মার্কিন নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগে জাপানে তেল রপ্তানির পরিকল্পনা ইরানের

ইরানের তেল ডিপো
ইরানের তেল ডিপো | ছবি: সংগৃহীত
0

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে জাপানে তেল বিক্রির পরিকল্পনা নিয়েছে ইরান। এ বিষয়ে ইতিমধ্যে জাপানি বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে সম্ভাব্য জাপানি ক্রেতারা এই ছাড়ের মেয়াদ দীর্ঘায়িত করার পাশাপাশি জাহাজ চলাচলের নিরাপত্তার বিষয়ে নিশ্চয়তা চাইছেন। ইরানি ও পশ্চিমা কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্স এই তথ্য জানিয়েছে।

গত ২২ জুন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে ৬০ দিনের শান্তি আলোচনার অংশ হিসেবে এই বিশেষ ছাড় বা ওয়েভার দেয়া হয়। এর মেয়াদ শেষ হবে আগামী ২১ আগস্ট। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, জাপানের তিনটি কোম্পানি ইরান থেকে অপরিশোধিত তেল কেনার বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। ২০১৯ সালের পর জাপান আর ইরান থেকে সরাসরি তেল কেনেনি। ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক চুক্তি থেকে বেরিয়ে আসার পর জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ভারত এবং ইউরোপীয় দেশগুলো ইরানি তেল কেনা বন্ধ করে দেয়। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনই ছিল ইরানি তেলের প্রধান ক্রেতা।

ইরানের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ইরান ও জাপানের মধ্যে জাহাজ চলাচলের দীর্ঘ সময়ের কথা বিবেচনা করে যুক্তরাষ্ট্রকে বর্তমান ছাড়ের মেয়াদ বাড়াতে হবে। তিনি বলেন, তেলের চালান ইরানের খার্গ দ্বীপ থেকে বোঝাই করা হবে এবং তা পরিবহনে জাপানি ট্যাংকার ব্যবহার করা হবে। ইরানের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি এনআইওসি তাদের পুরনো ক্রেতাদের কাছে এরই মধ্যে বার্তা পাঠিয়েছে যে, শান্তি চুক্তি চূড়ান্ত হলে এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হলে তারা যেন আবার তেল কেনা শুরু করেন। জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয় (মেটি) এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

তবে এই বাণিজ্য প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে হরমুজ প্রণালির ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি ও ট্যাংকারের বিমার সমস্যা। গত সপ্তাহে ইরানি বাহিনী এই প্রণালিতে একটি কনটেইনার জাহাজে হামলা চালিয়েছে। বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই পথ দিয়ে চলাচলকারী প্রতিটি জাহাজকে তাদের অনুমতি নিতে হবে। জাতিসংঘের নৌপরিবহন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, এই জলপথে এখনো প্রায় ৮০টি ভাসমান মাইন রয়েছে। একটি বড় জাপানি তেল শোধনাগারের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে বিমা সুবিধা পাওয়াটাই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

এএম