মার্কিন বাহিনী কমালেও সক্ষমতা বেড়েছে ইউরোপের, দাবি ন্যাটোর

ন্যাটো পতাকা ঠিক করছেন উত্তর মেসিডোনিয়ার এক সেনাসদস্য
ন্যাটো পতাকা ঠিক করছেন উত্তর মেসিডোনিয়ার এক সেনাসদস্য | ছবি: সংগৃহীত
0

ইউরোপে যুদ্ধের আশঙ্কায় প্রণীত উদ্ধার পরিকল্পনাগুলো থেকে যুক্তরাষ্ট্র তাদের সামরিক শক্তি বা সম্পদের যে কর্তন করেছে, ইউরোপীয় দেশগুলো তার বেশিরভাগই পূরণ করতে সক্ষম হয়েছে। ন্যাটোর ডেপুটি সুপ্রিম অ্যালাইড কমান্ডার ইউরোপ জন স্ট্রিংগার ব্লুমবার্গ টেলিভিশনকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। স্ট্রেইটটাইমসের প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

আগামী সপ্তাহে আঙ্কারায় ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এর আগে এই আশ্বাস দিলেন স্ট্রিংগার। সম্প্রতি ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইউরোপ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়ার বা শক্তি কমানোর যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, শীর্ষ সম্মেলনে তা নিয়ে উদ্ভূত উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করবেন মিত্ররা।

স্ট্রিংগার বলেন, ‘ইউরোপীয় মিত্ররা অবশ্যই ইউরোপে মার্কিন বাহিনীর পরিবর্তনের ফলে সৃষ্ট শূন্যতা পূরণে এগিয়ে এসেছে।’ এটি ‘শক্তিশালী ন্যাটোর অধীনে একটি শক্তিশালী ইউরোপের’ বহিঃপ্রকাশ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র জানায়, যুদ্ধ বা সংকটের সময় ইউরোপে তারা যে পরিমাণ সেনা পাঠাতো, তাতে বড় ধরনের কাটছাঁট করা হবে। এরপরই ন্যাটোর সামরিক কমান্ড ইউরোপীয় দেশগুলোকে তাদের অপ্রকাশিত সামরিক শক্তির বিবরণ দিতে অনুরোধ করে। স্ট্রিংগার জানান, যেসব ক্ষেত্রে ইউরোপ যুক্তরাষ্ট্রের সমপরিমাণ শক্তি দিতে পারবে না, সেখানে ভিন্ন ধরনের সরঞ্জাম বা সম্পদের মাধ্যমে সেই প্রভাব বজায় রাখার চেষ্টা করা হবে। তার মতে, সামরিক যুক্তির ওপর ভিত্তি করেই এই ‘বোঝা ভাগ করে নেয়ার’ কাজটি ভারসাম্যপূর্ণভাবে করা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউসে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রত্যাবর্তনের পর ন্যাটোর প্রতি তার আক্রমণাত্মক অবস্থান মিত্রদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। গত জুনে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইউরোপে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ওপর ছয় মাসের পর্যালোচনার ঘোষণা দিয়ে মিত্রদের চমকে দিয়েছিলেন, যা আরও সেনা হ্রাসের ইঙ্গিত বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ন্যাটোর সামরিক কমান্ডের মুখপাত্র কর্নেল মার্টিন ও’ডোনেল বলেন, আকাশ ও সমুদ্রসীমায় ইউরোপীয়রা তাদের সক্ষমতা ১০০ শতাংশের ওপর নিয়ে গেছে। এমনকি কিছু ক্ষেত্রে ইউরোপের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়েও উন্নত যুদ্ধসরঞ্জাম রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে তিনি বুলগেরিয়ার পেতে যাওয়া এফ-১৬ যুদ্ধবিমানের কথা উল্লেখ করেন।

সম্প্রতি প্রতিরক্ষা বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকার অভিযোগে ব্রিটিশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী জন হিলি পদত্যাগ করেছেন। এ প্রসঙ্গে স্ট্রিংগার বলেন, ন্যাটোর ৩২টি সদস্য দেশই ২০৩৫ সালের মধ্যে তাদের জিডিপির ৩.৫ শতাংশ প্রতিরক্ষা খাতে ব্যয় করতে সম্মত হয়েছে। এখানে কারও ছাড় পাওয়ার সুযোগ নেই। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ন্যাটো আশা করে ব্রিটেনসহ সব দেশ তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করবে।

এএম