ফেব্রুয়ারির শেষে ইরান ও হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে শুরু হওয়া যুদ্ধে দক্ষিণ লেবাননের বিশাল অংশ দখল করে নেয় ইসরাইলি বাহিনী। গত রোববার থেকে সেখানে একটি বড় ধরনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ইসরাইলি সেনারা এখনো লেবাননের গভীরে অবস্থান করছে। ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দাবি, উত্তর ইসরাইলকে হিজবুল্লাহর আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে এই অবস্থান জরুরি।
প্রস্তাবিত এই প্রকল্পের আওতায় যে লেবাননি সেনারা মোতায়েন হবেন, তাদের আগে যুক্তরাষ্ট্রের অধীনে প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ ‘ভেটিং’ বা যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হিজবুল্লাহর সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই এমন সেনাদের সেখানে মোতায়েন করা। এছাড়া ইসরাইল সীমান্ত বরাবর একটি বাফার জোন বা নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখার দাবি জানিয়েছে। লেবাননের এক জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বুধবার দুই দেশের সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্দিষ্ট এলাকা বা ‘পাইলট জোন’ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে। সেনা প্রত্যাহারের সময়সীমা নিয়ে বৃহস্পতিবারের আলোচনার পরই চূড়ান্ত কোনো পরিকল্পনা বেরিয়ে আসতে পারে।
লেবাননের সেনাবাহিনী দীর্ঘ দিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সহায়তা পেয়ে আসছে। অন্যদিকে হিজবুল্লাহ বরাবরই ইসরাইলের সঙ্গে লেবানন সরকারের এই সরাসরি আলোচনার বিরোধিতা করে আসছে। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তী চুক্তিতে লেবাননে যুদ্ধবিরতির বিষয়টি অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। জেনেভায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ।
সোমবার সুইজারল্যান্ডে মার্কিন-ইরানি আলোচনা শেষে এক যৌথ বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, লেবাননে শত্রুতা বন্ধ নিশ্চিত করতে একটি ‘ডি-কনফ্লিকশন সেল’ বা বিবাদ নিরসন সেল গঠন করা হবে। তবে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহর যেকোনো হুমকি রুখতে তার দেশের সেনারা পূর্ণ স্বাধীনতা বজায় রাখবে এবং ‘যত দিন প্রয়োজন’ তত দিন তারা লেবাননে অবস্থান করবে।





