বৈশ্বিক আইটি বাজারে বাংলাদেশ; বাড়ছে সম্ভাবনা, রয়েছে চ্যালেঞ্জও

সফটওয়্যার ডেভলপ করছেন
সফটওয়্যার ডেভলপ করছেন | ছবি : এখন টিভি
0

দেশের তথ্যপ্রযুক্তি খাত এখন আর শুধু অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণেই সীমাবদ্ধ নয়। সফটওয়্যার, মোবাইল অ্যাপ, ফিনটেক সল্যুশন ও আউটসোর্সিং সেবার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নিজেদের অবস্থান তৈরি করছে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সম্ভাবনাময় এই খাতকে ঘিরে বাড়ছে আশাবাদ। তবে একইসঙ্গে রয়েছে দক্ষ জনবল সংকট, আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা এবং নতুন বাজারে প্রবেশের মতো চ্যালেঞ্জ।

দেশের সফটওয়্যার খাত এখন শুধু স্থানীয় বাজারেই সীমাবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফটওয়্যার, অ্যাপ্লিকেশন, আইটি সেবা ও আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করছে বাংলাদেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলো। তবে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা, দক্ষ জনবল ও নতুন বাজারে ঢোকার চ্যালেঞ্জও রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফটওয়্যার রপ্তানি করছে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলো। কাস্টম সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং, ফিনটেক সল্যুশন ও মোবাইল অ্যাপ তৈরিতে বাড়ছে দেশীয় কোম্পানির উপস্থিতি।

কোডিক্সেলের এআই ইঞ্জিনিয়ার শাকিল আহমেদ রিয়াজ বলেন, ‘আমরা আমাদের নিজেদের সলিউশন আমরাই দিতে পারতেছি। যেরকম বিভিন্ন ইআরপি সিস্টেম, ব্যাংকিং সিস্টেম, এইচআরএম, বিভিন্ন ফিনটেক। এই ধরনের সার্ভিসগুলা আমাদের বাংলাদেশের সফটওয়্যার ইন্ডাস্ট্রিগুলা খুবই স্মুথলি হ্যান্ডেল করতে পারতেছে। সেই ক্ষেত্রে আমাদের দেশের ওপর একটা ডিপেন্ডেন্সি সেটা হচ্ছে স্মুথ। বাহিরের সাইডও আমরা হচ্ছে ওইখানেও ডিপেন্ডেন্সি থাকে। বাট আমার মনে হয় যে এখন দেশে দেশিয় সিস্টেমের প্রতি মানুষের ঝোঁকটা বেশি।’

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, তরুণ জনশক্তি ও তুলনামূলক কম খরচে সেবা দেয়ার সক্ষমতা দেশের অন্যতম শক্তি। তবে আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, দক্ষ কর্মী তৈরি এবং নতুন বাজার ধরতে দরকার আরও বিনিয়োগ।

আরও পড়ুন:

কোডিক্সেলের ডেভলপার সাব্বির আহমেদ বলেন, ‘আইটি স্কিলড লোক যারা আছেন, এরা যেভাবে প্রভাব বিস্তার করতেছে তো এখানে আমরা লটস অব ম্যাটেরিয়ালস আমরা পাচ্ছি, লটস অব রিসোর্স আমরা পাচ্ছি যেটা কিনা আমাদেরকে অনেকাংশেই এখন যে স্কিলড পিপলের যে একটা ল্যাকিংস যেটা ছিল এটা হচ্ছে কাভার আপ করে ফেলছে ডে বাই ডে। ক্লায়েন্টের থেকে ইনস্ট্যান্ট ট্রানজেকশন বা ইনস্ট্যান্ট পেমেন্টটা ক্লেইম করি তো এটা দেখা যাচ্ছে যে আমাদের বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে শুরু করে কোম্পানিতে সেটা ঢুকতে ঢুকতে অলমোস্ট টু অর থ্রি ডেস টাইম লাগতেছে তো এইটা যদি একটু রিজলভ করা যেত।’

তথ্যপ্রযুক্তি খাতের উদ্যোক্তারা মনে করছেন, সরকারি সহায়তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক বাজারে ব্র্যান্ডিং জোরদার করা গেলে আগামীতে সফটওয়্যার রপ্তানি আরও বাড়বে।

ড্রাগন ডিজিটালসের সিইও মো. মিজানুর রহমান বলেন, ‘সব থেকে বেশি কাজ করা হয় ইউএসএ মার্কেট এবং কানাডাতে। আর আমরা হচ্ছে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট এবং ডিজিটাল মার্কেটিং সার্ভিসটা দিচ্ছি। পেমেন্ট গেটওয়ের কারণে দেখা যাচ্ছে যে আমরা বড় বড় পেমেন্টের যে কাজগুলা, ওই কাজগুলা করতে গিয়ে একটু চিন্তা করা লাগে, ভাবা লাগে, অল্টারনেটিভ ওয়ে খোঁজা লাগে। সো এইটার যদি একটা পার্মানেন্ট সলিউশন হয় তাহলে দেখা যাচ্ছে যে আমাদের এই ইন্ডাস্ট্রিটা এখন যে পরিমাণ গ্রোথ আছে, যে পেইসে গ্রো করতেছে আই থিঙ্ক এটা হচ্ছে থ্রিএক্স, ফোরএক্স, ফাইভএক্স আরও গ্রো করবে।’

দেশিয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের জন্য বৈশ্বিক বাজারে সুযোগ যেমন বাড়ছে, তেমনি বাড়ছে প্রতিযোগিতাও। সেই প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে উদ্ভাবন, দক্ষতা ও আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিতের ওপর জোর দিচ্ছেন খাতসংশ্লিষ্টরা।

এফএস