‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বলা ইকবালসহ ৬ পুলিশ কর্মকর্তা বরখাস্ত

বাংলাদেশ পুলিশের লোগো
বাংলাদেশ পুলিশের লোগো | ছবি: এখন টিভি
0

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় ‘গুলি করি, মরে একটা, বাকিডি যায় না’ বক্তব্য দিয়ে আলোচিত ডিএমপির ওয়ারী বিভাগের সাবেক উপকমিশনার মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইনসহ ছয় পুলিশ কর্মকর্তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেছে সরকার।

আজ (বুধবার, ১২ আগস্ট) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ছয়টি পৃথক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাদের বরখাস্তের আদেশ জারি করে। প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বিনা অনুমতিতে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় তাদের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’র অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এছাড়া দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

বরখাস্ত হওয়া অন্য পাঁচ কর্মকর্তা হলেন—ডিএমপির উত্তরা বিভাগের সাবেক উপকমিশনার কাজী আশরাফুল আজীম, সাবেক যুগ্ম কমিশনার বিপ্লব কুমার সরকার ও সুদীপ কুমার চক্রবর্তী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. গোলাম রুহানী এবং কক্সবাজারের উখিয়ায় ৮ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রাজন কুমার দাস।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেদিন থেকে অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন, সেদিন থেকেই তাদের চাকরিচ্যুতি কার্যকর হবে।

ইকবাল হোসাইনের ক্ষেত্রে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, তিনি ২০২৪ সালের ২৮ আগস্ট থেকে কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত। তার বর্তমান ও স্থায়ী ঠিকানা এবং ই-মেইলে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে কর্মস্থলে ফেরানো যায়নি। বিভাগীয় মামলায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয়া হলেও তিনি কোনো জবাব দেননি। তদন্তে তার বিরুদ্ধে ‘পলায়নের’ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় চাকরি থেকে বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

আরও পড়ুন:

এর আগে একই অভিযোগে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই ইকবাল হোসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছিল সরকার।

যে বক্তব্যে আলোচনায় ইকবাল

২০২৪ সালের জুলাইয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে হতাহতের ঘটনা নিয়ে তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে কথা বলার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ৪৩ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে ইকবাল হোসাইনকে গুলি করে মানুষ মারা ও আহত হওয়ার বিষয়ে মন্তব্য করতে শোনা যায়।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে তার ওই বক্তব্য বা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাকে চাকরিচ্যুতির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়নি। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা বা ‘পলায়ন’র অভিযোগেই তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

অন্য কর্মকর্তাদের ক্ষেত্রেও বিভাগীয় তদন্তে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। কাজী আশরাফুল আজীম ও রাজন কুমার দাসের বিরুদ্ধে ‘পলায়ন’র পাশাপাশি ‘অসদাচরণের’ অভিযোগও প্রমাণিত হয়েছে।

এসএস