দুই বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ, বেড়েছে লোডশেডিংয়ের দুর্ভোগ

বিদ্যুৎকেন্দ্র
বিদ্যুৎকেন্দ্র | ছবি: এখন টিভি
0

তীব্র লোডশেডিংয়ে নাজেহাল দেশের নানাপ্রান্তের মানুষ। সম্প্রতি দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন বন্ধ হওয়ায় প্রতি ঘণ্টায় ২ হাজারেরও বেশি মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিংয়ে ভুগতে হচ্ছে গ্রাহকদের। জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজাতে হবে। পাশাপাশি সংকট মোকাবিলায় সরকারের প্রশাসনিক সক্ষমতা বাাড়নোর পক্ষেও মত তাদের।

গ্রীষ্মকাল পেরিয়ে বর্ষা আসায় কিছুটা কমেছে সূর্যের খরতাপ। কিন্তু তারপরও কমছে না লোডশেডিং। তাপমাত্রার পারদ চড়লেই পাল্লা দিয়ে বাড়ে বিদ্যুতের আসা-যাওয়া। দিনের বেলায় যখন বিদ্যুতের চাহিদা থাকে তুঙ্গে তখন দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট।

বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলে সুখবর নেই বিদ্যুৎ নিয়ে। কোথাও কোথাও বিদ্যুতের দাবিতে আন্দোলন-অবরোধেও নেমেছে সাধারণ গ্রাহকরা। এমন বাস্তবতায় গেল কয়েকদিন ধরে রাজধানীর অদূরে সাভার, আশুলিয়াতেও চলছে বিদ্যুতের লুকোচুরি খেলা। ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে চরম ভোগান্তিতে এলাকাবাসী।

স্থানীয়রা জানান, এই এলাকায় প্রায় সময় বিদ্যুৎ থাকে না। কিন্তু উত্তরায় বিদ্যুৎ থাকে। বিদ্যুৎ না থাকায় তাদের ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছেন বলেন তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনে ও রাতে কয়েক দফা লোডশেডিংয়ে ব্যাহত হচ্ছে বাসাবাড়ি, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের স্বাভাবিক কার্যক্রম। উৎপাদন সংকটে ছোট ছোট শিল্পোদ্যোক্তারা। নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে আর্থিক খাতেও।

আরও পড়ুন

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৩০ হাজার মেগাওয়াটের কাছাকাছি হলেও ১৬ থেকে ১৭ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা মেটাতেই হিমশিম অবস্থা বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবির। পরিস্থিতি সামাল দিতে ঘণ্টা প্রতি ২ হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

পিজিসিবির তথ্য বলছে, দুটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন বন্ধের কারণে গেল রোববার দিনের বেলা সর্বোচ্চ লোডশেডিং হয়েছে ২ হাজার ৮৮৮ মেগাওয়াট। আর মধ্যরাতে লোডশেডিং ছিলো ২ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট। তবে একদিনের ব্যবধানে একই সময়ে লোডশেডিং কমে দাঁড়ায় ২০১ মেগাওয়াটে।

এদিকে, তথ্য বলছে, বুধবার দুপুরে ১৪ হাজার ৮২৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হয়েছে ১৪ হাজার ৩২৪ মেগাওয়াট। অর্থাৎ লোডশেডিং ছিল ৫০৪ মেগাওয়াট।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জ্বালানি সংকটে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তাই লোডশেডিংয়ের চাপ কমাতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনাকে ঢেলে সাজানোর পরামর্শ তাদের। পাশাপাশি লোডশেডিং মোকাবিলা ও অতীতের সরকারগুলোর ব্যর্থতা ঘোচাতে দীর্ঘ ও মধ্যমেয়াদী পরিকল্পনা নেয়ার দাবি তাদের।

আরও পড়ুন

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ বলেন, ‘এই লোডশেডিংকে কমানোর আর একটাই উপায় আছে, সেটা হচ্ছে যে ডিমান্ডটাকে ম্যানেজ করা। যেমন যেখানে বেশি ডিমান্ড হচ্ছে সেখানে একটু ফোর্স করা যে বন্ধ করা, যেরকম শপিং মার্কেট, শপিং মল। তো জ্বালানির জোগানটাও ঠিক রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের ক্যাপাসিটি চার্জের যেই বার্ডেনটা, হ্যাঁ, যেটা মূল, সেটা হচ্ছে গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র। যেগুলি ৬০০০ মেগাওয়াট আমরা বসায়ে রেখেছি। ওগুলা তো গলায় একটা ফাঁস হয়ে রয়ে গেছে।’

বিদ্যুৎ খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গ্রাম ও শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহের বৈষম্যে অসন্তোষ বাড়ছে গ্রাহকদের মাঝে। বিদ্যুৎ প্রাপ্তিতে নায্যতা নিশ্চিতে শহর ও গ্রামাঞ্চলে লোডশেডিং সহনীয় পর্যায়ে রাখতে সরকারকে উদ্যোগ নেয়ার পরামর্শ তাদের।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ শামসুল আলম বলেন, ‘সরকারের যে প্রশাসনিক যন্ত্র আছে, তারা ব্যবসা করতে শিখেছে, তারা মানুষের সেবা করতে শেখেনি। জ্বালানি সরবরাহ করার জন্য দরকার সরকারের ডলার, অর্থাৎ সরকারের আর্থিক সক্ষমতা। সিংহভাগ জ্বালানির জন্যই আমরা বিদেশি জ্বালানির উপর নির্ভরশীল, আমদানিকৃত জ্বালানির উপর নির্ভরশীল। আমরা বিদ্যুৎও আমদানি করি। এ আমদানি ব্যয় অর্থাৎ ডলার সংকট করার সক্ষমতা সরকারের সীমাবদ্ধতা, সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।’

ক্যাপাসিটি চার্জ দিয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র অলস বসিয়ে রেখে বাড়তি ভ্যাট-ট্যাক্স কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ খাতের সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক সক্ষমতা বাড়াতে সরকারকে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

জেআর