২০৩৪ সালের মধ্যে দেশের অর্থনীতিকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার পরিকল্পনা বিএনপি সরকারের। সেই লক্ষ্য অর্জনে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে।
এমন বাস্তবতায় চীনা বিনিয়োগ আকর্ষণে বেইজিংয়ে বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম শীর্ষক কনফারেন্সের আয়োজন করে বিডা। যেখানে অংশ নেন দেশটির শীর্ষ ব্যবসায়ীরা।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে বিনিয়োগ সম্ভাবনার নানা দিক তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রতিশ্রুতি দেন বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমার সরকার আপনাদের প্রতি অবিচল প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করছে। আপনাদের বিনিয়োগকে যথাযথ গুরুত্ব দেয়া হবে। আপনাদের উদ্বেগের বিষয়গুলো শোনা হবে এবং বিনিয়োগ-বান্ধব ও কার্যকর এক পরিবেশের মাধ্যমে আপনাদের প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করা হবে।'
আরও পড়ুন:
তিনি জানান, চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক আস্থা আর বিশ্বাসের। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ঢাকা।
তারেক রহমান বলেন, ‘এটি আস্থা, শ্রদ্ধা ও বাস্তবসম্মত সহযোগিতার একটি সম্পর্ক। বিগত বছরগুলোতে এই সম্পর্ক কূটনীতি থেকে উন্নয়নের পথে, উন্নয়ন থেকে বাণিজ্যের পথে এবং বর্তমানে বাণিজ্য থেকে শিল্প-খাতের নানাবিধ অংশীদারিত্বসহ আরও গভীর সহযোগিতার পথে অগ্রসর হয়েছে।'
শিগগিরই চীনে একটি বিনিয়োগ কার্যালয় খোলার ঘোষণাও দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘আপনারা ইতিমধ্যেই শুনেছেন যে, আজ আমি আনন্দের সঙ্গে ঘোষণা করছি—অচিরেই আমরা চীনে আমাদের প্রথম বিনিয়োগ কার্যালয় চালু করতে যাচ্ছি। আমাদের উদ্দেশ্যটি অত্যন্ত সহজ, সহায়তা পাওয়ার জন্য চীনা বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে না। আমরা আপনাদের আরও কাছাকাছি থাকতে চাই, নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে চাই এবং আগ্রহ থেকে সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াটিকে আরও দ্রুততর করতে সহায়তা করতে চাই।’
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, আনোয়ারায় চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল এবং মংলায় দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে।
আরও পড়ুন:
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে বাংলাদেশে তাদের ভ্যালু চেইন বা মূল্য-শৃঙ্খল সম্প্রসারণের জন্য আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমরা চীনা কোম্পানিগুলোকে তাদের বৈশ্বিক বাজারের চাহিদা পূরণের পাশাপাশি দেশের ক্রমবর্ধমান বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সুবিধা গ্রহণে সহায়তা করতে পারি। এটি একটি পারস্পরিক পরিপূরক, বাস্তবসম্মত এবং উভয়পক্ষের জন্য লাভজনক সম্পর্ক। আমরা চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বিশেষ শিল্প বিনিয়োগ তহবিল গড়ে তুলছি, এর আওতায় রয়েছে আনোয়ারায় অবস্থিত “চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চল” এবং মংলায় প্রস্তাবিত দ্বিতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল।’
দীর্ঘমেয়াদি টেকসই প্রবৃদ্ধি, অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পারস্পরিক সমৃদ্ধি ও দ্বিপাক্ষিক বিনিয়োগ চুক্তি উন্নত করতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও জানান সরকারপ্রধান।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরের এজেন্ডা ছিল বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করা। এ লক্ষ্যেই আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমিয়ে সরকারি সেবায় ডিজিটালাইজেশনের মাধ্যমে দেশে বিনিয়োগের পরিবেশ নিশ্চিত করা হচ্ছে বলে জানালেন তিনি।




