আজ (শুক্রবার, ১৯ জুন) সকালে মাতামুহুরী উপজেলার ডেমুশিয়া ইউনিয়নের ইলিশিয়া বাজার সংলগ্ন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে পরিবারের সদস্যরা। পরে তাকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন সকালে পেকুয়া পৌরসভার চৌমুহনী এলাকার খালার বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর থেকে মারুফ নিখোঁজ ছিলো। পরিবারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি পেকুয়া থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়।
নিখোঁজের পরপরই পরিবারের সদস্যদের কাছে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে ফোন করে ২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং মারুফকে উদ্ধারে পুলিশের একাধিক টিম কাজ শুরু করে।
মারুফের এক আত্মীয় জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে একটি মোবাইল নম্বর থেকে ফোন করে একজন ব্যক্তি মারুফের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেন। খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাকে উদ্ধার করেন।
পরে দ্রুত পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়। উদ্ধারকালে মারুফকে শারীরিকভাবে সুস্থ দেখা গেলেও তিনি মানসিকভাবে কিছুটা বিপর্যস্ত ও আতঙ্কগ্রস্ত ছিলেন বলে জানান স্বজনরা।
আরও পড়ুন:
মারুফকে উদ্ধারের বিষয়টি পেকুয়া থানা পুলিশকে অবগত করা হলে দ্রুত ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে পৌঁছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করে পুলিশ।
পেকুয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান পেকুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে উদ্ধার হওয়া স্কুলছাত্র সাঈদ হোসাইন মারুফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। একই সঙ্গে তিনি উদ্ধার-পরবর্তী বিভিন্ন বিষয়ে তদন্ত কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
ওসি মেহেদী হাসান ভুক্তভোগী মারুফকে উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদ্ঘাটন ও সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও জানান, উদ্ধার-পরবর্তী সময়ে শিশুটির বক্তব্য ও ঘটনার বিভিন্ন দিক গুরুত্বসহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। কীভাবে সে নিখোঁজ হয়েছিলো, মুক্তিপণ দাবির সঙ্গে কারা জড়িত ছিলো এবং এর পেছনে কোনো অপহরণ চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানায়, মারুফের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে মারুফকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পাওয়ায় পেকুয়া জুড়ে স্বস্তির আবহ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার প্রশংসা করেছেন এবং ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।





