২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের আঘাত; মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের দামামা

উত্তর ইসরাইল ও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে রকেট ছুড়ছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার
উত্তর ইসরাইল ও দক্ষিণ লেবানন সীমান্তে রকেট ছুড়ছে ইসরাইলি বিমানবাহিনীর একটি অ্যাপাচি হেলিকপ্টার | ছবি: সংগৃহীত
0

হরমুজ প্রণালিতে একটি মার্কিন ‘অ্যাপাচি’ হেলিকপ্টার ভূপাতিত করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ভয়াবহ পাল্টাপাল্টি হামলায় জড়িয়ে পড়েছে। মার্কিন বাহিনীর বিমান হামলা ও নজরদারি কেন্দ্রে হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত ২১টি মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন বর্ষণ করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বিবিসির প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্কিন কেন্দ্রীয় কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হেলিকপ্টার ভূপাতিতের ঘটনার ‘আনুপাতিক জবাব’ দিতে তারা হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং রাডার সাইটগুলোতে সিরিজ হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় আইআরজিসি বাহরাইন ও জর্ডানের মার্কিন ঘাঁটিতে বড় ধরনের আক্রমণ চালায়। কুয়েতের সেনাবাহিনীও তাদের আকাশসীমায় হামলা প্রতিহতের কথা জানিয়েছে।

গত সোমবার মার্কিন হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত হওয়ার পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অত্যন্ত কড়া ভাষায় বলেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এর ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দিতেই হবে। ওই ঘটনায় দুই পাইলট বেঁচে গেলেও হেলিকপ্টারটি ধ্বংস হয়। মার্কিন কর্মকর্তাদের ধারণা, ইরান একটি ড্রোনের মাধ্যমে এই হামলা চালিয়েছে। তবে ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা মেহের নিউজ জানিয়েছে, তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘটনার দায় স্বীকার করেনি।

বুধবার আইআরজিসি জানিয়েছে, মার্কিন হামলায় ইরানের জাস্ক, সিরিক এবং কেশম দ্বীপের একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার ও দুটি পানির ট্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অন্যদিকে, জর্ডানের সেনাবাহিনী দাবি করেছে, তারা ইরান থেকে আসা পাঁচটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। বাহরাইন কর্তৃপক্ষও তাদের আকাশসীমায় ইরানি হামলা রুখে দেওয়ার দাবি জানিয়ে বিমান হামলার সতর্কতা জারি করেছে।

মার্কিন হামলার পর ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে (সাবেক টুইটার) সরাসরি হুমকি দিয়ে লিখেছেন, ‘কোনো হামলা বা হুমকিই অনুত্তরিত থাকবে না। রণাঙ্গনে পরাজয় সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র আমাদের সংকল্প পরীক্ষা করতে চাইছে।’ তিনি ওয়াশিংটনকে সতর্ক করে আরও বলেন, ‘নিরাপদ থাকতে চাইলে আমাদের অঞ্চল ছেড়ে চলে যান।’

ওয়াশিংটনে হাউস স্পিকার মাইক জনসন জানিয়েছেন, ট্রাম্প যখন ইরানে পুনরায় হামলা শুরুর সিদ্ধান্ত নিচ্ছিলেন, তখন তিনি তার সঙ্গেই ছিলেন। জনসন বলেন, ‘আমরা দুঃখিত যে এটি প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে। তবে এই পরিস্থিতির নিষ্পত্তি আমাদের করতেই হবে।’

শান্তি আলোচনার টেবিলে ইরানের শীর্ষ আলোচক মোহাম্মদ বাকের কলিবাফ হামলার কয়েক মিনিট আগেই হুঁশিয়ারি দিয়ে লিখেছিলেন, ‘আমরা কূটনীতির ভাষায় কথা বলতে পছন্দ করি, তবে অন্য ভাষাগুলো আমরা আরও বেশি সাবলীলভাবে বলতে পারি। আপনাদের দেয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করলে আমরা সেই ভাষাতেই কথা বলব যা আমরা সবচেয়ে ভালো জানি।’

এই সংঘাতের ফলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান কূটনৈতিক প্রক্রিয়া এখন চরম অনিশ্চয়তার মুখে। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই বুধবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের পরস্পরবিরোধী বার্তা এবং বারবার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ফলে কূটনৈতিক প্রক্রিয়া মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’

এই উত্তেজনা এমন এক সময়ে দেখা দিল যখন গত মঙ্গলবার দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলি হামলার পর তেহরান নতুন করে প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে রেখেছিল। ট্রাম্প যদিও দাবি করছেন যে তিনি একটি ‘খুবই ভালো চুক্তির’ শেষ পর্যায়ে আছেন এবং দুই-তিন দিনের মধ্যে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া সম্ভব হবে, কিন্তু মাঠের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সংঘাতের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

এএম