মালির সশস্ত্র বাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, উত্তরের আনেফিস, আগেলহক ও গাও, মধ্যাঞ্চলের সেভারে এবং দক্ষিণের কেনিওরোবা শহরে সেনাবাহিনীর অবস্থান লক্ষ্য করে হামলাগুলো চালানো হয়। সেনারা এসব হামলা প্রতিহত করেছে এবং পরিস্থিতি ‘পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে’ রয়েছে বলে দাবি করা হয়। বিবৃতি অনুযায়ী, সেভারেতে ২০ জন এবং গাওয়ে ৬ জন ‘সন্ত্রাসী’ নিহত হয়েছে। গাওয়ে সরকারপন্থি এক যোদ্ধা নিহত ও আরও চারজন আহত হয়েছেন।
তুয়ারেগ নেতৃত্বাধীন বিদ্রোহী গোষ্ঠী আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) মুখপাত্র মোহাম্মদ এলমাওলুদ রামাদানে জানান, শনিবারের হামলায় তারা জড়িত। গত এপ্রিলে গোষ্ঠীটি আল-কায়েদার আঞ্চলিক শাখা জামায়াত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল মুসলিমিনের (জেএনআইএম) সঙ্গে যৌথভাবে বামাকো বিমানবন্দরে হামলা চালিয়ে প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে হত্যা করেছিল। তবে শনিবারের হামলার দায় তাৎক্ষণিকভাবে জেএনআইএম স্বীকার করেনি।
এফএলএর মুখপাত্র জানান, তাদের যোদ্ধারা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কিদাল অঞ্চলের আনেফিস শহরে প্রবেশ করেছে। কৌশলগত কিদাল শহর থেকে বিতাড়িত হওয়ার পর এপ্রিলের হামলার পরই সরকারি ও রুশ সেনারা সেখানে মোতায়েন হয়েছিল। তবে রয়টার্স স্বাধীনভাবে এই দাবি যাচাই করতে পারেনি।
গাও শহরের এক স্থানীয় কর্মকর্তা জানান, ভোর হওয়ার আগে থেকেই একটি সেনাশিবির লক্ষ্য করে গোলাগুলি ও রকেট হামলা চলছিল। তবে এর পেছনে কারা রয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। গাওয়ের এক বাসিন্দা বলেন, ‘আজ সকালে কেউ বের হতে পারেনি। মালির সশস্ত্র বাহিনী সব সড়ক বন্ধ করে দিয়েছে। আমরা ঘরের ভেতরে আছি। বিস্ফোরণের শব্দ এতটাই ভয়ংকর ছিল, মনে হচ্ছিল ছাদ ভেঙে পড়বে।’
সেভারের এক বাসিন্দা রয়টার্সকে জানান, ভোরের দিকে গোলাগুলির পর স্থানীয় সময় সকাল ৮টার দিকে শহরের পশ্চিমাংশে চারটি বড় বিস্ফোরণ ঘটে। সকাল ১০টার দিকে আরও ভারী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। নিরাপত্তার কারণে সূত্রগুলো নাম প্রকাশ না করার শর্তে কথা বলেছে।
কেনিওরোবা শহরে মালির রাজনৈতিক বিরোধী দলের সদস্যদের বন্দি করে রাখা একটি কারাগার রয়েছে। এক কূটনৈতিক ও এক নিরাপত্তা সূত্র জানিয়েছে, কারাগারটিতে হামলা হয়েছে; তবে একজনের ভাষ্যমতে, নিরাপত্তা বাহিনী হামলাকারীদের হটিয়ে দিয়েছে। সরকারের এক মুখপাত্র তাৎক্ষণিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করেননি।
এই হামলাগুলো মালির সামরিক নেতৃত্বের ব্যর্থতাকেই সামনে এনেছে। ২০২০ ও ২০২১ সালে দুই দফা অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা এই নেতৃত্ব উন্নত নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা পূরণ করতে পারেননি। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে বামাকো বিমানবন্দরের কাছে একটি আধা-সামরিক পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে জেএনআইএমের হামলায় প্রায় ৭০ জন নিহত হন। সম্প্রতি গোষ্ঠীটির জ্বালানি অবরোধের কারণে রাজধানীর বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও রসদ সংকটে পড়েছেন।
সাম্প্রতিক সময়ে মালির সরকার ওয়াশিংটনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র নিরাপত্তা সহযোগিতা পুনরায় শুরু করা এবং খনিজ সম্পদে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজছে। অন্যদিকে, রাশিয়ার ‘আফ্রিকা কোর’ বাহিনী মালি সরকারের পক্ষে লড়ছে। এপ্রিলের হামলার পর মস্কো মালির পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে। প্রতিবেশী বুর্কিনা ফাসো ও নাইজারেও জিহাদি সহিংসতা চলছে; মালির মতো এই দেশগুলোও নিরাপত্তা সহায়তার জন্য রাশিয়ার দিকে ঝুঁকেছে।





