খেজুর গাছ থেকে নামানো টাটকা রস জ্বাল দিয়ে বিশেষ কায়দায় তৈরি হয় মানিকগঞ্জের বিখ্যাত হাজারি গুড়। বিশেষ করে জেলার হরিরামপুর উপজেলার ঝিটকা ও গোপীনাথপুর এলাকায় প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে চলে আসছে এ গুড় তৈরির ঐতিহ্য। সম্প্রতি শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন পেটেন্ট, শিল্প-নকশা ও ট্রেডমার্কস অধিদপ্তর এই ঐতিহ্যবাহী পণ্যকে জিআই সনদ প্রদান করেছে। বাংলাদেশের ৬৪তম জিআই পণ্য হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছে ‘মানিকগঞ্জের হাজারী গুড়’।
হাজারি গুড়ের বিশেষত্ব শুরু হয় এর উৎপাদন প্রক্রিয়া থেকেই। খেজুর গাছ থেকে প্রথম কাটার যে উৎকৃষ্ট মানের রস পাওয়া যায়, তা দিয়েই তৈরি করা হয় এই গুড়। এক কেজি হাজারি গুড় উৎপাদনে প্রয়োজন হয় প্রায় ১০ থেকে ১২ লিটার রস। স্বাদ, সুগন্ধ ও গুণগত মানের কারণে প্রতি কেজি হাজারি গুড় বাজারে বিক্রি হয় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায়। হরিরামপুর অঞ্চলের ২০ থেকে ৩০টি পরিবার সরাসরি এ শিল্পের সঙ্গে যুক্ত।
আরও পড়ুন
স্থানীয়রা জানান, নতুন যারা প্রজন্ম, তাদের মধ্যে এটি ছড়িয়ে দিতে হবে, তেমনি হাজারি গুড়ের নামে এখন কিন্তু অনেক নকল হাজারি গুড়ও তৈরি হচ্ছে বলে মনে করেন তারা।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে অবশেষে জিআই সনদ পেলো হাজারি গুড়। স্থানীয় উৎপাদকদের স্বার্থ সংরক্ষণ এবং পণ্যের আন্তর্জাতিক পরিচিতি বাড়াতে এ স্বীকৃতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন এ কর্মকর্তা।
মানিকগঞ্জ জেলা প্রশাসক নাজমুন আরা সুলতানা বলেন, ‘যেহেতু এটি জিআই পণ্য হয়েছে, এর ব্র্যান্ড ভ্যালু বেড়েছে, আশা করা যায় এবার এ গুড়ের চাহিদা বেড়ে যাবে অনেক গুণ বেশি। এবং সেই ক্ষেত্রে একটা আশঙ্কা থেকে যায় যে, অসাধু ব্যবসায়ীরা হয়তো এ সুযোগটা গ্রহণ করার চেষ্টা করতে পারে। আমাদেরকে আরেকটু সতর্ক থাকতে হবে।’
তিনশ বছরের ঐতিহ্যবাহী হাজারি গুড় এখন জিআই স্বীকৃতির মাধ্যমে বিশ্ববাজারে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুললেও, উৎপাদকরা বলছেন,- এ ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বাজার সম্প্রসারণের উদ্যোগ।

 Andoni Iraola, Ryan Mason, and Xabi Alonso-320x167.webp)



