স্ত্রীকে হত্যা করে ‘নিখোঁজ নাটক’; জিডি করতে গিয়ে ধরা

বাড়ির উঠান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার; পুলিশি হেফাজতে আসামি
বাড়ির উঠান খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার; পুলিশি হেফাজতে আসামি | ছবি: এখন টিভি
0

মৌলভীবাজারের রাজনগরে স্ত্রীকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে ‘নিখোঁজ নাটক’ সাজাতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন স্বামী আলমগীর হোসেন। নিজের করা সাধারণ ডায়েরি (জিডি) আর অসংলগ্ন কথাবার্তাই শেষ পর্যন্ত তার গ্রেপ্তারের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

আজ (সোমবার, ৬ জুলাই) দুপুরে উপজেলার মুন্সীবাজার ইউনিয়নের করিমপুর চা বাগান এলাকায় আলমগীরের বাড়ির উঠান খুঁড়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে তার স্ত্রী জাহেদা বেগমের অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

এ ঘটনায় আলমগীর হোসেন এবং তাকে সহায়তার অভিযোগে চাচাতো ভাই মোহাম্মদ জালালকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ১২ বছর আগে পরিবারের অমতে ভালোবেসে বিয়ে করেছিলেন জাহেদা ও আলমগীর। তবে দীর্ঘদিন ধরেই তাদের মধ্যে দাম্পত্য কলহ চলছিল। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, পারিবারিক কলহের জেরে গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে (তথ্যানুযায়ী ১৭ থেকে ২০ জুনের মধ্যে কোনো এক রাতে) আলমগীর হোসেন তার স্ত্রী জাহেদা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। হত্যার পর ঘটনাটি গোপন রাখতে গভীর রাতে বসতবাড়ির উঠানের একপাশে প্রায় আট ফুট গভীর গর্ত খুঁড়ে মরদেহ মাটিচাপা দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পর নিহতের পরিবার ও প্রতিবেশীদের সন্দেহ এড়াতে পরিকল্পিতভাবে নতুন নাটক সাজান আলমগীর। জাহেদার বাবা আব্দুল হান্নানের দাবি, ঘটনার পর আলমগীর তাদের জানিয়েছিলেন যে জাহেদা কাজের উদ্দেশে গোপনে সৌদি আরব চলে গেছেন। কিন্তু বেশ কয়েকদিন ধরে মেয়ের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পারায় পরিবারের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় এবং তারা থানায় অভিযোগ করেন।

আরও পড়ুন:

অন্যদিকে, নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ প্রমাণ করতে ও পুলিশকে বিভ্রান্ত করতে আলমগীর নিজেই গত ৩ জুলাই রাজনগর থানায় গিয়ে স্ত্রী নিখোঁজ হওয়ার দাবি জানিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার চেষ্টা করেন। তিনি থানায় দাবি করেন, তার স্ত্রী কাউকে না জানিয়ে গোপনে বিদেশে চলে গেছেন।

থানায় জিডি করতে গিয়ে আলমগীরের অসংলগ্ন কথাবার্তা ও অস্বাভাবিক আচরণে কর্তব্যরত পুলিশ কর্মকর্তার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে তাকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে একপর্যায়ে তিনি ভেঙে পড়েন এবং স্ত্রীকে হত্যার পর উঠানে পুঁতে রাখার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়ে অপরাধ স্বীকার করেন।

আজ (সোমবার, ৬ জুলাই) দুপুরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজনগর থানা পুলিশ ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মাটি খুঁড়ে জাহেদা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মনিরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অভিযুক্ত আলমগীর ও তার চাচাতো ভাই জালালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে পারিবারিক কলহের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় অন্য কেউ জড়িত আছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

পুলিশ আরও জানিয়েছে, নিহতের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় রাজনগর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এসএইচ