দীর্ঘ ১৯ বছর পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের পূর্ণাঙ্গ জাতীয় বাজেট উপস্থাপন (National budget presentation)-এর অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে আজ। দেশের উচ্চ মূল্যস্ফীতি, দুর্বল রাজস্ব আহরণ এবং বিনিয়োগ স্থবিরতার মতো নানা অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই ঐতিহাসিক বাজেটকে নতুন সরকারের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন অর্থনীতিবিদেরা।
অনেকেই আমরা ‘বাজেট’ শব্দটির সঙ্গে পরিচিত হলেও, এর ভেতরের মূল কাঠামো ও প্রকারভেদ সম্পর্কে পরিষ্কার জানি না। চলুন আজ সহজ ভাষায় জেনে নেয়া যাক বাজেট কী এবং কেন দেয়া হয় (What is budget and why is it prepared)।
আরও পড়ুন:
সহজ ভাষায় বাজেট কী? (What is National Budget in Simple Words)
এক কথায় বললে, বাজেট হচ্ছে একটি দেশের আগামী এক বছরের সম্ভাব্য সব আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব-নিকাশের বিবরণী। কোনো নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে সরকার বিভিন্ন উৎস থেকে কতটুকু আয় প্রাপ্তির আশা করে এবং জনগণের কল্যাণে বিভিন্ন খাতে কী পরিমাণ ব্যয় করতে চায়, তার সুবিন্যস্ত পরিকল্পনাকেই সরকারি বাজেট বা বার্ষিক আর্থিক বিবরণী (Government budget or annual financial statement) বলা হয়।
বাংলাদেশে সরকারের একটি বাজেটের সময়কাল হচ্ছে এক অর্থবছর, যা ১ জুলাই থেকে শুরু হয়ে পরবর্তী বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকে। আমাদের সংবিধানে ‘বাজেট’ শব্দটির পরিবর্তে ‘বার্ষিক আর্থিক বিবরণী’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে।
সরকারের আয় ও ব্যয়ের প্রকৃতি অনুযায়ী বাজেট ২ প্রকার (2 Main Types of Government Budget)
রাষ্ট্রীয় হিসাব ও আর্থিক কাঠামো পরিচালনার ওপর ভিত্তি করে সরকারি বাজেটকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. চলতি বাজেট বা রাজস্ব বাজেট (Current Budget or Revenue Budget)
যে বাজেটে সরকারের নিয়মিত চলতি আয় ও চলতি ব্যয়ের হিসাব দেখানো হয়, তাই চলতি বাজেট। কর রাজস্ব (যেমন: ভ্যাট, আয়কর, ভূমি কর) এবং করবহির্ভূত রাজস্ব (যেমন: বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের লাভ ও ঋণের সুদ) থেকে এই আয় সংগৃহীত হয়। দেশের শিক্ষা, জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনের মতো অপরিহার্য খাতগুলো পরিচালনার জন্য প্রতি বছর এই চলতি বাজেটের অর্থ ব্যয় (Expenditure of current budget) করা হয়।
২. মূলধনী বাজেট বা উন্নয়ন বাজেট (Capital Budget or Development Budget)
সরকারের মূলধনী আয় ও ব্যয়ের হিসাব যে বাজেটে দেখানো হয়, তাকে মূলধনী বাজেট বলে। এর প্রধান লক্ষ্য দেশের ও জনগণের আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন সাধন করা। একে সাধারণ মানুষ উন্নয়ন বাজেট বা বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) (Development budget or Annual Development Program - ADP) নামে চেনে। রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের মতো মেগা প্রকল্পগুলো এই বাজেটের অর্থ দিয়ে বাস্তবায়ন করা হয়। এবারের বাজেটে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার এডিপি চূড়ান্ত করা হয়েছে।
আরও পড়ুন:
সুষম ও অসম বাজেট: ঘাটতি বাজেট আসলে কী? (Balanced, Surplus and Deficit Budget)
আয় ও ব্যয়ের সমতার ওপর ভিত্তি করে বাজেট আবার দুই রকমের হয়ে থাকে; সুষম বাজেট ও অসম বাজেট।
