েছে, তারা এক হামাস যোদ্ধাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালিয়েছে।
মঙ্গলবার শেষের দিকে গাজা সিটির পশ্চিমে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর একটি তাঁবু শিবিরের কাছে আরেকটি ইসরাইলি বিমান হামলা হয়। এতে একজন নিহত ও পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন। এছাড়া খান ইউনিসে তৃতীয় আরেকটি বিমান হামলায় একজন নিহত ও তিনজন আহত হন। শেষোক্ত দুটি হামলার বিষয়ে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
গত বছরের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকে ইসরাইল গাজায় বারবার হামলা চালিয়ে আসছে। ইসরাইলের দাবি, তারা সেসব যোদ্ধাদের লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে যারা তাদের বাহিনীর জন্য হুমকি অথবা ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরাইলে হামলায় অংশ নিয়েছিল।
হামাস ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। অন্যদিকে গাজা উপত্যকায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নিযুক্ত শান্তি দূত নিকোলে ম্লাদেনভ বলেছেন, উভয় পক্ষই চুক্তি লঙ্ঘন করেছে।
দুই পক্ষের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, আট মাস আগে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে গাজায় ১ হাজার ৭০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে অনেকেই বেসামরিক নাগরিক। এছাড়া চার ইসরাইলি সেনাও নিহত হয়েছেন। তবে হামাস তাদের কতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে সেই সংখ্যা প্রকাশ করেনি।
বর্তমানে গাজার ৬০ শতাংশের বেশি এলাকা ইসরাইলি সেনাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু এই এলাকাটিকে হামাসের হামলা ঠেকাতে একটি ‘বাফার জোন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইসরাইল এই ভূখণ্ড থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না।
গাজায় ইসরাইলের ধ্বংসাত্মক বিমান ও স্থল হামলায় প্রায় ২০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। যাদের অধিকাংশ এখন হামাস নিয়ন্ত্রিত উপকূলীয় অঞ্চলের সরু উপত্যকায় তাঁবু বা ক্ষতিগ্রস্ত ভবনে বসবাস করছে।





