বিশ্বনেতাদের বরণ করে নিতে যখন প্রস্তুত তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারা; তখন শহরের আরেক প্রান্তে কমিউনিস্ট পার্টি অব তুর্কি বা টিকেপির ডাকে ন্যাটোবিরোধী আন্দোলনে যোগ দেন কয়েকশো মানুষ।
ন্যাটো খুনি সংগঠন, জোটটির কোনো লক্ষ্য নেই, এমন প্রতিবাদী স্লোগান, প্ল্যাকার্ড ও লাল পতাকা হাতে আঙ্কারার রাস্তায় নামেন বিক্ষোভকারীরা।
বিক্ষোভকারীরা জানান, ন্যাটোর অপরাধ সুস্পষ্ট। তারা তুরস্কেও অনেক অপরাধ সংঘটিত করেছে। তবে নির্লজ্জভাবে সরকার এই জোটের নেতাদের আতিথেয়তা দিচ্ছে।
ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, গোপন ও প্রকাশ্য অভিযান মিলিয়ে বিভিন্ন দেশের হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর জন্য দায়ী ন্যাটো।
একপর্যায়ে পুলিশ আন্দোলনকারীদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে চাইলে, শুরু হয় উত্তেজনা। পরে লাঠিচার্জ ও পিপার স্প্রে নিক্ষেপ করে পুলিশ। আটক করা হয় শতাধিক আন্দোলনকারীকে। এছাড়াও, ন্যাটোবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছে ইস্তানবুলেও।
এদিকে, মঙ্গলবার শুরু হতে যাওয়া ৩৬তম ন্যাটো সম্মেলন ঘিরে পুরোপুরি প্রস্তুত আঙ্কারা। নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে মূল অনুষ্ঠানস্থল ন্যাশনস লাইব্রেরি অব প্রেসিডেন্সি।
২ দিনের সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ছাড়াও যোগ দেবেন জোটভুক্ত ৩২ দেশের নেতারা। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলো বলছে, এবারের সম্মেলন থেকে বড় সিদ্ধান্ত আসার তেমন সম্ভাবনা না থাকলেও, ইরান যুদ্ধ ঘিরে ন্যাটোর সঙ্গে যে বৈরিতা সম্পর্ক তৈরি হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের, তা কমাতে উদ্যোগ নেবে জোটের শীর্ষ নেতৃত্ব। পাশাপাশি ১৯৪৯ সালে অনুচ্ছেদ পাঁচ এর আওতায় স্বাক্ষরিত প্রতিরক্ষা চুক্তি মেনে চলার বিষয়ে সদস্য রাষ্ট্রগুলো নিজেদের অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করতে পারেন। ধারা অনুযায়ী, জোটভুক্ত একটি দেশে আক্রমণ হলে; তা অন্য সব দেশের ওপর আক্রমণ বলে বিবেচিত হবে।
এছাড়াও, এবারের আলোচনার টেবিলে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যয়, ইউক্রেন যুদ্ধ, মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত ও হরমুজ প্রণালিতে নিরাপদ জাহাজ চলাচলের মতো বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হবে।