সুষম বাজেট কী (What is Balanced Budget): সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ একদম সমান হলে তাকে সুষম বাজেট বলে। এতে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে এবং মুদ্রাস্ফীতি বাড়ার ঝুঁকি কম থাকে।
অসম বাজেট কী (What is Unbalanced Budget): যখন সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং ব্যয়ের পরিমাণ সমান হয় না, তখন তাকে অসম বাজেট বলে। এটি আবার দুই প্রকার:
উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget): আয় যখন ব্যয়ের চেয়ে বেশি হয়, তখন তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে।
ঘাটতি বাজেট কী (What is Deficit Budget): যখন সরকারের রাজস্ব আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ অনেক বেশি হয়ে যায়, তখন তাকে ঘাটতি বাজেট বলে। বাংলাদেশের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটটি একটি বিশাল ঘাটতি বাজেট যেখানে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি (Deficit budget with 2.43 lakh crore Taka deficit) মেটাতে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক সহায়তার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।
কেন প্রতি বছর বাজেট দেয়া বাধ্যতামূলক? (Why National Budget is Mandatory Every Year)
একটি দেশের অর্থনৈতিক শাসনব্যবস্থা সচল রাখতে বাজেট দেয়া অপরিহার্য। বাজেট দেয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা: দেশের সম্পদকে সঠিক উপায়ে বণ্টন করে প্রবৃদ্ধি (যেমন: এবার সাড়ে ৬% জিডিপি লক্ষ্যমাত্রা) অর্জন করা।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ: কর কাঠামো পরিবর্তনের মাধ্যমে দেশের বাজারে দ্রব্যমূল্য বা মূল্যস্ফীতি (এবার লক্ষ্যমাত্রা সাড়ে ৭%) সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে রাখা।
আইনি অনুমোদন: সংসদের অনুমতি ছাড়া সরকার এক টাকাও খরচ করতে বা কর আদায় করতে পারে না। বাজেট পাসের মাধ্যমেই সরকার সেই আইনি বৈধতা লাভ করে।
আরও পড়ুন:
একনজরে জাতীয় বাজেটের সংজ্ঞা, প্রকারভেদ এবং ২০২৬-২৭ অর্থবছরের মূল কাঠামো
বাজেটের বিষয়বস্তু (Budget Components)
সহজ সংজ্ঞা ও বিস্তারিত বিবরণ (Definition & Details)
২০২৬-২৭ লক্ষ্যমাত্রা (FY 2026-27 Target)
জাতীয় বাজেট কী?
(National Budget)একটি নির্দিষ্ট আর্থিক বছরে (১ জুলাই - ৩০ জুন) সরকারের সম্ভাব্য সব ধরনের আয় ও ব্যয়ের সুবিন্যস্ত ও অনুমোদিত আর্থিক পরিকল্পনা।
৯,৩৮,০০০ কোটি টাকা
(সম্ভাব্য আকার)
চলতি / রাজস্ব বাজেট
(Revenue Budget)সরকারের নিয়মিত প্রশাসনিক কাজ সচল রাখা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন প্রদান ও দেশরক্ষার ব্যয় এবং তা মেটানোর জন্য কর থেকে অর্জিত আয়।
৬,৯৫,০০০ কোটি টাকা
(রাজস্ব আয়ের লক্ষ্য)
উন্নয়ন বাজেট / এডিপি
(Development Budget)দেশের স্থায়ী অবকাঠামোগত উন্নয়ন যেমন- রাস্তা, সেতু, বিদ্যুৎকেন্দ্র, স্কুল ও হাসপাতাল নির্মাণের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির সুনির্দিষ্ট বরাদ্দ।
প্রায় ৩,০০,০০০ কোটি টাকা
(বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি)
ঘাটতি বাজেট কী?
(Deficit Budget)যখন সরকারের রাজস্ব আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হয়। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক ঋণ ও বৈদেশিক ঋণ-অনুদান নেয়া হয়।
২,৪৩,০০০ কোটি টাকা
(মোট বাজেট ঘাটতি)
সুষম বাজেট কী?
