ডিজেলের ব্যবহার কমিয়ে কৃষিতে সাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব সেচ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দিনাজপুরে সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে স্থাপন করা হয়েছে শত শত সৌরচালিত সেচ পাম্প। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, জেলায় বর্তমানে রয়েছে প্রায় ৪৪০টি সৌরচালিত সেচ পাম্প।
তবে বাস্তব চিত্র বলছে, শুধু সূর্যের আলোর ওপর নির্ভর করে সব সময় সেচ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। সন্ধ্যা নামলে কিংবা আকাশ মেঘলা থাকলে কমে যায় বিদ্যুৎ উৎপাদন। এতে ব্যাহত হয় পানির সরবরাহ। ফলে অনেক কৃষককে নির্ভর করতে হচ্ছে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুতের ওপর।
একজন কৃষক বলেন, ‘এ সোলার দিয়ে আমরা সমস্যা সমাধান করতে পারি না। এখন আমাদের আমাদের পল্লী বিদ্যুৎ প্রয়োজন। পল্লী বিদ্যুৎ ছাড়া তো হচ্ছে না।’
আরও পড়ুন
এ সীমাবদ্ধতা কাটাতে অনেক সৌরচালিত পাম্পে যুক্ত করা হয়েছে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সংযোগ। রোদ থাকলে চলে সৌরশক্তিতে, আর প্রয়োজন হলে বিদ্যুতে চালানো হয় মোটর। এতে নিরবচ্ছিন্নভাবে সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। পাম্প পরিচালকদের দাবি, বোরো মৌসুমে কৃষকদের চাহিদা মেটাতে দিনরাত সেচ দিতে হয়। তাই শুধু সৌরশক্তির ওপর নির্ভর করলে অনেক সময় সেই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হয় না।
বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন - বিএডিসির তথ্য অনুযায়ী, দিনাজপুর অঞ্চলে তাদের পরিচালিত ৪৯টি সৌরচালিত সেচ পাম্পের মধ্যে বর্তমানে ৪টি অচল রয়েছে। বাকি ৪৫টি পাম্পের মাধ্যমে প্রায় ৬৯৫ হেক্টর জমিতে সেচ দেওয়া হচ্ছে। অন্যদিকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও ও পঞ্চগড়—এ তিন জেলায় রয়েছে মোট ৮২৭টি সৌরচালিত সেচ পাম্প। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি, প্রায় ৪৪০টি পাম্পই রয়েছে দিনাজপুরে। তবে, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতার পাশাপাশি নিরাপত্তার বিষয়টিও বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
একজন কৃষক বলেন, ‘সোলার প্যানেল চুরি হওয়ার কারণে আমাদের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে। কৃষকেরা অনেক ভোগান্তিতে আছে। আমরা সময়মতো সেচ দিতে পারছি না। বিদ্যুৎ জ্বালানির অনেক ঘাটতি, এজন্য কৃষকদের অনেক সমস্যা হচ্ছে।’
সংশ্লিষ্টদের মতে, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ, পর্যাপ্ত নিরাপত্তা এবং প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বাড়ানো গেলে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানো সম্ভব হবে।




