জি-৭ সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে বিশ্বনেতারা; আলোচনার কেন্দ্রে থাকবে মধ্যপ্রাচ্য সংকট

জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পতাকা
জি-৭ ভুক্ত দেশগুলোর পতাকা | ছবি: সংগৃহীত
0

ফ্রান্সে শুরু হয়েছে শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭ এর ৫২তম বার্ষিক সম্মেলন। সদস্য দেশের নেতারা শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে এরই মধ্যে ফ্রান্স পৌঁছেছেন। এছাড়া দেশটিকে নতুন শুল্ক চাপানোর হুমকির পরই পৌঁছেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ওয়াশিংটন- তেহরানের কাঠামোগত সমঝোতা হলেও মধ্যপ্রাচ্য সংকটই এ সম্মেলনের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে স্থান পাবে।

ফ্রান্সের এভিয়ান-লে-বেঁ শহরে শুরু হলো শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি-৭ এর শীর্ষ সম্মেলন। এর মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই যুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান। এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পসহ সদস্য দেশের নেতারা সম্মেলনে যোগ দিতে ফ্রান্সে পৌঁছান। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ দেশটির একটি টিভি চ্যানেলকে জানান, ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা বাস্তবায়নের জন্য দুই দেশের ৬০ দিনের আলোচনার নতুন একটি সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে এই সম্মেলনে।

ফরাসী প্রেসিডেন্ট জানান, দুইদিনের সম্মেলনে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি লেবানন সংকট নিয়েও আলোচনা করবেন নেতারা। এদিকে, সম্মেলনে যোগ দেয়ার আগে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলনস্কি জানান, রুশ প্রসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন সম্প্রতি যুদ্ধ বন্ধে কিয়েভের দেয়া আলোচনা প্রস্তাব প্রত্যাখান করেছেন। ইউক্রেনকে অবিলম্বে ইইউ সদস্যপদ দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘গতকাল ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রথমত, এটি পারমাণবিক সমস্যার সমাধান করবে এবং দ্বিতীয়ত, এটি সমগ্র বিশ্বের শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া হবে, লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে। সুতরাং, এ চুক্তিকে সমর্থন করার জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতির অংশ হতে হবে। এটি শান্তির পথে ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।’

গতকাল ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কারণ প্রথমত, এটি পারমাণবিক সমস্যার সমাধান করবে এবং দ্বিতীয়ত, এটি সমগ্র বিশ্বের শান্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেয়া হবে, লেবাননে শান্তি প্রতিষ্ঠা পাবে। সুতরাং, এই চুক্তিকে সমর্থন করার জন্য আমাদের আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতিশ্রুতির অংশ হতে হবে। এটি শান্তির পথে ও বিশ্ব অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি পদক্ষেপ।

আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম বলছে- সম্মেলনে জি৭ নেতারা ইরানের সাথে চুক্তির বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কাছে বিস্তারিত জানতে চাইতে পারেন। এছাড়া চীনের ওপর থেকে দুর্লভ খনিজের নির্ভরশীলতা কাটাতেও আলোচনা করবে সদস্য দেশগুলো।

আরও পড়ুন:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ভালো কিছু ঘটতে চলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শেয়ার বাজার রকেটের মতো লাফিয়ে উঠছে। যা এক ধরনের রেকর্ড। যদিও এখনও পুরোপুরি আগের পর্যায়ে ফিরে আসিনি। তবে মূল বিষয় হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এখানে তারা পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। এ পুরো সংকটের মূল কারণ। কারণ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা সম্ভবত তা ব্যবহার করত।’

আমি মনে করি মধ্যপ্রাচ্যে অনেক ভালো কিছু ঘটতে চলেছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তেলের দাম দ্রুত কমছে এবং শেয়ার বাজার রকেটের মতো লাফিয়ে উঠছে, যা এক ধরনের রেকর্ড। যদিও এখনও পুরোপুরি আগের পর্যায়ে ফিরে আসিনি। তবে মূল বিষয় হলো, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এটিতে তারা পুরোপুরি সম্মত হয়েছে। এই পুরো সংকটের মূল কারণ। কারণ তাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলে তারা সম্ভবত তা ব্যবহার করত।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের অবসান নিয়ে সম্মেলনের স্বস্তি কিছুটা ম্লান করে দিয়েছে ফ্রান্সকে লক্ষ্য করে ট্রাম্পের নতুন শুল্কারোপের হুমকি এবং অভিবাসন নিয়ে সাম্প্রতিক সতর্কবাণী। ফ্রান্সে রওনা হওয়ার আগে ট্রাম্প নিউ ইয়র্ক পোস্টকে জানান, প্যারিস যদি মার্কিন প্রযুক্তি সংস্থাগুলোর ওপর থেকে ডিজিটাল কর তুলে না নেয়, তাহলে ফরাসি ওয়াইনের ওপর শতভাগ শুল্ক চাপানো ছাড়া তার কোনো উপায় থাকবে না। তবে প্রেসিডেন্ট ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন ট্রাম্পের হুমকিতে নত হবে না ফ্রান্স।

সদস্য দেশগুলোর পাশাপাশি জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনে এবারই প্রথম অংশ নিচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

জেআর