৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট; ঘাটতি মেটাতে বিপুল ঋণের শঙ্কা

বাজেট অধিবেশন
বাজেট অধিবেশন | ছবি: এখন টিভি
0

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বড় আকারের বাজেট দিয়েছে বিএনপি সরকার। যেখান মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ১০ দশমিক ২ শতাংশ। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। বাজেটের ঘাটতি পূরণে বিদেশি ও দেশিয় উৎস থেকেই ঋণ ও সহায়তা নেবে সরকার। যদিও এর দায় মেটানো নিয়ে আছে শঙ্কা।

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণ সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু রাজস্ব আদায়ের ধীরগতি এবং ব্যয় নির্বাহের চাপ সামাল দিতে গিয়ে সংশোধিত বাজেটে সেই লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে ১ লাখ ৩৭ হাজার কোটি টাকা করা হয়। আগামী অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ ঋণের লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে।

ঠিক চারমাস আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে জয়লাভ করা বিএনপি সরকার প্রায় ২০ বছর পর বাজেট দিলো বৃহস্পতিবার। তাই দিনটি ঘিরে গণমানুষের যেমন আগ্রহ, তেমনি সবার চোখ অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরীর দিকে। সকালে গুলশানের বাসা থেকে বের হয়ে গণমাধ্যম কর্মীদের জানান, এই বাজেট হবে গণমানুষের বাজেট। এরপর বাজেট ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে হওয়া বিশেষ কেবিনেট বৈঠকে অংশ নেন মন্ত্রীরা। প্রায় তিনঘণ্টার বৈঠক শেষে অনুমোদন হয় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট।

বিকেল তিনটা নাগাদ জাতীয় সংসদে শুরু হওয়া বাজেট অধিবেশনে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রায় ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী।

৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার বড় আকারের বাজেটের জোর দেয়া হয় অর্থনৈতিক গণতন্ত্রায়নের দিকে, যেখান মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। যা জিডিপির প্রায় ১০.২ শতাংশ। এর মধ্যে এনবিআর থেকে আসবে ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকা। সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা। এই বাজেটে জিডিপি প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৬ শতাংশ এবং মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে বেধে রাখার পরিকল্পনা আছে সরকারের। এছাড়া বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য রাখা হয়েছে ৩ লাখ কোটি টাকা।

২০২৬-২৭ অর্থবছরে উন্নয়ন ও অনুন্নয়ন খাতের ব্যয় মেটাতে বাজেটের ঘাটতি পূরণে বিদেশি উৎস ঋণ ও অনুদান থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা। এরমধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে নেয়া হবে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা ও সঞ্চয়পত্র ও অন্যান্য উৎস থেকে নেয়া হবে ১৫ হাজার কোটি টাকা।

তবে রাজস্ব চাপ সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংক থেকে পরবর্তীতে আরও ঋণ বাড়িয়ে নিতে পারে সরকার। যদিও অভ্যন্তরীণ ও বিদেশি এসব ঋণ বাবদ নতুন অর্থবছরে সরকারকে পরিশোধ করতে হবে ১ লাখ ২৭ হাজার ৫শ' কোটি টাকার সুদ।

প্রস্তাবিত নতুন বাজেট নিয়ে মাসজুড়েই আলাপ আলোচনা চলবে জাতীয় সংসদে। পাস হওয়ার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট কার্যকর হবে জুলাই থেকে।

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউক্রেন যুদ্ধের অভিঘাত, ব্যাংক খাতে সংকট ও আইএমএফের সঙ্গে বোঝাপড়া, তারই মধ্যে বিএনপি সরকারের রেকর্ড বাজেট। যেহেতু ঘাটতি বাজেট প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা দেশ বিদেশ থেকে সেটি ঋণ আকারে নেয়ার চেষ্টা থাকলেও সেটা পাওয়া তার ঋণ টানা নিয়েও সরকারকে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

ইএ