সিলেটে টিলা ধ্বংসে বাড়ছে প্রাণহানি, নীরব প্রশাসন

সিলেটের টিলা
সিলেটের টিলা | ছবি: এখন টিভি
0

সিলেটে গত কয়েকদশক থেকেই চলছে টিলা কাটার মহোৎসব। এর ফলে গত কয়েক দশকে সিলেট জেলার প্রায় ৬০ শতাংশ টিলা বিলীন হয়ে গেছে। টিলাধসে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ৪০ জন। নতুন করে হুমকির মুখে পড়েছে নগরীর একটি মাদ্রাসা, শ্মশানসহ বেশ কিছু ঘরবাড়ি ও সড়ক। প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেই বলে অভিযোগ পরিবেশবাদীদের।

প্রকৃতিকন্যা সিলেট একসময় পরিচিত ছিল টিলা-পাহাড়ের মায়াবী জনপদ হিসেবে। উঁচুনিচু সবুজ টিলা আর নয়নাভিরাম প্রকৃতির কারণে আলাদা পরিচিতি ছিলো এ অঞ্চলের। তবে বছরের পর বছর অবৈধভাবে টিলা কেটে ফেলায় সেই সিলেট এখন হারাতে বসেছে তার চিরচেনা রূপ।

নগরীর বালুচর এলাকার করিম উল্লাহ টিলার চিত্র যেন সেই বাস্তবতারই প্রতিচ্ছবি। বর্ষার শুরু থেকেই টিলা খেকোদের থাবায় ক্ষতবিক্ষত হচ্ছে টিলাভূমি। ফলে ঝুঁকির মুখে পড়েছে টিলার পাদদেশে থাকা মাদ্রাসাসহ শতাধিক পরিবারের বসতবাড়ি।

এলাকাবাসীরা জানান, বৃষ্টি হইলেই তারা আতঙ্কে থাকে। আর রাতের বেলা হলে তাদের ঘুম না হওয়ার কথা ও বলেন তারা।

শুধু মাদ্রাসা কিংবা বসতবাড়িই নয়, টিলা খেকোদের হাত থেকে রক্ষা পাচ্ছে না শ্মশান কিংবা কবরস্থানও। নগরীর ৩৬ নম্বর ওয়ার্ডের একটি আদিবাসী সম্প্রদায়ের অভিযোগ, তাদের একমাত্র শ্মশানের মাটিও কেটে নিয়ে যাচ্ছে প্রভাবশালী চক্র।

আরও পড়ুন

ওরাং সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা জানান, প্রায় প্রতিদিনই রাত্রে মাটি কাটা হয়। দিনের বেলায় কাউরে পাওয়া যায় না, কিন্তু রাতের বেলা আসলে তাদেরকে অনেক হুমকি-ধমকি দেয়।

পরিবেশকর্মীরা বলছেন, সিলেট শহর ও শহরতলীর প্রায় প্রতিটি টিলাভূমিতেই চলছে এমন ধ্বংসযজ্ঞ। তাদের অভিযোগ, প্রশাসনের একাংশের নীরব সমর্থন কিংবা যোগসাজশেই টিলাখেকোরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় ধরনের প্রাণহানি।

পরিবেশকর্মী রেজাউল করিম লিমন বলেন, ‘এ জন্য সম্পূর্ণ দায়ী আমাদের কিছু প্রভাবশালী মহল। রাতের আঁধারে কিন্তু পাহাড়ের বিভিন্ন তলদেশ কিন্তু ওরা মাটি কাটার কারণে পাহাড় কিন্তু দুর্বল হয়ে যায় এবং এইটা ধস নামে।’

পরিবেশকর্মী কাশ্মীর রেজা বলেন, ‘প্রশাসন যদি সিরিয়াসলি বন্ধ করতে চাইত, তাহলে বন্ধ করতে পারত। এবং আমরা যেটা দেখেছি যে, এই যে দুষ্কৃতিকারীরা, তারা বিভিন্ন সময় প্রভাবশালী মহলের, বিশেষ করে রাজনৈতিক মহলের আশ্রয়-প্রশ্রয় নেয়ার চেষ্টা করে।’

তবে, প্রশাসনের দাবি, টিলা কাটার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি পরিবেশ বিধ্বংসী কর্মকাণ্ড বন্ধে মামলা ও অন্যান্য আইনগত ব্যবস্থাও নেয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

সিলেট জেলা প্রশাসক সারওয়ার আলম বলেন, ‘একটি চক্র রয়েছে, এই চক্রগুলি আসলে এ স্থাপনাগুলোতে অবৈধভাবে কিছু কেনা-বেচা করার চেষ্টা করেন এবং কিছু লোকজন সেখানে লোভে পড়ে এ জায়গাগুলো তারা ক্রয় করেন। এটা যাতে হতে না পারে, সেজন্য আমাদের প্রশাসন যারা দায়িত্বে আছেন, এগুলোতে স্থানীয় জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ তারাও এখানে, সবাইকে নিয়েই আমরা এই কাজটা করছি।’

গত কয়েক দশকে টিলা খেকোদের ভয়াল থাবায় বিপন্ন হয়ে পড়েছে সিলেটের প্রাণ-প্রকৃতি। বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ। একই সঙ্গে বাড়াতে হবে জনসচেতনতা।

জেআর