কার্যকর কোনো সমঝোতা ছাড়াই সুইজারল্যান্ডে ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পর্বের প্রায় দেড় ঘণ্টার আলোচনা শেষ হয়েছে। ফার্স নিউজ এজেন্সিও জানিয়েছে, চার পক্ষের এই আলোচনায় সমঝোতা স্মারক ও পারস্পরিক এজেন্ডা বাস্তবায়নে তেহরান যুক্তরাষ্ট্রের দিকে দুটি প্রশ্ন রেখেছে।
প্রথমত, ইসরাইলি বাহিনী লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধ করবে কিনা? দ্বিতীয়ত হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে তেহরানের আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কিছু নিয়ম পরিবর্তনের চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্র মানবে কী না?
এছাড়াও, এক পর্যায়ে শান্তি আলোচনা আবারও উত্তপ্ত বাক্য বিনিময়ে রূপ নেয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দেন, লেবাননে নিজেদের প্রক্সি শক্তি অর্থাৎ হিজবুল্লাহকে সমর্থন দেয়া বন্ধ না করলে আবারও ইরানে হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র। এক সাক্ষাতকারে ফক্স নিউজকে ট্রাম্প জানান, চুক্তি না হলে ইরানে ফের বোমা হামলা চালাবে মার্কিন বাহিনী। জবাবে ইরানের স্পিকার বাঘের গালিবাফ হুঁশিয়ারি দেন, তার দেশ জবাব দিতে প্রস্তুত। ওয়াশিংটনের তাদের বক্তব্যের ব্যাপারে সতর্ক থাকা উচিত।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পর ইরানি প্রতিনিধিদল আলোচনাস্থল ত্যাগ করেছে বলে জানিয়েছে ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলো। আলোচনা শেষে মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে তেহরানের আলোচকরা ছবি তুলতেও অস্বীকৃতি জানান। আইআরজিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, লেবাননের যুদ্ধবিরতি শর্তের ওপর পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।
এদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার একজন উপদেষ্টা ফার্স সংবাদ সংস্থাকে জানিয়েছেন, তেহরান হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার কিছু আইন পরিবর্তনের চেষ্টা করবে। জাতীয় স্বার্থ রক্ষার জন্য তারা সব ধরনের আইনি ক্ষমতা ব্যবহার করবে। এছাড়া ফার্স সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, ইরান অবরোধ এড়িয়ে অপ্রকাশিত একটি গন্তব্যে ২৫ মিলিয়ন ব্যারেল তেল পাঠাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের হাতে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ছেড়ে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।





