দুই দশক পর বিএনপির বাজেট: অর্থমন্ত্রী হিসেবে অভিষেক হচ্ছে আমির খসরুর

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী
অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী | ছবি: সংগৃহীত
0

নির্বাচনি ইশতেহার বাস্তবায়ন সামনে রেখে প্রথমবারের মতো ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছে বিএনপি। একইসাথে অর্থমন্ত্রী হিসেবেও অভিষেক হতে যাচ্ছে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দিয়ে আসন্ন বাজেট জনমুখী করাই অর্থমন্ত্রীর সামনে অন্যতম চ্যালেঞ্জ। পাশাপাশি মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার বিষয়টিও প্রাধান্য পাচ্ছে নতুন অর্থমন্ত্রীর কাছে।

দীর্ঘ দুই দশক পর বিএনপি সরকার গঠনের পর ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য প্রায় ৯ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকার বাজেট পেশ করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। ২০২৬ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি অর্থমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়ে দায়িত্ব গ্রহণের পর ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতিতে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা এবং রাজনৈতিক প্রজ্ঞা দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী তার রাজনৈতিক জীবনে একাধিকবার জনগণের ভোটে সংসদ সদস্য এবং সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৯১ সাল চট্টগ্রাম-৮ আসন থেকে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এরপর ১৯৯৬, ২০০১ এবং সবশেষ ২০২৬ সালেও সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন বাণিজ্যমন্ত্রী হিসেবে। এ সময় তিনি বাংলাদেশের রফতানি খাত সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নীতি সহজীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন যার মধ্যে দোহা ও ক্যানকুন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন উল্লেখযোগ্য।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ১৯৫০ সালের ২০ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার এক সম্ভ্রান্ত ও ঐতিহ্যবাহী রাজনৈতিক পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। পিতা মরহুম আলহাজ মাহমুদুন্নবী চৌধুরী ছিলেন দেশের একজন বিশিষ্ট রাজনীতিক, যিনি ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট সরকারের গণযোগাযোগ মন্ত্রী এবং তৎকালীন আইনসভার সদস্য ছিলেন। পারিবারিক ঐতিহ্য থেকেই মূলত তাঁর মধ্যে রাজনীতি ও সমাজসেবা চর্চার হাতেখড়ি হয়।

আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কলেজ থেকে ১৯৬৯ সালে স্নাতক ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। এরপর উচ্চশিক্ষার উদ্দেশ্যে তিনি যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমান এবং লন্ডনে হিসাববিজ্ঞানে উচ্চতর পড়াশোনা করেন যা পরবর্তীতে তাঁর ব্যবসায়িক এবং রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণী ক্যারিয়ারে বড় ভূমিকা রাখে।

রাজনীতিতে পুরোপুরি সক্রিয় হওয়ার আগে তিনি বাংলাদেশের অর্থনীতি ও পুঁজি-বাজারের একজন অগ্রগামী ব্যক্তিত্ব হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেন। তিনি চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান, 'চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি'-র সাবেক সভাপতি এবং দক্ষিণ এশীয় স্টক এক্সচেঞ্জ ফেডারেশনের প্রথম সভাপতি ছিলেন। এছাড়া সেন্ট্রাল ডিপোজিটরি বাংলাদেশ লিমিটেড এবং পিপলস ইনস্যুরেন্স কোম্পানির চেয়ারম্যান হিসেবেও তিনি তার দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন।

শুধু রাজনীতি ও অর্থনীতি নয়, শিক্ষা প্রসারেও আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী অনন্য অবদান রেখেছেন। তিনি চট্টগ্রামে মানসম্মত উচ্চশিক্ষার জন্য 'চট্টগ্রাম ইন্ডিপেনডেন্ট ইউনিভার্সিটি' প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও তাঁর পিতার স্মৃতি রক্ষার্থে গঠিত 'মাহমুদুননবী চৌধুরী ফাউন্ডেশন'-এর মাধ্যমে তিনি সুবিধা বঞ্চিত যুবকদের জন্য কারিগরি শিক্ষা ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে চলেছেন।

২০২৬ সালের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর অর্থমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বাজেট প্রণয়ন, জাতীয় আর্থিক নীতি, সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনা তত্ত্বাবধান করেন। তিনি দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে এবং বিনিয়োগকারীদের আস্থা অর্জনে বাস্তবধর্মী দক্ষতার সমন্বয় ঘটিয়েছেন।

ইএ