কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মারকুইস স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট, পার্ক স্ট্রিটসহ প্রায় অর্ধশত ছোট-বড় সড়কের পাশে গড়ে উঠেছে হাজারের বেশি আবাসিক হোটেল। শুধু বাংলাদেশি পর্যটকদের কথা মাথায় রেখেই এসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠে। তবে দীর্ঘ দুই বছর ধরে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন কলকাতার ব্যবসায়ীরা।
গেলো বৃহস্পতিবার বাংলাদেশিদের জন্য আবারও ভিসা চালুর ঘোষণা দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। এমন খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্বস্তি নেমে এসেছে কলকাতার ব্যবসায়ীদের মধ্যে। তাদের আশা, আবারও বাংলাদেশি পর্যটকে মুখর হবে কলকাতা শহর। গতি ফিরবে নিউমার্কেট এলাকার ব্যবসায়।
ব্যবসায়ীদের একজন বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে চিকিৎসার জন্য মানুষ এদেশে আমেসন। দীর্ঘদিন এখানে অবস্থান করেন। ফলে কেনাকাটার জন্য আমাদের বাণিজ্যিকটি ও পর্যটন দিকটি শক্তিশালী হয়।’
হোটেল মালিকদের একজন বলেন, টুরিস্ট আসলে ব্যবসা হয়। ব্যবসা ভালো হয়।
আরও পড়ুন:
ভিসা প্রক্রিয়া স্বাভাবিক হলে পরিবহন, হোটেল-মোটেলসহ পর্যটন খাতে জড়িত সব ধরনের ব্যবসার সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। শুধু পর্যটনের উদ্দেশে নয়, কেনাকাটা, চিকিৎসাসহ নানা কাজে নিয়মিতভাবেই কলকাতায় যাওয়া-আসা করেন বাংলাদেশিরা। পর্যটক ভিসা বন্ধ থাকায় মন্দায় পড়ে অনেক ব্যবসা।
ব্যবসায়ীদের অন্য আরেকজন বলেন, ‘আমরা বাংলাদেশি ক্রেতাদের ওপরেই বেশি নির্ভর করি। এখন মেডিসিন বিক্রি কমে গেছে। কসমেটিক্স বিক্রিও কমে গেছে। আমরা চায় তাদের যেন ভিসা দেয়। তাহলে সবার জন্যেই ভালো হবে’
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতারা বলছেন, হোটেল বুকিং ও কেনাকাটা বাড়ার মাধ্যমে আবারও গতি ফিরবে স্থানীয় অর্থনীতিতে। এরই মধ্যে ব্যস্ততা বেড়েছে ব্যবসায়ীদের। সবার আশা বাংলাদেশি পর্যটকে আবারও মুখর হবে কলকাতার নিউমার্কেট।
স্থানীয় ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতাদের একজন বলেন, ‘আমি আহ্বান করবো টুরিস্টদের সঙ্গে যেন তারা ভালো ব্যবহার করে। যেন এ অঞ্চল যেন আবার আগের মতো হয়।’
বাংলাদেশি পর্যটকের অভাবে প্রায় দুই বছর ধরে কার্যত ধুঁকতে থাকে কলকাতার পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসা খাত। অনেকেই ব্যবসা ছেড়ে বিকল্প আয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বহু মানুষ। পরিবহনের অফিস বদলে হয়েছে কাপড়ের দোকান।
শুধু নিউমার্কেটই নয়, একই চিত্র ভারত-বাংলাদেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর পেট্রাপোলেও। মূলত বাংলাদেশি পর্যটকদের ওপর ভর করে সীমান্তে গড়ে উঠেছে হোটেল, রেস্তোরাঁ, ট্রাভেল এজেন্সিসহ বেশকিছু বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় কেন্দ্র। যেখানে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত কয়েক হাজার কর্মী।
ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ভারতে যাওয়া বিদেশি পর্যটকদের মধ্যে বাংলাদেশিদের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। ওই বছর রেকর্ড প্রায় ২২ লাখ বাংলাদেশি ভারত ভ্রমণ করেছেন। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা নেমে আসে মাত্র সাড়ে ৪ লাখে।




