ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে জয়ী চীন

সিএনএনের প্রতিবেদন

ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা | ছবি: সংগৃহীত
0

ওয়াশিংটন বা তেহরান নয়, ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে চীন জয়ী হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। কয়েকজন বিশ্লেষকের বরাতে গণমাধ্যমটি বলছে, ইরান যুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বমঞ্চ থেকে পিছিয়ে পড়ায় নতুন শক্তি হিসেবে নিজেদের মেলে ধরেছে শি জিনপিং প্রশাসন। এছাড়াও, হরমুজ স্থবিরতার সময়েও নিজেদের বিপুল তেলের মজুত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মিশিলে সংকট ভালোভাবে সামাল দিয়েছে বেইজিং।

ইরান যুদ্ধে জয়ী কে- ওয়াশিংটন না তেহরান; এটি নিয়ে বিতর্কের শেষ নেই। এ পর্যন্ত বেশ কয়েক দফায় ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুদ্ধে জয়ী যুক্তরাষ্ট্রই।

তবে শুরু থেকেই বিশ্লেষকদের অভিমত, যে উদ্দেশ্য নিয়ে ইরান যুদ্ধে জড়িয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, তা হাসিলে কার্যত ব্যর্থ হয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার যুদ্ধের জয়- পরাজয়ের সমীকরণ নিয়ে সম্পূর্ণ ভিন্নধর্মী প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন। গণমাধ্যমটি বলছে, ইরান যুদ্ধে কূটনৈতিকভাবে জয়ী এশিয়ার পরাশক্তি চীন। কেননা যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এর নেতিবাচক দিকগুলো মোকাবিলা করতে সফল হয়েছে শি জিনপিং প্রশাসন।

গেল ফেব্রুয়ারি থেকে হরমুজ স্থবিরতার জেরে যেখানে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে হিমশিম খাচ্ছে অনেক দেশ, সেখানে নিজেদের বিপুল তেলের মজুত ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির মিশিলে সংকট ভালোভাবেই মোকাবিলা করছে বেইজিং। এমনকি মার্কিন নিষেধাজ্ঞা জারি সত্ত্বেও যুদ্ধের সময় ইরান থেকে অপরিশোধিত জ্বালানি কিনেছে চীন। অনেক ইরানি গণমাধ্যমের দাবি, হরমুজে মার্কিন নৌ-অবরোধ চলার সময়টাতেও জলপথটি পাড়ি দিয়েছে অনেক চীনা জাহাজ।

আরও পড়ুন:

এছাড়াও, বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের পুরোটা সময় অনেক কৌশলী নীতি অবলম্বন করেছে চীন। ইরানে যুক্তরাষ্ট্র- ইসরাইলের প্রাণঘাতী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে মুখে বেশ কয়েকবার নিন্দা জানালেও, মিত্র পক্ষের হয়ে সরাসরি যুদ্ধে জড়ায়নি বেইজিং। এমনকি আন্তর্জাতিক জলপথ হরমুজেও যুক্তরাষ্ট্রের আগ্রাসনের বিরুদ্ধে নিজেদের সমুদ্র শক্তির জানান দেয়নি চীন। একারণে গেল সপ্তাহে জি- সম্মেলনের মঞ্চেও, ইরান যুদ্ধে চীন- রাশিয়া নিরপেক্ষ নীতির প্রশংসা করেছেন ট্রাম্প।

অন্যদিকে, অনেক বিশ্লেষক ইরান যুদ্ধের সময় চীনের ভূমিকার কথা বর্ণনা করতে গিয়ে ১৯৫০ এর দশকে সুয়েজ খালের ওপর ব্রিটেনের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঘটনাকে নির্দেশ করেছেন। যা বিশ্বমঞ্চে ইংল্যান্ডের শক্তির পতন ও উদীয়মান পরাশক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যাত্রাপথ সুগম করেছিল। তাদের অভিমত, ইরান যুদ্ধে হরমুজের নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। আর স্বয়ং ট্রাম্পসহ ইরান ও প্রধান মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তানের শীর্ষ নেতাদের আতিথেয়তার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চে যুক্তরাষ্ট্রের বিকল্প হিসেবে নিজেদের উপস্থাপন করেছে চীন।

আবার ভিন্ন অভিমতও দিচ্ছেন অনেক বিশ্লেষক। তারা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্র ধাঁচের বিশ্ব পরাশক্তি হতে চায়না চীন। বরং অন্যের সার্বভৌমত্ব ও পররাষ্ট্রনীতিতে হস্তক্ষেপ না করে উন্নয়নমুখী নীতিতে বিশ্বাসী শি জিনপিং প্রশাসন।

ইএ