সিসিটিভির ফুটেজে দেখা যায়, নিজের নির্মাণাধীন বাসার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামকে মারধর করছে স্থানীয় সাইফুলের নেতৃত্বে কয়েকজন। ফেরাতে দিতে গেলে প্রতিবেশী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহমেদ ও নজরুলের স্ত্রী ও ভাইকেও টেনেহিছড়ে নিয়ে বেধড়ক মারধর করছে হামলাকারীরা।
আজ (সোমবার, ১৫ জুন) বিকেলে ময়মনসিংহ নগরীর বলাশপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সিসিটিভিতে ধরা পড়া মারধরের ভিডিও ছড়িয়ে গড়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে।
ভুক্তভোগী নজরুল ইসলাম বলেন, ‘নগরীর বলাশপুরের কল মিস্ত্রীর মোড়ে সাড়ে চার শতক জায়গায় ব্যাংক লোন নিয়ে পাঁচ তলা ফাউন্ডেশনের বাড়ি নির্মাণ করছি। বাড়ির কাজ শুরুর পর থেকেই চাঁদা অথবা নির্মাণসামগ্রী সরবরাহ করতে চান স্থানীয় প্রভাবশালী সাইফুল ও তার সহযোগীরা। এতে রাজি না হওয়ায় আমাদের ওপর এই হামলা। আমার স্ত্রীকে কয়েকজনে ধরে রেখে মারধর করেছে। ফেরাতে আসায় আমার বড় ভাই এবং প্রতিবেশী সোনালী ব্যাংক কর্মকর্তা সাকিম আহমেদের মাথায় ছুরি মেরেছে। আমরা এর বিচার চাই। জীবনের নিরাপত্তা চাই।’
আরও পড়ুন:
এদিকে এ ধরনের ঘটনা অহরহ ঘটলেও ভয়ে কেউ মুখ খুলতে চায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা।
জনতা ব্যাংক পিএলসি ময়মনসিংহ নগরীর চরপাড়া শাখার ব্যবস্থাপক মোকাম্মেল হক বলেন, ‘ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে বাড়ি করছেন, নিজের বাড়ি। কিন্তু নিজের পছন্দমতো কাজ করাতে পারবেন না, চাঁদা দিতে হবে নইলে কাজ দিতে হবে- এটা কেমন কথা। ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ও তার স্ত্রীকে যেভাবে পিটিয়েছে এটা কোনো সভ্য সমাজে হতে পারে না।’
এতে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান জনতা ব্যাংকের ময়মনসিংহ এরিয়া অফিসের সিনিয়র অফিসার মোখলেছুর রহমান।
ময়মনসিংহের কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শিবিরুল ইসলাম বলেন, ‘চাঁদা দাবি ও মারধরের ঘটনায় হামলাকারী সাইফুল ইসলামসহ অজ্ঞাতের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলাম। এ বিষয়ে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। ভিডিও ফুটেজ দেখে সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। কেউ রেহাই পাবে না।’
এ ঘটনার পর থেকে চরম নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে ব্যাংক কর্মকর্তা নজরুল ইসলামের পরিবার।