(Balanced Budget)সরকারের প্রত্যাশিত মোট আয় এবং সম্ভাব্য মোট ব্যয়ের পরিমাণ যখন একদম সমান হয়, যার ফলে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে।
বাংলাদেশে প্রযোজ্য নয়
(উন্নয়নশীল দেশে ঘাটতি বাজেট হয়)
অর্থনৈতিক নির্দেশক ২০২৬-২৭: এবারের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেটে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা জিডিপি (GDP) অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে সাড়ে ৬ শতাংশ এবং সাধারণ মানুষের ওপর থেকে চাপের কথা বিবেচনা করে মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৭ শতাংশে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
বাজেট ২০২৬-২৭ কী এবং কেন দেয়া হয়? এক নজরে দেশের ইতিহাসের সর্ববৃহৎ বাজেটের আদ্যোপান্ত-Faq
প্রশ্ন: বাজেট কী এবং এটি কেন দেয়া হয়?
উত্তর: বাজেট হলো একটি নির্দিষ্ট অর্থবছরে (যেমন: ১ জুলাই থেকে ৩০ জুন) সরকারের সম্ভাব্য আয় এবং ব্যয়ের একটি বিস্তারিত আইনি ও আর্থিক পরিকল্পনা।
কেন দেয়া হয়: একটি দেশ কীভাবে চলবে, কোন খাতে কত টাকা খরচ করা হবে (যেমন: শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা), এবং সেই খরচের টাকা কোথা থেকে আসবে (যেমন: ট্যাক্স, ভ্যাট, ঋণ)—তার একটি সুশৃঙ্খল রোডম্যাপ তৈরি করার জন্য বাজেট দেয়া হয়। এটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়ন নিশ্চিত করে।
প্রশ্ন: ঘাটতি বাজেট (Deficit Budget) কী এবং এটি কেন তৈরি হয়?
উত্তর: যখন সরকারের সম্ভাব্য আয়ের চেয়ে ব্যয়ের পরিমাণ বেশি হয়, তখন তাকে ঘাটতি বাজেট বলে।
কেন তৈরি হয়: উন্নয়নশীল দেশগুলোতে রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সামাজিক নিরাপত্তার মতো বড় বড় উন্নয়নমূলক কাজে প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। সাধারণ ট্যাক্স বা রাজস্ব থেকে এই বিপুল খরচ মেটানো সম্ভব হয় না বলে সরকার জেনেশুনেই ঘাটতি বাজেট তৈরি করে। এই ঘাটতি পূরণে অভ্যন্তরীণ ব্যাংক এবং বৈদেশিক উৎস থেকে ঋণ নেয়া হয়।
প্রশ্ন: সুষম বাজেট (Balanced Budget) ও উদ্বৃত্ত বাজেট (Surplus Budget) কী?
উত্তর: সুষম বাজেট: সরকারের মোট আয় এবং মোট ব্যয় যখন একদম সমান হয়, তখন তাকে সুষম বাজেট বলে। বাস্তবে আধুনিক অর্থনীতিতে এমন বাজেট দেখা যায় না বললেই চলে।
উদ্বৃত্ত বাজেট: সরকারের ব্যয়ের তুলনায় আয়ের পরিমাণ বেশি হলে তাকে উদ্বৃত্ত বাজেট বলে। উন্নত বা ঋণমুক্ত দেশগুলো কখনো কখনো মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এই ধরনের বাজেট তৈরি করে।
প্রশ্ন: রাজস্ব বাজেট (Revenue Budget) ও উন্নয়ন বাজেট (Development Budget) এর মধ্যে পার্থক্য কী?
উত্তর: রাজস্ব বাজেট: সরকারের দৈনিক বা নিয়মিত পরিচালনার খরচ এই বাজেটে থাকে। যেমন: সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন, পেনসন, অফিসের খরচ, ঋণের সুদ পরিশোধ ইত্যাদি। এই খাতের টাকা কোনো নতুন সম্পদ তৈরি করে না।
উন্নয়ন বাজেট: দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামোগত উন্নতির জন্য যে বাজেট রাখা হয়। যেমন: নতুন স্কুল-কলেজ, হাসপাতাল, পদ্মা সেতু বা মেট্রোরেলের মতো মেগা প্রজেক্ট নির্মাণ। একে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (ADP) বলা হয়।
প্রশ্ন: সম্পূরক বাজেট (Supplementary Budget) বলতে কী বোঝায়?
