ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা এই সিদ্ধান্তে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তিনি এই শুল্ক আরোপের পেছনে তার রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী জাইর বোলসোনারোর ছেলে সিনেটর ফ্লাভিও বোলসোনারোকে দায়ী করেছেন, যিনি গত সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফর করেছিলেন। লুলার মতে, আগামী অক্টোবরের নির্বাচনকে সামনে রেখে বোলসোনারো পরিবার বিদেশি শক্তিকে ব্রাজিলের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের সুযোগ করে দিচ্ছে।
লুলা মঙ্গলবার এক ভাষণে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকেও আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে তিন ঘণ্টা কথা বলেছি। কিন্তু ওই মার্কো রুবিও লোকটা লাতিন আমেরিকা বিরোধী। সে কিউবাসহ অনেক লাতিন দেশের ঘোর শত্রু। আমি ট্রাম্পকে আগেই বলেছি যে রুবিও ব্রাজিলকে পছন্দ করে না।’
যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধির (ইউএসটিআর) কার্যালয় জানিয়েছে, ব্রাজিলের দুর্বল দুর্নীতিবিরোধী ব্যবস্থা এবং অসম শুল্ক কাঠামোর কারণে এই তদন্ত শুরু করা হয়েছিল। যদিও ব্রাজিলের সঙ্গে বাণিজ্যে বছরের পর বছর ধরে যুক্তরাষ্ট্র উদ্বৃত্ত (সারপ্লাস) অবস্থানে রয়েছে। গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, ব্রাজিলের সঙ্গে পণ্য বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বৃত্ত ছিল প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলার। সেবা খাতের বাণিজ্যে এই ব্যবধান আরও বেশি।
আরও পড়ুন:
লুলা এই বাণিজ্য ঘাটতির তথ্য ট্রাম্পের হাতে তুলে দিয়েছিলেন উল্লেখ করে বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আমাদের থেকে পণ্য কিনতে না চাইলে আমরা অন্য কোথাও বিক্রি করব।’ বর্তমানে চীনই ব্রাজিলের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ও লুলার সম্পর্ক গত মে মাসে কিছুটা উন্নত হলেও অতিসম্প্রতি তা আবারও অবনতি হয়েছে। বিশেষ করে বোলসোনারোর সফরের পর ব্রাজিলের দুটি অপরাধী চক্রকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে তকমা দিয়েছে ওয়াশিংটন। ব্রাজিলের সরকারের দাবি, লুলার সঙ্গে ট্রাম্পের ব্যক্তিগত সুসম্পর্ককে ‘নির্বাচনী ও পারিবারিক স্বার্থে’ নস্যাৎ করার চেষ্টা করছেন বোলসোনারোরা। লুলা তাদের ‘দেশের গদ্দার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ১৯৭৪ সালের বাণিজ্য আইনের ‘সেকশন ৩০১’ ব্যবহার করে এই শুল্ক আরোপের পথে হাঁটছে। আগামী ৬ জুলাই এই প্রস্তাবের ওপর গণশুনানি অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষজ্ঞেরা বলছেন, যদি এই শুল্ক কার্যকর হয়, তবে ব্রাজিলও পাল্টা ব্যবস্থা নিতে পারে, যা দুই দেশের বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে বড় ফাটল ধরাবে।





