হিটওয়েভের হটস্পট হয়ে উঠেছে ইউরোপ। ৩৫ থেকে ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠানামা করা তাপমাত্রার পারদে পুড়ছে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, ইতালিসহ ইউরোপের প্রায় সব দেশ। বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল।
রাস্তায় বসবাসকরা অভিবাসীদের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা হয়ে হানা দিয়েছে তীব্র গরম। সবচেয়ে বিপাকে প্যারিসের রাস্তায় থাকা ছিন্নমূল অভিবাসীরা। সব মিলিয়ে তীব্র দাবদাহের হাত থেকে রক্ষায় হিমশিম খাচ্ছেন ইউরোপের কোটি কোটি মানুষ।
দাবদাহে নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে ফ্রান্সসহ বিভিন্ন দেশে পর্যটন ব্যবসায়। সময়ের অনেক আগেই আইফেল টাওয়ার বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রাত ১২টা ৪৫ মিনিটের পরিবর্তে বিকেল ৪টায় বন্ধ করে দেয়া হচ্ছে আকর্ষণীয় এই পর্যটন স্থানটি।
পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘ওরা খুব অস্বস্তিতে রয়েছে। এখান থেকে একটু পরেই চলে যাবো, কারণ খুব গরম। প্যারিস থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব চলে যাবো।’
আরও পড়ুন:
অন্য একজন বলেন, ‘সকাল ৮টা ৩০মিনিটে আইফেল টাওয়ার দেখতে এসেছিলাম। আমাদের সবচেয়ে ওপরের তলায় যাওয়ার ইচ্ছা ছিল। কিন্তু এত গরম যে ওপরের তলাটি বন্ধ। এটা খুবই দুঃখজনক।’
শুধু আইফেল টাওয়ারই নয়, বিশ্বের সবচেয়ে বেশি দর্শকসমাগম হওয়া ল্যুভর মিউজিয়ামও দুই ঘণ্টা আগে স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। ফ্রান্সের এই জাদুঘরটি আগেভাগে বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর থাকবে আগামী শনিবার (২৭ জুন) পর্যন্ত। তবে বন্ধ না করে বরং বিকেল থেকে খুলে দিলে ভালো হয় বলে মনে করছেন বিদেশি পর্যটকরা।
পর্যটকদের মধ্যে একজন বলেন, ‘দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা উচিত ছিল। তারপর আবার খুলে দেয়া যেত। যাতে সন্ধ্যায় যখন গরম কিছুটা কম থাকে তখন লোকজন ঘুরতে পারে।’
অন্য একজন বলেন, ‘অনেক কিছুই বন্ধ করে দেয়া হয়েছে, এটা সত্যিই হতাশাজনক। কারণ আমি প্রথমবার ইউরোপ মহাদেশে ঘুরতে এসেছি।’
তপ্ত আবহে ধুঁকছে বেলজিয়ামও। নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে ব্রাসেলসের বিখ্যাত অ্যাটোমিয়াম স্থাপত্য। এতে হতাশ বিভিন্ন দেশ থেকে ঘুরতে যাওয়া ভ্রমণ পিপাসুরা।
আরও পড়ুন:
বেলজিয়ামে ঘুরতে আসাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে এতদূর এসেছি। আর এখানে এসে দেখি, এটা বন্ধ। আমার খুব মন খারাপ হচ্ছে।’
গরম আবহাওয়ায় ইউরোপের অন্যান্য দেশের পর্যটন ব্যবসায় ভাটা পড়লেও; সুইজারল্যান্ডের সিনেমা হলগুলোর ব্যবসা বেশ চাঙা হয়ে ওঠেছে। তাপমাত্রা থেকে স্বস্তি পেতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত সিনেমা হলগুলোয় ভিড় বেড়েছে সিনেমাপ্রেমীদের। তাপপ্রবাহের মধ্যে যেন স্বস্তিদায়ক আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে সিনেমা হলগুলো।
সিনেমাপ্রেমীদের মধ্যে একজন বলেন, ‘অতিরিক্ত তাপমাত্রা বাড়ি থেকে বের হয়ে সিনেমা দেখার সুযোগ করে দিয়েছে। এতে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত প্রেক্ষাগৃহে স্বস্তিদায়ক সময় কাটানোরও সুযোগ হলো।’
এদিকে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ইতালিতে ঘুরতে যাওয়া ভ্রমণ পিপাসুরাও চরম ভোগান্তির মুখে। রোম থেকে ভ্যাটিকান সিটি; সব জায়গার পর্যটন শিল্পেই পড়েছে নেতিবাচক প্রভাব। ১৬টি শহরে জারি রয়েছে তাপমাত্রার উচ্চ সতর্কতা বা রেড অ্যালার্ট।