উত্তর: মূল বাজেট পাসের সময় বছরের সম্ভাব্য খরচ অনুমান করা হয়। কিন্তু বছর শেষে দেখা যায়, কোনো কোনো খাতে বরাদ্দকৃত টাকার চেয়ে বেশি খরচ হয়ে গেছে অথবা কোনো খাতে খরচই হয়নি। তখন মূল বাজেটের এই কম-বেশি বা কাটছাঁট ঠিক করে অর্থবছরের শেষে সংসদে যে সংশোধিত হিসাব পাস করানো হয়, তাকেই সম্পূরক বাজেট বলে।
প্রশ্ন: বাজেটের পর কিছু পণ্যের দাম বাড়ে এবং কিছু পণ্যের দাম কমে কেন?
উত্তর: প্রতি বাজেটে সরকার দেশীয় শিল্পকে সুরক্ষা দিতে এবং ক্ষতিকর পণ্যের ব্যবহার কমাতে ট্যাক্স ও ভ্যাটের হার পরিবর্তন করে।
দাম বাড়ার কারণ: বিলাসবহুল পণ্য (যেমন: দামি গাড়ি, আইফোন), ক্ষতিকর পণ্য (যেমন: সিগারেট, তামাক) বা আমদানিকৃত বিদেশি পণ্যের ওপর যখন শুল্ক (Tax) বাড়ানো হয়, তখন সেগুলোর দাম বেড়ে যায়।
দাম কমার কারণ: দেশীয় উৎপাদন বাড়াতে কাঁচামালের ওপর শুল্ক কমালে অথবা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যে ভ্যাট ছাড় দিলে সেসব পণ্যের দাম কমে।
প্রশ্ন: বাজেটে ‘মহার্ঘ ভাতা’ (Dearness Allowance) কী এবং এটি কেন দেয়া হয়?
উত্তর: দেশের সামগ্রিক বাজারদর বা জীবনযাত্রার ব্যয় যখন অতিরিক্ত বেড়ে যায় (মুদ্রাস্ফীতি), তখন সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক চাপ কমাতে মূল বেতনের সাথে অতিরিক্ত যে বিশেষ ভাতা দেয়া হয়, তাকে মহার্ঘ ভাতা বলে। সাধারণত বাজেটে সরকার এই ভাতার ঘোষণা দেয় যাতে চাকুরিজীবীরা দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে পারেন।
প্রশ্ন: বাজেট পরিপত্র-১ (Budget Circular-1) কী?
উত্তর: বাজেট প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে একটি আনুষ্ঠানিক নির্দেশনাবলী জারি করা হয়, যাকে বাজকেট পরিপত্র-১ বলে। এর মাধ্যমে সরকারের সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে তাদের আগামী বছরের সম্ভাব্য আয়-ব্যয়ের হিসাব এবং উন্নয়ন প্রকল্পের প্রাথমিক চাহিদা তৈরি করার নির্দেশ দেয়া হয়। এটি বাজেট তৈরির প্রথম আনুষ্ঠানিক ধাপ।
প্রশ্ন: তামাক ও সিগারেটের ওপর বাজেটে কেন সবসময় বাড়তি কর ধরা হয়?
উত্তর: এর মূল কারণ দুটি:
জনস্বাস্থ্য রক্ষা: সিগারেটের দাম বাড়িয়ে তরুণ ও সাধারণ মানুষকে ধূমপানে নিরুৎসাহিত করা।
রাজস্ব আদায়: তামাকজাত পণ্য এমন একটি খাত যা ক্ষতিকর হলেও মানুষ কেনা বন্ধ করে না। তাই সরকার এই খাত থেকে খুব সহজে বিপুল পরিমাণ ট্যাক্স বা রাজস্ব আদায় করতে পারে।
প্রশ্ন: বাংলাদেশের বাজেট সাধারণত কী ধরনের এবং এর উৎস কী?
উত্তর: বাংলাদেশের বাজেট সাধারণত একটি উন্নয়নমুখী ঘাটতি বাজেট।
আয়ের উৎস: এই বাজেটের সিংহভাগ টাকা আসে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) মাধ্যমে সংগৃহীত আয়কর (Income Tax), ভ্যাট (VAT) এবং আমদানি শুল্ক থেকে।
ঘাটতি পূরণের উৎস: রাজস্বের বাইরে যে ঘাটতি থাকে, তা পূরণের জন্য সরকার দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা, সঞ্চয়পত্র বিক্রি এবং বিশ্বব্যাংক, আইএমএফ (IMF) বা বিভিন্ন বিদেশি উৎস থেকে ঋণ ও অনুদান নিয়ে থাকে।
আরও পড়ুন:

